Advertisement
E-Paper

পরিষেবায় বাড়তি ট্রেন, তাতেই দেরি

পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার হরিন্দ্রা রাও বলেন, ‘‘সব ট্রেন দেরিতে চলে না। ১০০ টা ট্রেনের মধ্যে ৭০ টা ট্রেন সঠিক সময়েই চলাচল করে। ৩০ টি ট্রেন দেরীতে চলে।’’

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০১৯ ০৩:৪৯

পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজারের পরিদর্শনের দিনও নির্ধারিত সময়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলল ট্রেন। বর্ধমান সাহেবগঞ্জ লাইনে এই দেরিটাই অভ্যাস বলে যাত্রীদের দাবি। যদিও শনিবার রামপুরহাট স্টেশন পরিদর্শনের সময় যাত্রী আর সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ট্রেন দেরিতে চলার অভিযোগ অস্বীকার করে পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার হরিন্দ্রা রাও বলেন, ‘‘সব ট্রেন দেরিতে চলে না। ১০০ টা ট্রেনের মধ্যে ৭০ টা ট্রেন সঠিক সময়েই চলাচল করে। ৩০ টি ট্রেন দেরীতে চলে।’’

এ দিনই রামপুরহাট স্টেশনে আপ কলকাতা হলদিবাড়ি সুপার ফাস্ট এক্সপ্রেস ট্রেনকে এক ঘন্টা দেরিতে ঢুকতে দেখা যায়। বর্ধমান রামপুরহাট প্যাসেঞ্জার ১১ টা ৪০ মিনিটে আসার কথা থাকলেও প্রায় ৫০ মিনিট পরে সেটি স্টেশনে ঢোকে। আপ হাওড়া আজিমগঞ্জ এক্সপ্রেস ১০ টা ৬ মিনিটে রামপুরহাট স্টেশনে পৌঁছোনোর কথা থাকলেও প্রায় ৩৫ মিনিট দেরিতে পৌঁছোয়। শিয়ালদহ রামপুরহাট মা তারা এক্সপ্রেস রামপুরহাট স্টেশনে ১২ টা ১৫ মিনিটে আসার কথা ছিল কিন্তু এ দিন নির্ধারিত সময়ের থেকে ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট পরে সেটি পৌঁছোয়। যাত্রীদের অভিযোগ, রেলের শীর্ষ স্থানীয় কর্তার উপস্থিতিতেই যদি ট্রেন দেরিতে চলে তাহলে অন্যদিন কি হবে?

রামপুরহাট-সহ মল্লারপুর, সাঁইথিয়া, আমোদপুর, বোলপুরের যাত্রীদের অভিযোগ সুপার ফাস্ট, এক্সপ্রেস, লোকাল সব ট্রেন মূলত হাওড়া, শিয়ালদহ, কলকাতা স্টেশন থেকে নির্ধারিত সময়ে ছাড়লেও বর্ধমান ছাড়ার পরেই দেরিতে চলে। যাত্রী পরিষেবা নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ উদাসীন। যাত্রীদের অভিযোগের পাশাপাশি মল্লারপুর, রামপুরহাট, নলহাটি, মুরারই, তারাপীঠ থেকে ট্রেন যাত্রী সংগঠন, স্টেশনগুলোর ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিরা আর শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্টেশনগুলিতে বিভিন্ন ট্রেনের থামার আর্জি জানিয়েছেন। এই বিষয়টি রেলওয়ে বোর্ডের আওতাধীন বলে তাঁদের জানান তিনি। একই সঙ্গে বলেন, ‘‘রেল লাইনের ক্ষমতা অনুযায়ী ১১০ শতাংশ ট্রেন চলার কথা। কিন্তু তার থেকেও বেশি ট্রেন চালাতে হয় যাত্রী পরিষেবার কথা মাথায় রেখে। তারপরেও প্রতিটি স্টেশনে স্টপেজ চাইছেন। প্রতিটি স্টেশনে ট্রেন থামতে হবে। লাইনে মালগাড়িও চালাতে হয়। সেই কারণেই কিছু ট্রেন নির্ধারিত সময়ের থেকে পিছিয়ে থাকে।’’

এ দিন খানা জংশন স্টেশন থেকে ঝাড়খণ্ডের গুমানি স্টেশন পর্যন্ত পরিদর্শন করেন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার হরিন্দ্রা রাও। দুপুরে রামপুরহাট স্টেশনে পৌঁছেই স্টেশনে বাইরে টিকিট কাউন্টারের সামনে রেল যাত্রী ছাড়াও বহিরাগতদের জটলা দেখে স্টেশন চত্বরে বহিরাগতদের ভিড় এড়ানোর পরামর্শ দেন। রেলের একটি অফিসেরও উদ্বোধন করেন। রেল কর্মচারীদের আবাসনগুলির অবস্থাও সরেজমিনে দেখেন। রেল কলোনির মহিলারা পানীয় জলের অসুবিধা এবং একটি স্কুল ও হাসপাতালেরও দাবি জানান। রেল কর্মীদের বসবাসের জায়গা প্রাচীর দিয়ে ঘিরে দেওয়ার কথা বলেন তিনি। দাবিগুলি বিবেচনার আশ্বাস দেন। রেল হাসপাতালও ঘুরে দেখেন হরিন্দ্রা রাও। রামপুরহাট রেলগেট সংলগ্ন ফুট ওভার ব্রিজ তৈরির ক্ষেত্রে জেনারেল ম্যানেজার বলেন, ‘‘ফুট ওভার ব্রিজ বা রেল ওভার ব্রিজ তৈরির জায়গাটি সরু বলে অসুবিধা হচ্ছে। রাজ্য সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে।’’ একই সঙ্গে তাঁর দাবি, ‘‘রামপুরহাট স্টেশনে অনেক কিছুই নতুন হয়েছে। আরও উন্নতি হবে।’’

Train Late Inspection General Manager Eastern Railway
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy