Advertisement
E-Paper

মনোনয়নের মিছিলে যানজট

বেলা ১১টা নাগাদ পুরুলিয়া স্টেশন থেকে বামফ্রন্টের মিছিল শুরু হয়। পুরোভাগে ছিলেন প্রার্থী বীর সিংহ মাহাতো, বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা বাসুদেব আচারিয়া এবং সিপিএম, ফরওয়ার্ড ব্লক, সিপিআই ও আরএসপি-র নেতানেত্রীরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা 

শেষ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০১
আগুয়ান: জেলাশাসকের অফিসে মনোনয়ন জমা দিতে চলেছে (বাঁ দিকে) কংগ্রেস এবং (ডান দিকে) বামফ্রন্টের মিছিল। বুধবার। ছবি: সুজিত মাহাতো

আগুয়ান: জেলাশাসকের অফিসে মনোনয়ন জমা দিতে চলেছে (বাঁ দিকে) কংগ্রেস এবং (ডান দিকে) বামফ্রন্টের মিছিল। বুধবার। ছবি: সুজিত মাহাতো

বর্ণাঢ্য মিছিল করে বুধবার মনোনয়ন দাখিল করলেন পুরুলিয়া লোকসভা কেন্দ্রের ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী বীর সিংহ মাহাতো ও কংগ্রেসের প্রার্থী নেপাল মাহাতো। এ দিন সকাল থেকে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের মিছিলে যানজট হয়।

গত বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস এবং সিপিএম একসঙ্গে লড়েছিল। বাঘমুণ্ডি কেন্দ্রে প্রার্থী ছিলেন কংগ্রেসের নেপাল মাহাতো। সে বারে মনোনয়ন জমার সময়ে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ফব-র বীর সিংহ মাহাতো। এ বারে দু’জনেই পুরুলিয়া লোকসভা কেন্দ্র থেকে নিজের নিজের দলের প্রতীকে যুযুধান।

বেলা ১১টা নাগাদ পুরুলিয়া স্টেশন থেকে বামফ্রন্টের মিছিল শুরু হয়। পুরোভাগে ছিলেন প্রার্থী বীর সিংহ মাহাতো, বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা বাসুদেব আচারিয়া এবং সিপিএম, ফরওয়ার্ড ব্লক, সিপিআই ও আরএসপি-র নেতানেত্রীরা। সিপিএমের ছাত্র ও যুব সংগঠনের সদস্যেরাও পতাকা নিয়েই শামিল হয়েছিলেন। ছিল ঢোল-ধামসা। মুখে স্লোগান। রিক্সায় লাল পতাকার সঙ্গে সওয়ার ফরওয়ার্ড ব্লকের নির্বাচনী প্রতীক সিংহ। তবে মাটির তৈরি। সেটিই ছিল মিছিলের অন্যতম আকর্ষণ।

জেলা শাসকের অফিসে মনোনয়ন জমা দিতে বামফ্রন্টের প্রার্থীর সঙ্গে গিয়েছিলেন শরিক দলের চার জেলা সম্পাদক— সিপিএমের প্রদীপ রায়, আরএসপির অত্রি চৌধুরী, সিপিআইয়ের ভক্তিপদ মাজি ও ফরওয়ার্ড ব্লকের মিহির মাঝি। মনোনয়ন জমা দিয়ে পাঁচ বারের সাংসদ বীরসিংহ মাহাতো বলেছেন, ‘‘এ বার অন্য লড়াই। গরিব মানুষের স্বার্থ রক্ষায় বামপন্থীদের সংগ্রাম জারি রাখার স্বার্থেই এ বারে আমি ফের ভোটের ময়দানে।’’

ফব প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়ে বেরোনোর পরেই জেলাশাসকের অফিসে কংগ্রেসের মিছিল পৌঁছয়। হাতের প্রতীক আঁকা তেরঙা পতাকা আর তেরঙা ছাতা। স্লোগান তুলে মিছিল এগিয়েছে নর্থলেক রোডের পার্টি অফিস থেকে। কেউ বাচ্চা কাঁধে নাচতে নাচতে হেঁটেছেন, কেউ বা গান গাইতে গাইতে। কেউ এসেছেন অযোধ্যা পাহাড় থেকে। কেউ ঝালদার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে। ডাক্তার হাঁসদা, শ্রীধর মুর্মু, মধুসূদন বাস্কে, ধুনুরাম বেসরারা বলছিলেন, ‘‘আমরা ঢোল, মাদল, ধামসা নিয়ে এসেছি পাহাড় থেকে।’’

নেপাল মাহাতো বলেন, ‘‘ভোটের ‘টেম্পো’ বলে একটা কথা আছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন থেকে সেটাই শুরু হল। কর্মীরা নিজেরাই আসতে চেয়েছেন।’’ তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমি পুরুলিয়ার স্বার্থেই লড়াই করেছি। এ বারের ভোটও তার ব্যতিক্রম নয়।’’

দুই প্রার্থীর সঙ্গেই ছিলেন তাঁদের স্ত্রীরাও। বীরসিংহ মাহাতোর স্ত্রী পুষ্প মাহাতো ছিলেন মহিলাদের সঙ্গে নিয়ে। নেপাল মাহাতোর পাশে হেঁটেছেন তাঁর স্ত্রী রীতা মাহাতো। পরে পুষ্পদেবী মহিলাদের নিয়ে আলাদা মিছিল করেন। অফিসের ভিতরে তখন তাঁর স্বামী মনোনয়ন জমা দিচ্ছেন। পুষ্পদেবী বলেন, ‘‘সবাইকে নিয়েই মিছিলে শামিল হয়েছি। আমার বৌমারাও আছে।’’ নেপালবাবুর স্ত্রী রীতাদেবী বললেন, ‘‘এটা তো যুদ্ধের ময়দান। দলের অন্য কর্মীদের সঙ্গে আমিও স্বামীর সঙ্গে রয়েছি।’’ নেপালবাবুর সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছেলেও।

এ’দিন প্রার্থীদের থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন জেলাশাসক রাহুল মজুমদার।

Lok Sabha Election 2019 CPM Congress Nomination
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy