সরকারি আধিকারিক বা ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই শুধু নন, এ বার থেকে গ্রামের সাধারণ মানুষও এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনায় অংশ নিতে পারবেন। শুধু তাই নয়, এলাকার কোনও বাসিন্দা যদি গ্রামের বাইরে থাকেন, তাঁরাও সামিল হতে পারবেন পঞ্চায়েত সমিতির উন্নয়ন পরিকল্পনায়। এলাকার উন্নয়ন ভাবনায় সাধারণ মানুষকে শরিক করার এই পরিকল্পনা নিয়েছে পুরুলিয়ার কাশীপুর পঞ্চায়েত সমিতি।
মঙ্গলবার, পঞ্চায়েত সমিতির প্রথম বর্ষপূর্তির দিনে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। পরিকল্পনার পোশাকি নাম, ‘মোদের গ্রাম, মোদের ভাবনা’। কী ভাবে ও কারা অংশ নেবেন এই পরিকল্পনায়? এ দিন সাধারণ সভায় এই পঞ্চায়েত সমিতির অন্তর্গত ১৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান, সাধারণ পঞ্চায়েত সদস্য, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য, কর্মাধ্যক্ষ এবং বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে সমিতির সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া জানিয়েছেন, কাশীপুরের যে কোনও গ্রামের মানুষ এই পরিকল্পনার শরিক হয়ে তাঁর মতামত লিখে জানাতে পারেন। কোন গ্রামে কোন কাজ হলে ভাল হয়, সেই কাজটা হলে কত মানুষ বা কতগুলি গ্রাম উপকৃত হবে এবং পাশাপাশি কেন সেই কাজটি দ্রুত করা দরকার, তা-ও লিখে জানাতে পারেন যে কোনও বাসিন্দা।
পঞ্চায়েত সমিতি মনে করছে, সাধারণ মানুষকে যদি কোনও পরিকল্পনায় সামিল করা যায়, সেই প্রকল্প সাফল্যের মুখ দেখবেই। সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষজনের মধ্যে এই ভাবনা কাজ করবে যে, এই প্রকল্প গড়ে উঠছে একান্তই তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে। সৌমেনবাবুর কথায়, “কাশীপুর রাজ্যের বড় ব্লকগুলির অন্যতম। পঞ্চায়েত সমিতি এলাকার সর্বত্র আমাদের নজর সমান ভাবে পৌঁছবে, তা নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ তাঁদের নিজের গ্রামের উন্নয়ন নিয়ে কোনও প্রস্তাব দিলে বিষয়টি সদর্থক হবে। এই আশা নিয়েই আমরা এই পরিকল্পনার নাম রেখেছি মোদের গ্রাম মোদের ভাবনা। বিষয়টি এ দিন সকলকে জানানোও হয়েছে।”
কাশীপুরের বিডিও তপনকুমার ঘোষাল জানিয়েছেন, পঞ্চায়েত সমিতি অফিসে একটি বাক্স থাকবে। সেই বাক্সেই পরিকল্পনার কথা খামবন্দি অবস্থায় গ্রামবাসীরা রেখে যেতে পারবেন। স্থানীয় বিধায়ক স্বপন বেলথরিয়া বলেন, “পঞ্চায়েত সমিতি স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে চাইছে। সেই লক্ষ্যেই এই প্রকল্প।”