আবাসিকদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ শুরু হল আদ্রার মনিপুর গ্রামের অরুণোদয় শিশু নিকেতনে। শনিবার থেকে পুরুলিয়ার জনশিক্ষণ কেন্দ্র এই হোমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। চলবে আগামী এক মাস। প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন হোমের ২৭ জন আবাসিক ছাত্রী।
প্রশাসন সূত্রের খবর, হোমগুলির আবাসিকদের স্বনির্ভর করতে তাঁদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্টের জুভেনাইল জাস্টিস কমিটি। সে ব্যাপারে গত ১৬ অগস্ট পুরুলিয়ার জেলাশাসকের কার্যালয়ে একটি বৈঠক হয়। জেলাশাসক তন্ময় চক্রবর্তী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব রোহন সিংহ, তিন জন মহকুমা শাসক, জেলা সমাজকল্যাণ দফতরের আধিকারিক এবং জেলার দু’টি হোমের কর্তৃপক্ষ। ওই বৈঠকেই মনিপুরের হোমটির আবাসিকদের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। প্রশাসনের নির্দেশে এই প্রশিক্ষণের কাজ করছে জেলার জনশিক্ষণ কেন্দ্র।
অরুণোদয় শিশু নিকেতনে মূলত রয়েছে কুষ্ঠ রোগাক্রান্ত পরিবারগুলির ছেলেমেয়েরা। অনেকেরই আবার পরিবারের সন্ধান নেই। ফলে, হোম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরে তাদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মত হোমের সম্পাদক নবকুমার দাসের। তিনি জানান, হোমের ২৭টি মেয়ে, যাদের বয়স পনেরো থেকে আঠারোর মধ্যে, তাদের জ্যাম, জেলি, আচার তৈরি প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। জনশিক্ষণ কেন্দ্রর এক কর্মী ছাত্রীদের হাতেকলমে এই কাজ শেখাচ্ছেন। নবকুমারবাবুর কথায়, ‘‘আবাসিকেরা নির্দিষ্ট বয়সের পরে হোম থেকে বেরিয়ে যায়। সেই সময়ে তাদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সমস্যা তৈরি হয়। হোমে থাকাকালীন এই ধরনের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ পরবর্তী সময়ে তাদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করবে।’’ জনশিক্ষণ কেন্দ্রের জেলার সহকারী প্রকল্প সংযোজক শ্রীকান্ত গঁরাই জানান, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রশিক্ষণের পরের ধাপে আবাসিকদের সেলাই ও কম্পিউটারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বর্তমান প্রশিক্ষণ পর্বে আনাসিকদের তৈরি করা জ্যাম, জেলি, আচার জনশিক্ষণ কেন্দ্র কিনে নিয়ে তাদের বিক্রয়কেন্দ্র থেকে বিক্রি করবে। তবে, টানা এক মাস প্রশিক্ষণ চললে আবাসিক ছাত্রীদের স্কুলের পড়াশোনা ব্যাহত হতে পারে, তা মাথায় রেখে সপ্তাহে দু’দিন করে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা স্থির হয়েছে।