পরিবর্তন এল। তৃণমূলের দখলে থাকা বোলপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের দখল নিলেন নির্দলেরা। একটি আসন বাদে সব আসনে জিতলেন নির্দল প্রার্থীরা। পড়ে থাকা একটি আসনেও জয় পেলেন বিজেপি সমর্থিত প্রার্থী। শাসকদলের ঝুলিতে রইল শূন্য। যদিও তাদের মতে এটি অরাজনৈতিক ভোট।
বোলপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শুধুমাত্র কংগ্রেস সমর্থিত ছিলেন। বাকি সকল সদস্যই তৃণমূলের সমর্থক ছিলেন। এ বারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ২২০ জন। মোট ১৩টি আসনের জন্য গত মঙ্গলবার ভোট হয়েছে। ভোট দিয়েছেন ১৯৯ জন। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠানিক ভাবে ফল ঘোষণা করা হল। ১২টি আসনেই জয়ী হয়েছেন নির্দল প্রার্থীরা। অধিকাংশই নতুন মুখ। একটি পদে জয়ী হয়েছেন বিজেপি সমর্থিত আইনজীবী পার্থসারথি ভট্টাচার্য।
বোলপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের নতুন সভাপতি নির্বাচিত হন আইনজীবী গৌতম সরকারকে। সহ-সভাপতি হলেন আইনজীবী অনন্ত মিত্র। সম্পাদক হলেন আইনজীবী অপূর্ব চক্রবর্তী। সহ-সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন সাম্য ভট্টাচার্য ও রণদীপ গড়াই।
দীর্ঘদিন পরে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ নির্বাচন হল বলে দাবি করে বোলপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি দেবকুমার দত্ত। বলেন, “নতুন কমিটি বার ও আদালতের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তুলবে এই আশা করছি।” আর গৌতম বলেন, ‘‘আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। সম্পূর্ণ নিষ্ঠা সরকারে আমার দায়িত্ব পালন করবো।’’ একই কথা বলেন অন্য নির্দল প্রার্থীরাও।
এ নিয়ে বার বার চেষ্টা করেও পার্থসারথির সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি তথা বোলপুরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘বোলপুর বার অ্যাসোসিয়েশনে কোনও দিনই প্রত্যক্ষ ভাবে রাজনৈতিক দলের প্যানেল থাকে না। কিন্তু যাঁরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত তাঁরা যখন বারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তখন তাঁরা রাজনৈতিক পরিচয় পেয়ে যায়। যাঁরা এ বারের নির্বাচনে পরাস্ত হল তাঁরা পরোক্ষ ভাবে শাসক দল দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল। তা বলতে আপত্তি নেই যে শাসকদলের প্যানেল পরাস্ত হয়েছে।’’
যদিও তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, “এই নির্বাচন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। তবে কোনও দলের ব্যক্তিগত সমর্থক কেউ হতে পারেন।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)