আখড়ায় আখড়ায় বাউল ফকিরের গান, সাধু-সন্তদের কোলাহল, দেদার কেনাকাটা, পুণ্যার্থীদের ভিড়ের মধ্য দিয়ে শেষ হল পাঁচ দিনের জয়দেব- কেঁদুলির মেলা। ঠান্ডাকে উপেক্ষা করে এ বছর মেলায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হওয়ায় বিক্রি ভাল হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
এ বার প্লাস্টিক মুক্ত ও নির্মল জয়দেব মেলা ঘোষণা করেছিল প্রশাসন। ফলে, মেলার দিনগুলিতে সরকারি পরিবেশবান্ধব সামগ্রীর স্টল ‘বসুন্ধরা’ থেকে বিক্রি হয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার মাটির ভাঁড়, শালপাতার থালা-বাটি ও কাপড়ের ব্যাগ। প্রশাসনের দাবি, অনেকটাই বন্ধ করা গিয়েছে প্লাস্টিকের অবাধ ব্যবহার। এই মেলা বাউল ফকিরদের গানের জন্য যেমন বিখ্যাত তো বটেই, তেমনই কলার জন্যও অনেকের কাছে বিখ্যাত। তাই মেলার শেষের দিনেও কলার চাহিদা ছিল তুঙ্গে।
মঙ্গলবার থেকে মেলা শুরু হয়ে চলেছে শনিবার রাত বারোটা পর্যন্ত। এ দিনও মেলা চত্বর ছিল জমজমাট। দেশ বিদেশ থেকে এসেছিলেন বাউল-ফকিরেরা। মেলা শুরুর দিন থেকে তিলধারণের জায়গা ছিল না। জেলা প্রশাসনের তরফে শনিবার রাতের মধ্যে মেলা শেষ করা এবং দোকান রবিবারের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার বার্তা দিয়ে বার বার মাইকিং করতে শোনা গিয়েছে। তবে, এত বড় আকারের মেলা সরাতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে বলে ব্যবসায়ীদের তরফে জানানো হয়েছে।
আসানসোল থেকে আসা ব্যবসায়ী রাজীব সাউ, বহরমপুরের সুনীল ঘোষ, কাঁকসার তমাল দাসেরা বলেন, “মেলার প্রথম দিন থেকে এ বছর লোক সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। পুণ্যস্নানের দিনও লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়েছি। সব মিলিয়ে বেচাকেনা ভাল হয়েছে।”
জেলা প্রশাসনের দাবি, এ বার মেলায় এক লক্ষের বেশি পরিবেশবান্ধব ব্যাগ প্রশাসনের তরফে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি পরিবেশবান্ধব সামগ্রীর স্টল ‘বসুন্ধরা’ খোলা হয়েছিল। সেখান থেকেও শালপাতার থালা-বাটি, মাটির ভাঁড় ও কাপড়ের ব্যাগ বিক্রি হয়েছে অনেক। ইলামবাজারের বিডিও অনির্বাণ মজুমদার বলেন, “যে লক্ষ্য নিয়ে আমরা জয়দেব মেলা করেছি, তাতে আমরা অনেকটাই সফল হয়েছি।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)