এক শিক্ষককে বদলি করে দেওয়ায়, ক্লাস বয়কট করে প্রতিবাদে সামিল হলেন সিউড়ির সরকারি পলিটেকনিক কলেজের পড়ুয়ারা।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার। বিক্ষোভে সামিল সিউড়ির সরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠান, শ্রীরামকষ্ণ শিল্পবিদ্যাপীঠের পড়ুয়াদের দাবি, ওই শিক্ষকের বদলি নির্দেশ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালাবেন।
সিউড়ির ওই কলেজ ও পড়ুয়াদের কাছে থেকে জানা গিয়েছে, ইলেক্ট্রিক্যাল বিভাগের লেকচারার তিতাংশু ভট্টাচার্যকে পুরুলিয়ার বান্দোয়ানে বদলি করে দেওয়া হয়েছে। কেন এত ভাল একজন শিক্ষককে বদলি করে দেওয়া হল সেই প্রশ্ন তুলেই বিক্ষোভ। তবে বিক্ষোভে শুধু মাত্র ইলেক্ট্রিক্যালের পড়ুয়ারই নন, অংশগ্রহণ করেছেন সিভিল ও মেকানিক্যালের পড়ুয়ারও।
ইলেক্ট্রিক্যালের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সুলেট শেখ, অসীম হালদার, মুস্তাক আলি, সঙ্গীত তন্তুবাই, তনুশ্রী বিশ্বাসরা বলেন, ‘‘কী পুজোর ছুটি, কী গ্রীষ্মের ছুটির দিন। রবিবারেও স্যার আমাদের কথা ভেবে ক্লাস নেন। ওনার জন্য আমাদের টিউশন নিতে হয়নি। ফাইনাল সেমেস্টার ডিসেম্বরে। তার আগে এভাবে স্যার চলে গেলে আমরা অথৈ জলে পড়ব। একই দাবি দ্বিতীয় ও প্রথম বর্ষের পড়ুয়াদেরও। তাঁদের দাবি, ‘‘এমন কোনও ছাত্র-ছাত্রী নেই যাকে নামে চেনেন না স্যার।’’
যাঁরা সরাসরি তিতাংশুবাবুর ছাত্র নন, অথচ আন্দোলনে সামিল, সিভিলের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী অঙ্কিতা ভট্টাচার্য, প্রথম বর্ষের মনোজিৎ সাহারা বলন, ‘‘অত্যন্ত জনপ্রিয় শিক্ষক উনি। আমাদের কোথাও সমস্যা হলে ওঁর সাহায্য পেয়ে থাকি।’’ পড়ুয়াদের ক্ষোভ, যেহেতু ওই শিক্ষক পড়ুয়াদের প্রতি বেশি যত্নবান, তাই ওঁর ব্যাপারে ঈর্ষান্বিত অন্য শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীরা। উনি কেন ছুটির দিনে ক্লাস নিচ্ছেন, এই নিয়ে তিতাংশুবাবুর বিরুদ্ধে ডাইরেক্টর লেভেলে অভিযোগ গিয়েছে। এই বদলির পিছনেও তেমন কোনও অভিসন্ধি কাজ করছে।’’
কলেজের অধ্যক্ষ মণিন্দ্রনাথ পাত্র বলেন, ‘‘রাজ্য সরকারের কারিগরি শিক্ষা দফতরের এটা রুটিন সিদ্ধান্ত। যে শিক্ষকেরা একটি কলেজে বহুবছর ধরে পড়াচ্ছেন তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের রাজ্য জুড়ে বদলির নির্দেশ এসেছে। পড়ুয়ারা বিষয়টি বুঝবে আশা করি, তা নাহলে তাঁদের ক্ষতি হবে।’’
কলেজ সূত্রে জানা দিয়েছে জলপাইগুড়ি থেকে বি-টেক ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম –টেক করার পর গত ১৬ বছর আগে সিউড়ির ওই সরকারি পলিটেকলিকে শিক্ষক পদে যোগ দেন তিতাংশু ভট্টাচার্য। এ দিন তাঁর বদলির নির্দেশ বাতিল করার দাবিতে পড়ুয়াদে অবস্থানকে কীভাবে দেখছেন তিনি? তাঁর বদলির পিছনে তাঁর সহকর্মীদের কোনও উদ্যোগ ছিল কী?
তিতাংশুবাবু বলেন, ‘‘কেউ কোনও ইন্ধন দিয়েছেন কিনা তা নিয়ে কোনও মন্তব্য নয়। আমি সরকারি কর্মী। এটা সরকারি নির্দেশ। আমাকে তা মানতে হবে। এটুকু বলব, শারীরিকভাবে আমি বর্তমানে সুস্থ নই। আর ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের ভাবাবেগ থেকে এটা করেছে। আমি চাইব পড়াশোনার ক্ষতি না করে দ্রুত তারা ক্লাসে ফিরুক।’’