নিহত কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দুর মৃত্যুতে সিবিআই তদন্তের আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করার অনুমতি দিল হাই কোর্ট। শুক্রবার নিহতের স্ত্রী পূর্ণিমা কান্দুর তরফে তাঁর আইনজীবী কৌস্তুভ বাগচী বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার এজলাসে বিষয়টি তোলেন।
আগামী সোমবার শুনানির দিন ধার্য হয়েছে জানিয়ে কৌস্তুভ ও আর এক আইনজীবী দেবায়ন ঘোষ বলেন, “কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দুকে খুনে ঝালদা থানার আইসির বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। এসপিকে অভিযোগ জানানোর পরেও, পদক্ষেপ হয়নি। তাই সিবিআই বা কোনও নিরপেক্ষ সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানোর জন্য নিহতের স্ত্রী আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।”
গত ১৩ মার্চ বিকেলে হাঁটতে বেরিয়ে আততায়ীদের গুলিতে খুন হন তপন। অভিযোগ ওঠে তপনের দাদা নরেন কান্দু, তাঁর ভাইপো দীপক কান্দু (পুর-ভোটে তপনের বিপক্ষে দাঁড়ানো তৃণমূল প্রার্থী), ঝালদা থানার আইসি সঞ্জীব ঘোষ-সহ ছ’জনের বিরুদ্ধে। ঘটনার কয়েক দিন পরে, বিশেষ তদন্তকারী দল (‘সিট’) গঠন করে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। গ্রেফতার করা হয় দীপককে। তবে শুরু থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তা সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন নিহতের স্ত্রী পূর্ণিমা-সহ কংগ্রেস। বিভিন্ন সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির নেতৃত্বেরাও ঝালদায় দাঁড়িয়ে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সিবিআই তদন্ত চেয়ে অরাজনৈতিক মিছিল-সহ পোস্টারও পড়েছে ঝালদা শহরে।
হাই কোর্টের নির্দেশের পরে, পূর্ণিমা এ দিন বলেন, “প্রথম থেকে বলে আসছি, একমাত্র সিবিআইকে দিয়েই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব। খোদ পুলিশ যেখানে ঘটনায় জড়িত, সেখানে রাজ্য পুলিশ দিয়ে কী ভাবে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব! আদালতের উপরে পূর্ণ আস্থা আছে। আশা করি, সিবিআই দিয়ে তদন্ত করানোর নির্দেশ দেওয়া হবে।” কংগ্রেসের জেলা সভাপতি নেপাল মাহাতোর কথায়, “ঘটনার এত দিন পরেও কোনও কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। আদালত মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে।” এ দিনই রামপুরহাট-কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। সঙ্গে ঝালদা-কাণ্ডেও মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে, তা জানার পরে, ঝালদা শহরের ইতিউতি জটলায় দিনভর চলেছে আলোচনা।
বিজেপির জেলা সভাপতি বিবেক রঙ্গা বলেন, “খোদ ঝালদার আইসি ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার। রাজ্য পুলিশ দিয়ে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়, আমরাও শুরু থেকে বলে আসছি।” একমাত্র সিবিআই দিয়েই ঘটনার আসল তথ্য বেরনো সম্ভব বলে দাবি তাঁর। একই কথা জানিয়েছেন পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোও। সিপিএমের জেলা সম্পাদক প্রদীপ রায়ের প্রতিক্রিয়া, ‘‘এই নির্দেশ জেলার শান্তিপ্রিয় গণতান্ত্রিক মানুষের প্রাথমিক জয়। আদালতের তত্ত্বাবধানে সিবিআই তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।”
জেলা তৃণমূল সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়ার বক্তব্য, “মৃতের পরিবার সিবিআই তদন্তের দাবি জানাতেই পারেন। তবে ‘সিট’ ঘটনার তদন্ত করছে। আমরাও চাই, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।”