সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে, নাবালক সন্তানকে নিয়ে স্বদেশে ফিরেছেন বীরভূমের আসন্নপ্রসবা পরিযায়ী শ্রমিক সুনালী খাতুন। কিন্তু বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভাড়াবাড়িতে কার্যত গৃহবন্দি অবস্থায় কাটানো বীরভূমের আর এক পরিযায়ী শ্রমিক সুইটি বিবি জানেন না, দেশে কবে ফিরতে পারবেন। সুনালীর স্বামী দানিশও একই চিন্তায় রয়েছেন বাংলাদেশে। চিন্তা বাড়িয়েছে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপড়েন।
অন্য এক জনের ফোন থেকে সুইটি বলেন, ‘‘এখানে আর অপেক্ষা করতে পারছি না। কবে দেশে ফিরতে পারব, এই অপেক্ষায় থেকে শরীর-মন ক্লান্ত। সবচেয়ে কষ্ট হচ্ছে দুই সন্তানের জন্য।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘দেশের সুপ্রিম কোর্টে শুনানি আছে ৬ জানুয়ারি। দেখি, কী খবর আসে!’’
বাংলাদেশি ‘অনুপ্রবেশকারী’ সন্দেহে গত জুনে দিল্লিতে কর্মরত সুনালী খাতুন, তাঁর নাবালক সন্তান, স্বামী দানিশের পাশাপাশি দুই পুত্র-সহ সুইটিকে গত জুনে অসম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করা হয় বলে অভিযোগ। সে দেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ অনুপ্রবেশকারী হিসাবে ছ’জনকে গ্রেফতার করে। টানা ১০০ দিন জেলে কাটিয়ে গত মাসের শুরুতে বাংলাদেশ আদালত থেকে জামিন পান তাঁরা।
বিস্তর আইনি লড়াই এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের মুখে ‘মানবিকতার খাতিরে’ গত ৫ ডিসেম্বর অন্তঃসত্ত্বা সুনালী ও তাঁর আট বছরের ছেলেকে ভারতে ফিরিয়েছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। কিন্তু সুইটি ও তাঁর সন্তান এবং দানিশের ফেরা হয়নি। কারণ, কেন্দ্রের নজরে তাঁরা ‘বাংলাদেশি’। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ এ নিয়ে আদালতে নথি জমার নির্দেশ দিয়েছে। ৬ জানুয়ারি শুনানি হওয়ার কথা।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি এবং দুই দেশের সম্পর্কের টানাপড়েনের জেরে যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, সে জন্য তাদের না জানিয়ে বাড়ি থেকে বেরোতে সুইটিদের নিষেধ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। সুইটি বলেন, ‘‘বাড়ি থেকে বেরোনোর অনুমতি নেই। আপাতত ফারুকদার (ফারুক হোসেন নামে যে বাংলাদেশি বাসিন্দার বাড়িতে ভাড়া রয়েছেন) বাড়িতেই দু’বেলা খেতে হচ্ছে।’’ তিনি জানান, এর বাইরে গতিবিধি বলতে অ্যাসবেস্টসের ছাউনি দেওয়া ঘরের উঠোন এবং বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে চলা মহানন্দা নদীর ঘাট। দুই সন্তান ও স্ত্রী সুনালীর জন্য মনখারাপ দানিশেরও।
রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান ও তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম বলছেন, ‘‘ওঁদের ফেরানোর জন্য আইনি পথে আমরা লড়ছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে।’’
সামিরুলের আরও দাবি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার একটি পরিবার কাজের সন্ধানে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওড়িশায় বাস করছিল। সম্প্রতি ওড়িশা সরকার তাদের বাংলাদেশে পাঠায়। সামিরুল বলেন, ‘‘যত দূর জেনেছি, ওই পরিবারটিকে জলঙ্গি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতের ভূখণ্ডে পাঠানো হয়েছে। পরিবারটির সন্ধান চলছে। বিষয়টি আমরা সরকারি ভাবেও দেখছি।’’ নামখানা ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিডিও সুব্রত মল্লিককে এ দিন দুপুরে বিষয়টি ফোনে জানান সামিরুল। পরিবারটির ব্যাপারে খোঁজখবর চলছে বলেবিডিও জানিয়েছেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)