E-Paper

সাইবার থানা গড়তে উদ্যোগী রেল পুলিশ

সাইবার অপরাধের তদন্ত প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও আঁটসাঁটো করতে নিজস্ব সাইবার থানা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন রেল পুলিশের কর্তারা।

শিবাজী দে সরকার

শেষ আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৮
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

সাইবার অপরাধ রুখতে এবং সেগুলির দ্রুত কিনারা করতে কয়েক বছর আগেই রাজ্যের প্রতিটি জেলায় পৃথক সাইবার থানা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বাদ পড়ে গিয়েছিল চারটি রেল পুলিশ জেলা। এ বার সেখানেও একটি করে সাইবার থানা তৈরি করতে চাইছে রাজ্য রেল পুলিশ। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই হাওড়া, শিয়ালদহ, শিলিগুড়ি এবং খড়্গপুর— রেল পুলিশের এই চার জেলায় সাইবার থানা তৈরি করতে চেয়ে ভবানী ভবনে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। রেল পুলিশের পাঠানো প্রস্তাবে এক জন করে ইনস্পেক্টরের অধীনে ওই থানা তৈরি করতে বলা হয়েছে। সাইবার বিশেষজ্ঞেরা নতুন থানাগুলি তৈরি করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবেন বলেও প্রস্তাবে জানানো হয়েছে।

রেল পুলিশ সূত্রের খবর, সাইবার অপরাধের তদন্ত প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও আঁটসাঁটো করতে নিজস্ব সাইবার থানা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন রেল পুলিশের কর্তারা। বর্তমানে রেল পুলিশের কোনও সাইবার সেলও নেই। মূলত জিআরপি থানা ও স্পেশাল অপারেশন্স গ্রুপের তরফে সাইবার অপরাধের তদন্ত করা হয়। এ দিকে, রাজ্য পুলিশের প্রতিটি জেলাতেই সাইবার থানা রয়েছে। এ ছাড়া, রাজ্য পুলিশের হাতে রয়েছে রাজ্য সাইবার অপরাধ শাখাও। যারা সমস্ত সাইবার থানাকে তদন্তে সাহায্য করে থাকে। আবার কলকাতা পুলিশের একটি সাইবার থানা থাকলেও প্রতিটি ডিভিশনে রয়েছে একটি করে সাইবার সেল। লালবাজারের তরফে ওই সাইবার সেলগুলিকে থানা পর্যায়ে উন্নীত করার প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে।

রেল পুলিশের এক কর্তা জানান, তাঁদের কাছে যত অভিযোগ দায়ের হয়, তার মধ্যে ৮০ শতাংশই মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপ চুরির ঘটনা। যার তদন্তে সাইবার বিশেষজ্ঞদের সাহায্য লাগে। এ ছাড়া, অপরাধীদের মোবাইল ফোনের ডেটা বিশ্লেষণ করা এবং সাইবার অপরাধের কিনারা করার জন্য ওই পৃথক থানার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানান। ‘ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস বুরো’ (এনসিআরবি)-র হিসাব অনুযায়ী, এ রাজ্যে সাইবার অপরাধ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। ফলে, সাইবার থানার গুরুত্বও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। রেল পুলিশ এলাকায় সেই তদন্ত যাতে ঠিক মতো হয়, তার জন্যই ওই নতুন থানাগুলির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

রেল পুলিশের বিরুদ্ধে প্রায়ই অভিযোগ ওঠে যে, তাদের থানাগুলিতে অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হলেও তদন্ত গুরুত্ব দিয়ে করা হয় না। এমনকি, মোবাইল ফোন ছিনতাই হলেও তার অভিযোগ লেখার বদলে ফোন চুরি গিয়েছে, এই মর্মে জেনারেল ডায়েরি করা হয়ে থাকে। সেখানে সাইবার থানা কতটা কার্যকর হবে, সেই প্রশ্ন উঠেছে। যদিও রেল পুলিশের কর্তাদের দাবি, প্রতি সপ্তাহে রেল পুলিশের প্রতিটি থানা গড়ে ৩০ থেকে ৪০টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। এ ছাড়া, ট্রেনে কিংবা স্টেশনে চুরি-ছিনতাই রোধে পুলিশের বিশেষ বাহিনী কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Railway Police

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy