সাতসকালে জঙ্গল লাগোয়া ঝিঙেচাষের জমিতে ছোটখাটো ঘোড়ার মতো প্রাণীটি দেখে অবাক হয়েছিলেন বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের কুলুপুকুর গ্রামের রবি হাঁসদা, বাবলু সরেন, ঈশ্বর সরেনরা। তাঁদের কাছ থেকে খবর পেয়ে বনকর্মীরা এসে দেখেন, প্রাণীটি নীলগাই। অনেক কসরত করে তাঁরা শেষ পর্যন্ত নীলগাইটিকে উদ্ধার করেন। কিন্তু বাঁকুড়ার জঙ্গলে নীলগাই এল কোথা থেকে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। ডিএফও (বিষ্ণুপুর পাঞ্চেত) সত্যজিৎ রায় বলেন, ‘‘পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ নীলগাইটি কী ভাবে আমাদের জঙ্গলে এল, ভেবে পাচ্ছি না। কোথা থেকে এল তা খোঁজ করা হচ্ছে।’’ তিনি জানান, প্রাথমিক চিকিৎসার পরে, বাঁকুড়ার জয়পুরের গভীর জঙ্গলে নীলগাইটিকে ছেড়ে কয়েক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ রাখা হয়। কিন্তু নীলগাইটি জঙ্গল ছেড়ে বেরিয়ে আসছিল। ডিএফও বলেন, ‘‘প্রাণীটির নিরাপত্তার কথা ভেবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নীলগাইটিকে আলিপুর চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়।’’
কুলুপুকুর গ্রামের বন সুরক্ষা কমিটির সভাপতি মঙ্গল হেমব্রম বলেন, ‘‘আমাদের এলাকায় হাতি, বুনো শুয়োর প্রভৃতি রয়েছে। কিন্তু এই প্রাণীটিকে আগে দেখিনি। প্রাণীটির নিরপত্তার কথা ভেবে বন দফতরে খবর দিই। তাঁরা না আসা পর্যন্ত বেশ কয়েকজন প্রাণীটিকে নজরে রাখি।’’
বনকর্মীদের নিয়ে নীলগাইটিকে উদ্ধার করতে গিয়েছিলেন বাঁকাদহের রেঞ্জ অফিসার অনন্ত দাস। তিনি বলেন, ‘‘স্থানীয় বন সুরক্ষা কমিটির সদস্যদের কাছে খবর পেয়ে আমরা তড়িঘড়ি সেখানে যাই। সঙ্গে এলিফ্যান্ট স্কোয়াডের সদস্যেরা ছিলেন। কিন্তু নীলগাইটি কিছুতেই ধরাছোঁয়ার মধ্যে আসতে চাইছিল না। ওকে ধরতে বেশ বেগ পেতে হয়।’’ এলিফ্যান্ট স্কোয়াডের সদস্য আইজুল খান, ইননাদ খানেরা বলেন, ‘‘হরিণের মতো ছুটছিল।বেশ কয়েকবার ওরা লাথিতে আমরা কুপোকাত হই। চোট লাগে আমাদের মাথায়, পায়ে। কিন্তু হাল ছাড়িনি। অবশেষে সুস্থ ভাবে ধরে ওকে জঙ্গলের অন্য হিংস্র প্রাণীদের থেকে বাঁচাতে পেরে ভাল লাগছে।’’