Advertisement
E-Paper

অভিমানে ছেলে কোলে টাওয়ারে চড়লেন বাবা

মনসাপুজোয় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন জামাই। কিন্তু পারিবারিক বিবাদের জেরে একদিন পরেই বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন তিনি। তিন বছরের ছেলেকে কোলে তুলে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে স্ত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন বাসস্ট্যান্ডে। কিন্তু স্ত্রী আসতে দেরি করায় শেষে রেগেমেগে ছেলেকে কোলে নিয়েই তিনি চড়ে বসলেন বিদ্যুৎবাহী হাইটেনশন টাওয়ারে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ অগস্ট ২০১৫ ০০:৩০
টাওয়ারের খাঁজে ছেলে কোলে বুদ্ধ (চিহ্নিত গোলের মধ্যে)।

টাওয়ারের খাঁজে ছেলে কোলে বুদ্ধ (চিহ্নিত গোলের মধ্যে)।

মনসাপুজোয় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন জামাই। কিন্তু পারিবারিক বিবাদের জেরে একদিন পরেই বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন তিনি। তিন বছরের ছেলেকে কোলে তুলে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে স্ত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন বাসস্ট্যান্ডে। কিন্তু স্ত্রী আসতে দেরি করায় শেষে রেগেমেগে ছেলেকে কোলে নিয়েই তিনি চড়ে বসলেন বিদ্যুৎবাহী হাইটেনশন টাওয়ারে।
সবাই জানতে পেয়ে টাওয়ারের নীচে জড়ো হয়ে অনুরোধ-উপরোধ শুরু করেন। ছুটে আসেন পুলিশ কর্মীরাও। শেষ পর্যন্ত ঘণ্টাখানেকের চেষ্টায় জামাইকে তাঁর ছেলে-সহ নামানো সম্ভব হয়। বুধবার দুপুরে পুরুলিয়ার সাঁওতালডিহি থানার পড়াডিহা গ্রামের ঘটনা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়া মফস্‌সল থানার গোপালডির বাসিন্দা পেশায় দিনমজুর বছর পঁচিশের বুদ্ধ সহিস মঙ্গলবার সকালে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে মনসাপুজোতে সাঁওতালডিহির ভোজুডি কোলওয়াশারি কলোনিতে শ্বশুরবাড়ি এসেছিলেন। এ দিন সকালের দিকে কোনও কারণে গোলমাল হওয়ায় দুপুরেই স্ত্রী, সন্তানকে নিয়ে গোপালডি ফিরে যেতে চেয়েছিলেন ওই যুবক। শ্বশুরবাড়ির লোকজন এ দিন তাঁদের থেকে যেতে বললেও তাতে কান দেননি বুদ্ধ। দুপুরের দিকে তিন বছরের ছেলেকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি। বাস ধরতে যান কোলওয়াশারির বাসস্ট্যান্ডে। কিন্তু প্রথম থেকেই স্ত্রীর এ দিনই গোপালডি গ্রামে ফিরতে মন চাইছিল না। তাই বাসস্ট্যান্ডে এসে পৌঁছানোর পরেও স্ত্রীর আসতে দেরি হওয়ায় চটে ওঠেন বুদ্ধ। শেষে পড়াডিহা ও নবগ্রামের মাঝের একটি বিদ্যুৎবাহী টাওয়ারের উপরে ছেলেকে নিয়ে উঠে পড়েন বুদ্ধ। সেখানে টাওয়ারের খুঁটির একটি খাঁজে ছেলেকে কোলে নিয়ে তিনি বসে পড়েন।

এ দিকে খবর যায় শ্বশুরবাড়িতে। তাঁরা পড়িমড়ি করে ছুটে আসেন জামাইকে নামাতে। কিন্তু তিনি নামতে চাইলে তো! বাবা-বাছা করেও তাঁদের ‘ফেল’ মারতে হয়। ততক্ষণে ছুটে এসেছেন ভোজুডি কোলওয়াশারি ফাঁড়ির পুলিশ কর্মীরাও। পাছে আনাড়ি হাতের ছোঁয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যায়, তাই পুলিশ কর্মীরা ওই লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার জন্য ফোনাফুনি শুরু করেন। কিন্তু টাওয়ারটি ডিভিসি-র হওয়ায় চেষ্টা করেও পুলিশ কর্মীরা ডিভিসি-র কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।

এ দিকে বুদ্ধ নামতে নারাজ। জোর খাটালে যদি তিনি তরতরিয়ে আরও উঠে যান, সেই ভয়ে পুলিশও জোর খাটাতে ভয় পাচ্ছিল। টাওয়ারের নীচ থেকে বুদ্ধর স্ত্রী তো বটেই তামাম শ্বশুরবাড়ির লোকজন জড়ো হয়ে গিয়েছিলেন। সকলের অনুরোধে ঘণ্টা দুয়েক পরে ছেলেকে নিয়ে নীচে নামেন তিনি। তবে পুলিশ তাকে নিয়ে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। বিকেলের দিকে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy