E-Paper

শিল্পের উন্নয়নে  বিশেষ প্যাকেজ দাবি মন্ত্রীদের কাছে

প্রস্তাবে এই বণিক সংগঠন পুরুলিয়াকে রাজ্যের পূর্বাঞ্চলের গেটওয়ে হিসেবে উল্লেখ করে কেন এই জেলা শিল্প সম্ভবনাময় তা উল্লেখ করেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ ১০:২৬
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। নতুন সরকারের উপরে প্রত্যাশা বেড়েছে পুরুলিয়া জেলার বণিক মহলের। সেই প্রেক্ষিতেই জেলার শিল্পের বিকাশে পুরুলিয়ার জন্য বিশেষ ‘ইন্টেনসিভ প্যাকেজ’-এর দাবি রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এবং পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কাছে জানাল পুরুলিয়ার চেম্বার অব কমার্স। সম্প্রতি দুর্গাপুরে বণিক মহলের সঙ্গে বৈঠকে সেই দাবি- সহ একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছে পুরুলিয়ার এই বণিক সংগঠন।

সেখানে ছড়রা এয়ারফিল্ডকে আঞ্চলিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলা, পুরুলিয়া শহরের বাইরে আধুনীক পাইকারী বাজার গড়ে তোলা, পুরুলিয়ায় সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে কৃষির উন্নতি, শিল্পক্ষেত্রে যুবকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার মতো বেশ কিছু দাবি জানানো হয়। চেম্বার অহ কমার্সের পুরুলিয়ার সম্পাদক রাজেশ সিংহানিয়া বলেন, ‘‘দুর্গাপুরের বৈঠকে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী এবং পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীকে আমরা পুরুলিয়ার উন্নয়নের প্রেক্ষিতে প্রস্তাবগুলি দিয়েছি। আশা করছি নতুন রাজ্য সরকার পুরুলিয়ার শিল্প ও কৃষির উন্নয়নে সচেষ্ট হবে।”

প্রস্তাবে এই বণিক সংগঠন পুরুলিয়াকে রাজ্যের পূর্বাঞ্চলের গেটওয়ে হিসেবে উল্লেখ করে কেন এই জেলা শিল্প সম্ভবনাময় তা উল্লেখ করেছে। সংগঠনের মতে, পুরুলিয়ায় কংসাবতী, দামোদর, সুবর্ণরেখা-সহ বেশ কয়েকটি নদী থাকায় শিল্পক্ষেত্রে জলের সংস্থান সহজেই সম্ভব। এ ছাড়া পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশায় কয়লা ও লৌহ আকরিকের খনি থেকে কাঁচামাল পাওয়ার সুবিধা রয়েছে। পুরুলিয়ায় দু’টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। সরকারি জমিরও অভাব নেই। সব মিলিয়ে পুরুলিয়ায় শিল্পের সম্ভবনা যথেষ্ঠ। সেই প্রেক্ষিতেই পুরুলিয়াকে শিল্প সমৃদ্ধ করতে আগ্রহী শিল্পসংস্থাগুলিকে মূলধন ভর্তুকি, সুদ ও বিদ্যুতের ভর্তুকির মতো বিষয়গুলি দিয়ে বিশেষ প্যাকেজ দেওয়া প্রয়োজন বলে বণিক মহল দাবি করেছে।

পুরুলিয়া শহরের বাইরে আধুনীক মানের, সুসংগঠিত পাইকারি বাজার (মার্কেট কমপ্লেক্স) গড়ে তোলার প্রস্তাবের বিষয়টি বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বণিক সংগঠনের সম্পাদক জানাচ্ছেন, বর্তমানে বিভিন্ন সংস্থার হোলসেল দোকানগুলি রয়েছে পুরুলিয়া শহরের মধ্যে।কিন্তু ঘিঞ্জি শহরের মধ্য পণ্যবাহী গাড়ি যাতায়াতে সমস্যা হওয়ায় সেই বাজারে আশাপ্রদ ব্যবসা হয় না। পরিবর্তে শহরের বাইরে সরকারি জায়গায় সেই মার্কেট কমপ্লেক্স গড়া হলে ক্রেতা-বিক্রেতারা নানা সুবিধা পাবেন। রাজেশের মতে, ‘‘পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ডে এই ধরনের মার্কেট কমপ্লেক্স থাকায় সে রাজ্যে হোলসেল বাজার বেশ চাঙ্গা। এমনকি পুরুলিয়ার নানা এলাকা থেকে ছোট ব্যবসায়ীরাও ঝাড়খণ্ডে গিয়ে কেনাকেটা করেন। আখেরে মার খাচ্ছে রাজ্যের রাজস্ব।’’

জেলার পর্যটনের বিকাশের ক্ষেত্রে নতুন সরকারকে বাজেটে বিশেষ ভাবে অর্থ বরাদ্দ করতে দাবি জানিয়েছে এই সংগঠন। কংসাবতী নদীতে চেক ড্যাম তৈরি করে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

রাজেশ বলেন, ‘‘জেলায় এক ফসলি চাষ হয়। তা-ও পুরোপুরি বৃষ্টি-নির্ভর। তাই সেচ ব্যবস্থার উন্নতি করা গেলে বছরে তিন বার ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। চাষের উ্ন্নতি হলে কৃষকদের হাতে বাড়তি অর্থ আসবে। যার ধারাবাহিকাতেই জেলার বাজারে কেনাকাটা বাড়বে।’’

রাজ্যের মন্ত্রী নদীয়ারচাঁদ বাউরি বলেন, ‘‘বণিক সংগঠন জেলার উন্নয়নের স্বার্থেই বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। আগের রাজ্য সরকারগুলি জেলায় শিল্প সম্ভবনা থাকলেও সে ভাবে পুরুলিয়ার প্রতি নজর দেয়নি। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সমস্ত ক্ষেত্রেই উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ করবে নতুন রাজ্য সরকার।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

purulia

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy