E-Paper

হাতির হানা, বাড়েনি ক্ষতিপূরণের অঙ্ক

বন দফতর সূত্রে খবর, বড়জোড়ার জঙ্গলে এই মুহূর্তে তিনটি হাতি রয়েছে। তার মধ্যে একটি রাতে নজরদারি এড়িয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ০৮:১৫
হাতির হানায় ভাঙল দোকান। ফুলবেড়িয়া মোড়ে।

হাতির হানায় ভাঙল দোকান। ফুলবেড়িয়া মোড়ে। — নিজস্ব চিত্র।

মাঝ রাতে মুড়ি মিল, মুদি দোকানে হানা দিয়ে জিনিসপত্র লন্ডভন্ড করল হাতি। শনিবার রাতে ফুলবেড়িয়া মোড়ের কাছে ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয়েরা জানান, প্রথমে মহাদেব কুম্ভকার নামে এক ব্যক্তির মুড়ি মিলের দরজা ভেঙে চাল খায় হাতিটি। তার পরে মালতি মহন্ত নামে এক বাসিন্দার বাড়ির পাঁচিল ভেঙে স্বাধীন ঘোষের মুদি দোকানে হাজির হয়। দরজা ভেঙে সেখানেও চাল খেয়ে, ছড়িয়ে নষ্ট করে সে। পুলিশ ও বন দফতরের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাতিটিকে জঙ্গলে ফেরায়। ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তেরা।

বন দফতর সূত্রে খবর, বড়জোড়ার জঙ্গলে এই মুহূর্তে তিনটি হাতি রয়েছে। তার মধ্যে একটি ওই রাতে নজরদারি এড়িয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। বীজতলা তৈরির মরসুমে আচমকা হাতির হানা চাষিদের চিন্তাও বাড়িয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, বছরের অনেকটা সময় হাতির দল বড়জোড়ার জঙ্গলে থাকে। গত বছরও প্রায় ৭০টি হাতির একটি দল বড়জোড়ার জঙ্গলে তিন মাসের বেশি সময় ধরে ছিল। আশপাশে হাতি থাকলে চিন্তা থাকেই। মাঝেমধ্যেই মাঠে নেমে ফসলের ক্ষতি করে তারা। অথচ সেই অনুপাতে ক্ষতিপূরণ মেলে না। গত অন্তত ১৫ বছর ধরে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়েনি। চলতি অর্থবর্ষের রাজ্য বাজেটেও বিষয়টি নিয়ে উচ্চবাচ্য হয়নি।

দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, হাতির হানায় চাষের ক্ষতি হলে বিঘে পিছু সর্বোচ্চ ৬০ টাকা ও সম্পত্তির ক্ষতি হলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ মেলে।এক বাসিন্দার কথায়, “এই টাকা দেওয়া না দেওয়া একই ব্যাপার। আগের সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ বাড়ানোর দরবার করে কোনও সুরাহা হয়নি। নতুন সরকার কী করে দেখা যাক।”

আশ্বাস দিয়ে রাজ্যের সমবায়, বন ও পরিবেশ দফতরের প্রতিমন্ত্রী দিবাকর ঘরামি বলেন, “ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টি মন্ত্রিসভায় তুলব।”

অন্য দিকে, বাঁকুড়া উত্তর বন বিভাগেরও দাবি, গত কয়েক বছরে বেশির ভাগ হাতির হানায় দ্রুত পদক্ষেপ করে ক্ষয়ক্ষতি রুখতে সফল হয়েছেন বনকর্মীরা। ২০২৫-২০২৬ সালে বাঁকুড়া উত্তর বন বিভাগে হাতির হানায় কোনও মৃত্যু হয়নি। ২০২৪-২০২৫ সালে এক জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৩-২০২৪ সালে সংখ্যাটা ছিল তিন। চাষজমিতে হাতির হানা কমাতে ধারাবাহিক ভাবে নজরদারি চলে। বাসিন্দাদের চিন্তার কারণ নেই।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Elephants Forest department

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy