Advertisement
E-Paper

আপৎকালীন পরিষেবার পাঠ মিলবে বিশ্বভারতীতে

পড়াশোনা তো আছেই, কর্মসংস্থানেরও অন্যতম ক্ষেত্র হতে চলেছে বিশ্বভারতী। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে কেন্দ্রীয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি হতে চলেছে ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট রেসপন্স ফোর্স’। চালু হচ্ছে বিভিন্ন ট্রেনিং। সেখান থেকে প্রশিক্ষণ নিলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরির সম্ভাবনা তৈরি হবে পড়ুয়াদের।

দেবস্মিতা চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৪ জুলাই ২০১৮ ০৭:১০
ফাইল চিত্র।

ফাইল চিত্র।

পড়াশোনা তো আছেই, কর্মসংস্থানেরও অন্যতম ক্ষেত্র হতে চলেছে বিশ্বভারতী। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে কেন্দ্রীয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি হতে চলেছে ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট রেসপন্স ফোর্স’। চালু হচ্ছে বিভিন্ন ট্রেনিং। সেখান থেকে প্রশিক্ষণ নিলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরির সম্ভাবনা তৈরি হবে পড়ুয়াদের। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে বিশ্বভারতী এবং ‘লাইফ সেভিং সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া’র মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বিশ্বভারতী সূত্রের খবর, কোর্সগুলি করার পরে সার্টিফিকেট আসবে কেন্দ্র থেকে। সেখানে বিশ্বভারতী, লাইফ সেভিং সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া এবং কেন্দ্রের সই থাকবে। কোর্সগুলি করার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় যেমন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনই এলাকার যে কোনও দুর্ঘটনায় প্রশিক্ষিতরা এগিয়ে যেতে পারবে বলেও বিশ্বাস বিশ্বভারতীর। শারীরশিক্ষা বিভাগের প্রধান সমীরণ মণ্ডল বলেন, ‘‘এই কোর্সগুলির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হল বিশ্বভারতী। বিশেষ করে সুইমিং পুলের ক্ষেত্রে খুব সুবিধা হল।’’ ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সবুজকলি সেনের কথায়, ‘‘লাইফ সেভিং কোর্স করে ছাত্রছাত্রীদের কর্মসংস্থান হবে, এটাই আনন্দের।’’

কেন্দ্রের ‘মিনিস্ট্রি অফ স্কিল ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারপ্রিটার্স’ এর অধীনে শুরু হয়েছে বিভিন্ন ‘স্কিল ইন্ডিয়া’ প্রোগ্রাম। এর মধ্যেই একটি হল ‘স্পোর্টস স্কিল ডেভলপমেন্ট’। এটির উপরে ভিত্তি করে বিভিন্ন কাউন্সিল ও এজেন্সি তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি ‘ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি’, যারা বিপদকালীন যেমন আগুন লেগে যাওয়া, ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদিতে কাজ করে তারা বানিয়েছে ‘ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স’। নেপালের ভূমিকম্পের সময়ে এই ফোর্স সক্রিয়তা দেখিয়েছিল। মাটি, জল, গভীর খাত, পর্বতে হওয়া যে কোনও বিপত্তিতে এই ফোর্স কাজ করে। এ রকম একটি ফোর্সের আদলেই ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট রেসপন্স ফোর্স’ তৈরি করতে চলেছে বিশ্বভারতী।

বিশ্বভারতী সূত্রের খবর, এমন বৃহৎ প্রকল্প একক ভাবে সম্পাদন করা সম্ভব নয় বলে কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন সংস্থা দ্বারা কাজগুলি পরিচালনা করা হয়। সে রকমই একটি সংস্থা হল ‘লাইফ সেভিং সোসা ইটি অফ ইন্ডিয়া’। এই সংস্থার সঙ্গেই সম্প্রতি মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে বিশ্বভারতীর। জানা গিয়েছে, সংস্থাটি পড়ুয়াদের বেশ কয়েক’টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে অভিজ্ঞ করে তুলবে।
সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সংস্থায় চাকরির সুযোগ পাবেন পড়ুয়ারা। ফিটনেস ট্রেনিং কোর্স ( ফিটনেস ট্রেনার হওয়া যাবে), স্পোর্টস কোর্স (বিভিন্ন খেলায় প্রশিক্ষক হওয়া যাবে), স্পোর্টস ম্যাসিওর কোর্স (খেলার পরে খেলোয়াড়ের শারীরিক দুর্বলতা কমানোর জন্য বিশেষ প্রশিক্ষক), ফার্স্ট এড ট্রেনিং (আগুনে পোড়া, সাপে কামড়ানোর বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা), সিপিআর (হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি কমানোর ডাক্তারি পদ্ধতি) শিখতে পারবেন বিশ্বভারতীর যে কোনও বিভাগের পড়ুয়ারা। তবে শর্ত একটাই, তাঁদের শারীরিক ও মানসিক ভাবে সুস্থ হতে হবে।

বিশ্বভারতীর যেহেতু নিজস্ব সুইমিং পুল রয়েছে, সেহেতু আরও একটি কোর্সের প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন পড়ুয়ারা। সেটি হল, ‘সুইমিং পুল লাইফসেভার ও লাইফগার্ড’ কোর্স। এই কোর্সটি করলেও বিভিন্ন স্কুল এবং কলেজে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে পড়ুয়াদের। এ বছর থেকেই শারীরশিক্ষা বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষ এবং বিপিএড-এর ক্ষেত্রে প্রথম বর্ষে ‘জলক্রীড়া’ বিষয়টি আবশ্যিক করা হয়েছে। সেখান থেকেও উপযুক্ত পড়ুয়াদের বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য মনোনীত করা হবে বলে বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে।

সুইমিং পুল ম্যানেজমেন্ট কমিটির কো-অর্ডিনেটর অশোককুমার গুণ এবং জনসংযোগ আধিকারিক ভ্রমর ভাণ্ডারি জানান, অনেক দিন ধরেই এই চেষ্টা চলছিল। এর ফলে বিশেষ করে ছাত্রীরা খুব উপকৃত হবে। পড়ুয়াদের কর্মসংস্থানও হবে। কয়েক দিনের মধ্যেই দিল্লি থেকে একটি পর্যবেক্ষক দলের সুইমিং পুল দেখতে আসার কথা রয়েছে।

Visva-Bharati University National Disaster Response Force NDRF Training Life Saving of society
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy