সভাধিপতির সঙ্গে বিরোধের জেরে জেলা পরিষদের আয়োজিত অযোধ্যা পাহাড় পর্যটন উৎসব বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিক্ষুদ্ধ কর্মাধ্যক্ষ ও সদস্যেদের একাংশ। আজ শুক্রবার থেকে পাহাড়ে ওই উৎসবের সূচনায় এমন ঘটনা ঘটলে দলকে অস্বস্তিতে পড়তে হবে আঁচ করে ‘মান ভাঙাতে’ উঠে পড়ে লেগেছেন দলের নেতারা।
জেলা পরিষদের সভাধিপতি সৃষ্টিধর মাহাতোর সঙ্গে কিছু কর্মাধ্যক্ষ ও সদস্যদের একাংশের মধ্য তৈরি হওয়া ফাটলটা ইদানীং আরও বেড়েছে। সম্প্রতি সৃষ্টিধরবাবুর বিরুদ্ধে অগণতান্ত্রিক ভাবে জেলা পরিষদ পরিচালনা করার অভিযোগ তুলে পুরুলিয়ায় দলের পর্যবেক্ষক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নালিশ করেন তাঁরা। সোমবার ছয় কর্মাধ্যক্ষ-সহ ১৬ জন সদস্য কালীঘাটে অভিষেকের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে পুরো পরিস্থিতি জানান।
তৃণমূল সূত্রে খবর, জেলা পরিষদের পূর্ত, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য, বনভূমি এবং প্রাণী সম্পদ ও মৎস্য বিভাগের ছয় কর্মাধ্যক্ষের উৎসবে না যাওয়ারই সম্ভবনা বেশি। তাঁদের সঙ্গে উৎসব বয়কট করছেন জেলা পরিষদের আরও জনা দশেক সদস্য। তবে দল সূত্রে এটাও জানা যাচ্ছে, পর্যটন উৎসব ঘিরে জেলা পরিষদে দলের অন্তর্দন্দ্ব যাতে প্রকাশ্যে না আসে তা ঢাকতে তৎপর হয়ে উঠেছেন জেলা শীর্ষ নেতৃত্ব। ওই সদস্যদের বুঝিয়ে উৎসবে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। এই নিয়ে অবশ্য উৎসবের আগের দিন বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাননি পুরুলিয়ায় জেলা তৃণমূল সভাপতি শান্তিরাম মাহাতো। এ দিন তিনি বলেন, ‘‘জেলা পরিষদের কিছু কর্মাধ্যক্ষ ও সদস্য পর্যটন উৎসব বয়কট করছে বলে আমি শুনিনি।’’
যদিও ওই সদস্যেরা অভিযোগ করেছেন, অন্যান্য কাজে যেমন সভাধিপতি তাঁদের অন্ধকারে রাখেন। তেমনই এই উৎসব নিয়েও সভাধিপতি তাঁদের সঙ্গে কোনও আলোচনা করেননি। তাই নিজেদের গুরুত্ব নেই ধরে তাঁরা ওই উৎসবে যাচ্ছেন না। যদিও সভাধিপতির দাবি, ‘‘উৎসবের প্রস্তুতি বৈঠকে সবাইকে ডাকা হয়েছিল। কেউ যদি না আসেন, তাহলে আমি কি করব?’’ তবে এই উৎসব কারও বয়কট করা কাঙ্খিত নয় বলে তিনি জানিয়েছেন।