E-Paper

বার্ধক্য ভাতার ফর্ম বিলি শুরু, পর্যাপ্ত ছাউনিও

প্রশাসনের দাবি, বিভ্রান্তির মূল কারণ যাঁরা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে আসছেন, তাঁরাও শিবিরে লাইনে দিচ্ছেন। তাঁদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ ১০:২১
পুরুলিয়ার বোঙাবাড়িতে জনকল্যাণ শিবিরের লাইনে গরমে নাজেহাল উপভোক্তারা। ছবি: সুজিত মাহাতো

পুরুলিয়ার বোঙাবাড়িতে জনকল্যাণ শিবিরের লাইনে গরমে নাজেহাল উপভোক্তারা। ছবি: সুজিত মাহাতো

বার্ধক্যভাতা, বিধবাভাতা প্রভৃতি প্রকল্পের আবেদনপত্র বিলি না করায় জনকল্যাণ শিবিরের প্রথম দিনে অসন্তোষ জানিয়েছিলেন অনেকে। দ্বিতীয় দিন, মঙ্গলবার অবশ্য সেই সব আবেদনপত্র বিলি করার নির্দেশ দিল প্রশাসন। তবে এ দিনও নানা প্রকল্পের উপভোক্তারা বিভ্রান্ত হয়ে ফের আবেদন করতে ভিড় করেন। তার জেরে ভিড় এ দিনও সর্বত্র তুমুল ছিল। এ দিকে দীর্ঘদিন ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প বন্ধ থাকার পরে ফের চালু হওয়ায় অনেকেই নতুন করে জবকার্ডের জন্য আবেদন করতে এসেছেন শিবিরে।

পুরুলিয়ার জেলাশাসক কোন্তম সুধীর বলেন, ‘‘সমস্ত শিবির থেকেই বার্ধক্য ভাতার ফর্ম দেওয়া হচ্ছে। পানীয় জলের ও ছাউনির ব্যবস্থা করা হয়েছে শিবিরগুলোতে। মানুষজন যাতে কোনও সমস্যায় না পড়েন সেদিকে নজর রাখছেন ব্লক এবং জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা।’’

প্রশাসনের দাবি, বিভ্রান্তির মূল কারণ যাঁরা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে আসছেন, তাঁরাও শিবিরে লাইনে দিচ্ছেন। তাঁদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। কোনও সমস্যা থাকলে পঞ্চায়েত ও ব্লক অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করলেই সমাধান হবে। শিবিরে কোন কোন প্রকল্পের আবেদনপত্র দেওয়া হচ্ছে, তা মাইকে বার বার ঘোষণা করা হয় এ দিন। কোন কোন বিষয়ের জন্য লোকজনকে লাইনে দাঁড়াতে হবে না, তা-ও জানানো হয়। পুরুলিয়া ২ ব্লকের গোলামারা পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে সোমবার রাতে মাইকে প্রচার করা হয়, নতুন বার্ধক্য ভাতার জন্য জনকল্যাণ শিবিরে না গিয়ে সরাসরি পঞ্চায়েতের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। পাশাপাশি জানানো হয়, বর্তমানে চালু থাকা ভাতাগুলি বন্ধ হবে না। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের জন্যও পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা চালানো হবে।

বড়জোড়ায় এ দিন বার্ধক্য ভাতা ফর্ম তুলতে আসা মনু বাউরি বলেন, ‘‘বার্ধক্য ভাতা ফর্ম তুলেছি। একেবারে জমা দিয়েই বাড়ি ফিরব।’’ তবে বান্দোয়ানের বাসিন্দা প্রভাত মাহাতোর দাবি, ‘‘যুবসাথীর আবেদন করতে শিবিরে গিয়ে ফর্ম পাইনি। শিবির থেকে গাছের চারাই নিয়ে গেলাম বাড়িতে।’’ ইঁদপুর ব্লকের চাকলতোড়ের অমর বাউরি বলেন, ‘‘দিনমজুরির কাজ বন্ধ রেখে মেয়ের জাতিগত শংসাপত্রের আবেদনের জন্য শিবিরে এসেছিলাম। ফর্ম পেলাম না।’’ ইঁদপুরের ব্রজরাজপুরের রাধারাণী কালিন্দী, মৌলাডাঙার রূপা বাউরি জবকার্ডের জন্য আবেদন করতে এসেছিলেন। সকাল ৯টা থেকে ঘণ্টা তিনেক রোদের মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও আবেদনপত্র পাওয়া যায়নি বলে তাঁরা অভিযোগ করেন। তাঁদের মতে, ‘‘এত হয়রানির চেয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে ফর্ম দেওয়ার ব্যবস্থা করলে ভাল হত।’’

১ জুলাই থেকে বছরে ১০০ দিনের বদলে ১২৫ দিন কাজের প্রকল্প জি-রামজি প্রকল্প চালু হতে যাচ্ছে। কাজ পাওয়ার জন্য জবকার্ড পেতেও অনেকে লাইনে দাঁড়ান। বড়জোড়ার শিবিরে আসা লালচাঁদ
মণ্ডল বলেন, ‘‘আবার একশো দিনের কাজ শুরু হবে। তাই কাজ পাওয়ার জন্য জবকার্ডের ফর্ম তুলতে এসেছিলাম।’’ বিষ্ণুপুরের বাঁকাদহে শিবিরে আসা ভালুকা গ্রামের হায়দার আলি মণ্ডলও বলেন, ‘‘জবকার্ডের ফর্ম শেষ হয়ে গিয়েছে। আবার আসতে হবে।’’

শিবিরের প্রথম দিন পানীয় জল ও ছাউনির অভাব নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। দ্বিতীয় দিনে সেই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত শিবিরে পানীয় জল ও রোদ থেকে বাঁচার জন্য ছাউনির ব্যবস্থা করা হয়।

বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ‘‘আয়ুষ্মান ভারত, পিএম কিসান ও অন্নপূর্ণা যোজনায় সব চেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়ছে। শিবিরগুলি থেকে আধার ও মোবাইল লিঙ্ক করা হচ্ছে। সেখানেও ভাল ভিড় হচ্ছে। প্রথম দিনে
এক লক্ষের বেশি আবেদনপত্র বিলি হয়েছে। তার মধ্যে ৩০ শতাংশ আয়ুষ্মান ভারতের জন্য, ১২ শতাংশ অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য।’’ পুরুলিয়ায় দু’দিনে ৮০ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে বলে
জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

purulia

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy