Advertisement
E-Paper

প্রধানের বিরুদ্ধে নালিশ তৃণমূলেই

নতুনডির পরে এ বার বেড়ো পঞ্চায়েত। দলীয় প্রধানের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রশাসনিক স্তরে তদন্তের দাবি জানাল পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্যেরা। সম্প্রতি ওই পঞ্চায়েতের তৃণমূলের উপপ্রধান-সহ চার সদস্য প্রধান দুর্গা চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে পঞ্চায়েত পরিচালনায় দুর্নীতি ও বেনিয়মের অভিযোগ জানিয়েছেন রঘুনাথপুরের মহকুমাশাসকের কাছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০১৫ ০১:০১

নতুনডির পরে এ বার বেড়ো পঞ্চায়েত। দলীয় প্রধানের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রশাসনিক স্তরে তদন্তের দাবি জানাল পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্যেরা। সম্প্রতি ওই পঞ্চায়েতের তৃণমূলের উপপ্রধান-সহ চার সদস্য প্রধান দুর্গা চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে পঞ্চায়েত পরিচালনায় দুর্নীতি ও বেনিয়মের অভিযোগ জানিয়েছেন রঘুনাথপুরের মহকুমাশাসকের কাছে। প্রসঙ্গত কয়েকদিন আগে নতুনডি পঞ্চায়েতে তৃণমূলেরই প্রধানের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে ইন্দিরা আবাস যোজনায় বেনিয়মের অভিযোগ জানিয়েছিলেন পঞ্চায়েতে দলের সদস্যেরা। নতুনডির প্রধানকে শো-কজ করেন বিডিও। আর বেড়োর ক্ষেত্রেও তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন মহকুমাশাসক (রঘুনাথপুর) সুরেন্দ্রকুমার মিনা।

তৃণমূল সূত্রে খবর, বেড়ো পঞ্চায়েতে অভিযোগের পিছনে রয়েছে দলের স্থানীয় নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব। এই পঞ্চায়েতে মাস দুয়েক আগে তৃণমূলের তৎকালীন প্রধান চম্পা বাউরির বিরুদ্ধে অনাস্থা এসেছিল। তৃণমূলের দুই সদস্যের সঙ্গে অনাস্থা আনেন সিপিএমের চার সদস্য। অনাস্থায় অপসারিত হন চম্পাদেবী। নতুন প্রধান হন তৃণমূলেরই অন্য গোষ্ঠীর দুর্গা চক্রবর্তী। নতুনডির প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর পাল্টা হিসেবেই বেড়োতে অন্য গোষ্ঠী অভিযোগ নিয়ে এসেছে বলে দলের একটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত নতুনডি পঞ্চায়েতের প্রধান রঘুনাথপুর ১ ব্লক এলাকায় তৃণমূলের অন্যতম নেতা প্রদীপ মাজির অনুগামী হিসাবেই পরিচিত। ওই প্রধানের বিরুদ্ধে যাঁরা অভিযোগ করেছেন, তাঁরা আবার প্রদীপবাবুর বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর বলে এলাকায় পরিচিত। দলের একটি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, নতুনডিতে প্রধানকে শো-কজ করায় কিছুটা ‘ব্যাক ফুটে’ গিয়েছেন প্রদীপবাবু। তাই পাল্টা হিসাবে বেড়োতে বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর অনুগামী প্রধানের বিরুদ্ধে প্রদীপবাবুর সমর্থনে থাকা সদস্যেরা নতুন এই অভিযোগ তুলেছেন।

প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগে প্রাক্তন প্রধান চম্পা বাউরি, উপপ্রধান ফেলুরাম কৈবর্ত্য-সহ চার তৃণমূল সদস্য দাবি করেছেন, নিম্নমানের কাজ হওয়া স্বত্ত্বেও প্রধান দুর্গা চক্রবর্তী সেই কাজের টাকা মিটিয়ে দিয়েছেন। মূলত চারটি ঘটনার ভিত্তিতে দলীয় প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন তৃণমূলের এই সদস্যেরা। চম্পাদেবীর দাবি, প্রধান থাকার সময়ে যে কাজগুলি নিম্নমানের হয়েছে বলে টাকা আটকে রেখেছিলেন, প্রধানের পদে বসে সেই কাজগুলির টাকা তিনি মিটিয়ে দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, “রায়ডি সংসদ এলাকায় ১০০ দিনের প্রকল্পে জমি ভরাটের কাজ হয়েছিল। কিন্তু দেখা যায়, যতটা কাজ হওয়ার কথা ছিল, বাস্তবে তা আদৌও হয়নি। কাজের মাপ করে শ্রমিকদের মজুরি দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়। পঞ্চায়েতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আগে সঠিক মানের কাজ হবে। তারপরে টাকা দেওয়া হবে। কিন্তু বর্তমান প্রধান পদে বসার পরেই ওই কাজের টাকা মিটিয়ে দিয়েছেন।”

এ ছাড়াও ওই চার সদস্যের অভিযোগ, “বংশগ্রাম সংসদ এলাকার রক্ষিত পুকুরে ১০০ দিনের প্রকল্পে আগে পুকুর সংস্কারের কাজে বিস্তর গরমিল ছিল। সুপারভাইজার শ্রমিকদের কাজ না দিয়ে নিয়ম ভেঙে যন্ত্র দিয়ে মাটি কেটেছিলেন। ওই কাজের টাকাও তাই আটকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারও টাকা নতুন প্রধান মিটিয়ে দিয়েছেন।” এ ছাড়া গ্রামবাসীর অভিযোগে রায়ডি সংসদের চৌবের বাঁধে স্নানের ঘাট তৈরির বিল আটকে দেওয়া হয়েছিল। তার টাকাও ঠিকাদারকে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। একই ভাবে রায়ডি সংসদে ১০০ দিনের কাজে উদ্যান পালন প্রকল্পে চারাগাছ লাগানো না হলেও সেই কাজে বরাদ্দ অর্থের কিছুটা দিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওই চার তৃণমূল সদস্যের।

তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন বলে পাল্টা দাবি করেছেন প্রধান দুর্গাদেবী, তাঁর দাবি, “চম্পাদেবী প্রধান থাকার সময়েই ওই কাজগুলি হয়েছে। দায়িত্ব পাওয়ার পরে প্রশাসনের সম্মতি পেয়েই টাকা মিটিয়েছি। অনাস্থায় হেরে কিছু ভিত্তিহীন অভিযোগ করে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করছেন চম্পাদেবীরা।”

no confidence motion tmc bodo panchyat
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy