প্রধানমন্ত্রীর সভার আয়োজন ঘিরে ভোটের উত্তেজনার আবহেও রাজনৈতিক সৌজন্য দেখল জেলার সদর শহর সিউড়ি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভার জন্য পুরপ্রধান তথা সিউড়ির তৃণমূল প্রার্থীর উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণপত্র পাঠাল গেরুয়া শিবির। পাল্টা, বিজেপির চিঠির প্রেক্ষিতে মোদীর সভার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেছে পুরসভা বলে দাবি পুর-কর্তৃপক্ষের।
সব ঠিক থাকলে আজ, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টো নাগাদ সিউড়ির চাঁদমারি ময়দানে সভা করবে নরেন্দ্র মোদী। তার জন্য প্রস্তুত বিজেপি শিবির। দল সূত্রে জানা গিয়েছে, সিউড়ির পুলিশ লাইনের ভিতরের মাঠে প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার নামবে। সেখান থেকে তিনি চাঁদমারি মাঠে যাবেন। ওই মাঠে বিশাল মঞ্চ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসপিজি আধিকারিকেরা মাঠ এসে দেখে গিয়েছেন। তবে, এ দিন বিকেল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সভার জন্য হেলিকপ্টারের মহড়া হয়নি। সকালে একবার হেলিকপ্টার এসেছিল। তবে, তা নামতে পারেনি বলে বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, মোদীর সভায় প্রায় ১ লক্ষ মানুষের সমাগমের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। কর্মীদের আসার জন্য জেলাজুড়ে ৫০০-র বেশি বাস থাকবে। অন্যান্য যানবাহনের ব্যবস্থাও থাকবে। পাশাপাশি 'আইভিএন' কলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে ফোন যাচ্ছে এবং সভায় আসার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমরা সব রকমপ্রস্তুতি নিয়েছি। এই সভা ঐতিহাসিক হবে।’’ রাজ্য সহ সভাপতি তথা সিউড়ির প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘লক্ষাধিক মানুষ আসবেন। আমরাও শহরের মানুষকে আমন্ত্রণ জানাব।’’
এ দিন সকালে বিজেপির সিউড়ি শহর সভাপতি সুনয়ন ভাণ্ডারী প্রধানমন্ত্রীর সভার জন্য আমন্ত্রণপত্র নিয়ে পুরসভায় যান। পুরপ্রধান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় নিজে প্রার্থী হওয়ায় তিনি পুরসভায় ছিলেন না সেই সময়। তাঁর পরিবর্তে ১২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল পুর-প্রতিনিঝি অশোক চট্টরাজ আমন্ত্রণ পত্র গ্রহণ করেন। সুনয়ন বলেন, ‘‘প্রার্থী হিসাবে, দল হিসাবে আমরা তাঁর (পুরপ্রধান) বিরোধিতা করছি। কিন্তু, পুরসভার চেয়ারম্যানের পদের সম্মান আলাদা। আমরা চেয়ারম্যান হিসাবে তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়ে গেলাম।’’
পুরসভা জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সভা নিয়ে তাঁরাও সৌজন্যতা দেখিয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, মোদীর সভার জন্য প্রশাসনের তরফে মাঠ পরিষ্কারের জন্য বলা হয়েছে। সেই সব কাজ করে দেওয়া হয়েছে। বিজেপির দলীয় ভাবে জলের আবেদন করেছে। পুরসভা সেই ব্যবস্থাও করেছে। অশোক চট্টরাজের কটাক্ষ, ‘‘ওঁরা মনে করেছেন, আমন্ত্রণ পত্র দেওয়া দরকার, তাই দিয়েছেন। আগে কখনও দেখি নি। অমিত শাহ এসেছিল তখন তো দেখি নি। ভোট আসায় মনে হচ্ছে, বিজেপি একটু আবেগঘন হয়ে পড়ছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)