Advertisement
E-Paper

‘ছেলের খুনিদের শাস্তি দিন’, আর্জি মন্ত্রীকে

শিশুপালের বাড়িতে সমবেদনা জানাতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অভিযোগ করেন, ‘‘এখানে তৃণমূলের গুন্ডাগিরির সরকার চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের কোনও মানবিকতা নেই। এ ভাবে একটা তরতাজা ছেলেকে ওরা মেরে দিল!’’

প্রশান্ত পাল

শেষ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৯ ০১:৪৯
পাশে: মৃত দলীয় কর্মীর বাবাকে আশ্বাস মন্ত্রীর। নিজস্ব চিত্র

পাশে: মৃত দলীয় কর্মীর বাবাকে আশ্বাস মন্ত্রীর। নিজস্ব চিত্র

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজুর কাছে ছেলের মৃত্যুতে যুক্ত দোষীদের শাস্তি চাইলেন শিশুপাল সহিসের বাবা। আড়শার সেনাবনা গ্রামের বিজেপির যুব মোর্চার ওই সক্রিয় সদস্যের বৃহস্পতিবার সকালে গ্রাম থেকে কিছুটা দূরে গাছ থেকে ঝুলন্ত দেহ মেলে। তারপরেই পরিবার এবং বিজেপি নেতৃত্ব মৌখিক অভিযোগ করেন, শিশুপালকে ‘খুনের’ পিছনে রয়েছে তৃণমূল। যদিও তা উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে শনিবার পর্যন্ত ওই ঘটনায় শিশুপালের পরিবার পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেননি।

এ দিন দুপুরে শিশুপালের বাড়িতে সমবেদনা জানাতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অভিযোগ করেন, ‘‘এখানে তৃণমূলের গুন্ডাগিরির সরকার চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের কোনও মানবিকতা নেই। এ ভাবে একটা তরতাজা ছেলেকে ওরা মেরে দিল!’’ সামনের লোকসভা ভোটকে ইঙ্গিত করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দাবি করেন, ‘‘তৃণমূলের এই রাজ আর চলবে না। বাংলার মানুষ তৃণমূলকে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’’

অভিযোগ অস্বীকার করেন জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো। তাঁর পাল্টা দাবি, ‘‘পশ্চিমবঙ্গই এক মাত্র রাজ্য যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে, বিনাবাধায় ঘোরাফেরা করা যায়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এ দিন ওই গ্রামে গিয়ে সেটা নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন। তারপরেও রাজনীতি করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ করছেন।’’

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

গত বছর পঞ্চায়েত ভোটের পরে, বলরামপুর থানা এলাকায় বিজেপির দুই কর্মী— ত্রিলোচন মাহাতো ও দুলাল কুমারের ঝুলন্ত দেহ মেলে। সে বার ‘তৃণমূল-আশ্রিত’ দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ করেছিল বিজেপি। এ বারও শিশুপালের ঝুলন্ত দেহ দেখে বিজেপি নেতৃত্ব খুনের অভিযোগ তুলে সিবিআই তদন্ত দাবি করেছেন।

যদিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মুখে এ দিন সিবিআই-এর নাম শোনা যায়নি। তিনি দাবি করেন, ‘‘এখন নির্বাচনী আচরণ বিধি চলছে। এই মর্মে তাই কিছু বলা যাবে না। ভোটে জিতে আসি। তখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই খুনের তদন্ত নিয়ে যা করার করবে।’’

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর অপেক্ষায় বেলা থেকেই সেনাবনার অনেক আগে থেকে রাস্তায় ভিড় করেছিলেন মানুষজন। ছিল পুলিশের কড়া নিরাপত্তা। গ্রামের সঙ্কীর্ণ রাস্তায় ভিড়ের মধ্যে দিয়ে কিছুটা পথ হেঁটে মন্ত্রী শিশুপালের বাড়িতে পৌঁছন। উঠোনে তুলসিমঞ্চে রাখা শিশুপালের ছবিতে মালা দেন। শিশুপালের বাবা তথা শিরকবাদ পঞ্চায়েতের বিজেপি সদস্য যাদববাবুর মন্ত্রীর কাছে আর্জি জানান, ‘‘আমার ছেলেকে যাঁরা মারল তাঁদের শাস্তি দিতে হবে।’’ মন্ত্রী আশ্বাস দেন, ‘‘সমগ্র বিজেপি পরিবার আপনাদের
সঙ্গে রয়েছে।’’

শিশুপালের তিন ভাইপো দেবু, ধনঞ্জয় ও অভিজিৎ কাছা পরে ছিল। তাঁদের কাছে টানেন মন্ত্রী। মন্ত্রী যাওয়ার পরে জেলা বিজেপি সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, ‘‘তিনি আমাদের পরিবারটির পাশে থাকতে বলে গিয়েছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সমস্ত রিপোর্ট দেবেন বলে জানিয়েছেন।’’

শিশুপালের মা বিপুলাদেবীর চোখের সামনে বুধবারের সন্ধ্যাটা যেন ভাসছে। তিনি বলছিলেন, ‘‘ছেলেটা বুধবার দুপুরে বাড়িতে ভাতও খায়নি। বিকাল পাঁচটায় ফিরে একটুখানি শুয়েই বেরিয়ে গেল। আর ফিরল না। কারা যে ওকে তুলে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলল। কী দোষ করেছিল ছেলেটা?’’

উঠোনে খাটিয়ায় বসেছিলেন যাদববাবু। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা আগে সক্রিয় ভাবে কোনও দল করতাম না। বিজেপি আমাকে প্রার্থী করায় শিশুপাল খুব খেটেছিল। সেই ‘অপরাধেই’ ছেলেটাকে ওরা মেরে দিল।’’ থানায় অভিযোগ জানাননি কেন? যাদববাবু বলেন, ‘‘সবাই মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছি। শীঘ্রই দলের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযোগ জানাব।’’

Lok Sabha Election 2019 Crime Murderer Kiren Rijiju
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy