Advertisement
E-Paper

বিষে মৃত্যু ছেলের

পারিবারিক অশান্তির জেরে বছর দেড়েকের শিশু পুত্রকে বিষ খাইয়ে নিজেও বিষ খাওয়ার অভিযোগ উঠল মায়ের বিরুদ্ধে। বুধবার সন্ধ্যায়, মহম্মদবাজারের লোহাবাজার এলাকার ঘটনা।আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে সিঊড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তির কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশু পুত্রটি মারা যায়। মৃত শিশুর নাম দেবরাজ গড়াই। তার মা শ্যামলীদেবী এখনও মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০১৫ ০১:০৪

পারিবারিক অশান্তির জেরে বছর দেড়েকের শিশু পুত্রকে বিষ খাইয়ে নিজেও বিষ খাওয়ার অভিযোগ উঠল মায়ের বিরুদ্ধে। বুধবার সন্ধ্যায়, মহম্মদবাজারের লোহাবাজার এলাকার ঘটনা।আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে সিঊড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তির কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশু পুত্রটি মারা যায়। মৃত শিশুর নাম দেবরাজ গড়াই। তার মা শ্যামলীদেবী এখনও মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। শ্যামলীদেবীর বাবা বেনুকর গড়াইয়ের দাবি, শ্বশুর বাড়ির অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে নিজের সন্তানকে মেরে মেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। অত্যাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্যামলীদেবীর স্বামী গিরিধারী গড়াই।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহম্মদবাজারের লোহাবাজারের বাসিন্দা গিরিধারীর সঙ্গে বছর চারেক আগে বিয়ে হয় ওই থানা এলাকারই কুলকুড়ি গ্রামের শ্যামলীদেবীর। বিয়ের পর থেকেই মেয়েকে নানা ভাবে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার করত শ্বশুর বাড়ির লোকজন, এমনটাই দাবি বেনুকরবাবুর। তিনি জানান, তাঁর দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে শ্যামলীই বড়। আর এক মেয়ে প্রতিবন্ধী। ছেলে সব চেয়ে ছোট। তাই সাধ্যমতো ধুমধাম করে বিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু মেয়ে কোনওদিন শান্তি পায়নি। বিয়ের পই থেকেই শ্বশুর গদাই গড়াই, শাশুড়ি অর্পিতাদেবী ও জামাই গিরিধারী তাঁর মেয়েকে শান্তি দেয়নি বলে অভিযোগ। তাঁর অভিযোগ, ‘‘ওঁদের দাবি মতো সব কিছু দেওয়া সত্ত্বেও মাঝে মধ্যেই মেয়েকে টাকার জন্য চাপ দিত। মেয়ের মুখ চেয়ে ও তাঁর সুখের জন্য তাও দিতাম। কিন্তু তার পরও মেয়েকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করত শ্বশুর বাড়ির সকলে।’’ তাঁর দাবি, দিন দিন সেই অত্যাচারের মাত্রা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল, যে শেষ পর্যন্ত নিজের সন্তানকে মেরে নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। ফুটফুটে নাতিটা মারা গেল। শেষ পর্যন্ত মেয়েটার কী হয় কে জানে।’’

শ্যামলীদেবীর মা ভারতীদেবী সিউড়ি হাসপাতালে মেয়ের পাশে বসে বলেন, ‘‘স্বামী, শাশুড়ি ও বিশেষ করে শ্বশুরের অত্যাচারে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয় মেয়ে। নাতিকে বিষ খাইয়ে নিজেও বিষ খেয়েছে।’’ শ্যামলীদেবীর স্বামী গিরিধারীবাবুর দাবি, ‘‘আমাদের সংসারে তেমন কোন অশান্তি ছিল না বললেই চলে। বাড়িতে বাবা, মা, স্ত্রী ও পুত্র ছাড়া আর কেউ নেই। অশান্তি বলতে সব পরিবারে যেমন কথা কাটাকাটি হয়, সেটুকুই ছিল।’’ তিনি বাজারে একটা মোবাইল সারানোর দোকান চালান। তাঁর দাবি, বুধবার সকালে তিনি দোকানের কাজে সাঁইথিয়া হয়ে সিউড়ি যান। দুপুর দেড়টা নাগাদ বাড়ি ফিরে খাওয়া দাওয়া করে দোকান চলে যান। তাঁর কথায়, ‘‘খবর পাই আমার স্ত্রী ছেলেকে বিষ খাইয়ে নিজেও বিষ খেয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে বন্ধু বান্ধব ও স্থানীয় লোকজনদের নিয়ে সিউড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করি।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy