E-Paper

বাড়ি থেকে ভোটদানে আগ্রহ কম জেলায়

জেলায় ৮৫ ঊর্ধ্ব প্রবীণ ভোটারের সংখ্যা ৯,০১৬ জন। সেখানে বাড়িতে বসে ভোটদানে ইচ্ছুক হিসাবে আবেদন করেছেন ৩,৬৮০ জন।

দয়াল সেনগুপ্ত 

শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:২২
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

৮৫ ঊর্ধ্ব প্রবীণ ভোটার এবং এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন (প্রতিবন্ধকতা ৪০ শতাংশের উপরে) ভোটারদের জন্য শুক্রবার থেকে জেলায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটগ্রহণ শুরু হচ্ছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ভোটদান পর্ব চলবে ১৭-২০ এপ্রিল। তবে এ ভোটারদের মাত্র একটি অংশই বাড়িতে পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানে ইচ্ছুক। নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পরে যে সংখ্যক আবেদনপত্র (১২ডি) ফেরত এসেছে প্রশাসনের হাতে, তাতে তেমন ছবিই উঠে এসেছে।

প্রশাসন সূত্রে খবর, জেলায় ৮৫ ঊর্ধ্ব প্রবীণ ভোটারের সংখ্যা ৯,০১৬ জন। সেখানে বাড়িতে বসে ভোটদানে ইচ্ছুক হিসাবে আবেদন করেছেন ৩,৬৮০ জন। অন্য দিকে, জেলায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ভোটারের সংখ্যা ২৭,৩৮২ জন। ৪০ শতাংশের বেশি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এমন ২,০২৪ জনই বাড়িতে ভোটদানে ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। দুয়ে মিলে সংখ্যাটা ৫,৭০৪ জন।

২১-এর বিধানসভা নির্বাচন থেকে প্রবীণ ভোটার এবং বিশেষ ভাবে সক্ষম ভোটেরদের (যাঁদের প্রতিবন্ধকতা ৪০ শতাংশের বেশি এবং শংসাপত্র রয়েছে) কষ্ট লাঘবে বাড়ি গিয়ে ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। করোনা আবহে সেটা কার্যকরও হয়েছিল। জেলায় ভোট দিয়েছিলেন ১২ হাজার ৫০০ জন। ২০২৪-এর লোকসভায় সংখ্যাটা কমেছে। লোকসভায় বাড়িতে ভোট দিয়েছিলেন সাড়ে পাঁচ হাজার জন। এ বারও পাঁচ হাজারে থেকে কিছু বেশি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এ ধরনের ভোটারদের জন্য বিএলওরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে (১২ডি) আবেদনপত্র পৌঁছে দিয়েছিলেন। কিন্তু একটি বড় অংশ এ আবেদনে সাড়া দিতে রাজি হননি। বরং বুথ গিয়েই ভোটদানে আগ্রহ সংখ্যাধিক্যের।

অতিরিক্ত জেলাশাসক (পোলিং পার্সনেল, পোস্টাল ভোট) বাবুলাল মাহাতো জানান, এ বারও সাড়ে পাঁচ হাজারের সামান্য কিছু বেশি সংখ্যাক ভোটার বাড়িতে ভোট দানে আগ্রহী হয়েছেন। তাঁদের ভোট নেওয়ার জন্য ২৯৬টি পোলিং পার্টি থাকছে।

প্রসঙ্গত, সোমবার বাড়িতে গিয়ে ভোটগ্রহণের সময় কমিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিবারের লোকজনের বচসা চলাকালীন এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনাটি উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ বিধানসভা এলাকার মাড়াইকুড়া পঞ্চায়েতের ভিটি এলাকায়। জেলায় তেমন কোনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কি বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, যা কিছু হবে, সবই কমিশনের নির্দেশিত পথে।

প্রথম পর্যায়ে ২৩ এপ্রিল ভোট হবে বীরভূমে। নিয়ম অনুয়ায়ী, ‘পি মাইনাস ৩’ অর্থাৎ নির্বাচনের দিন থেকে তিন দিন আগেই ইচ্ছুক প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের বাড়ি গিয়ে ভোট পর্ব শেষ করার কথা। প্রশাসন জানাচ্ছে, ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় নেওয়া থাকলেও ভোট দান পর্ব দু’দিনের মধ্যেই সারা হয়ে যাবে।

প্রশ্ন উঠেছে, এত কম সংখ্যক প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম বাড়ি থেকে ভোটদানে ইচ্ছুক হলেন? আধিকারিকদের একাংশের ধারণা, ঢাকঢোল পিটিয়ে ভোট দিতে গিয়ে গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও প্রশাসন জানাচ্ছে, এমন আশঙ্কার কোনও কারণ নেই।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Birbhum

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy