জনগণনা, লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের জন্য অপেক্ষা না করেই ২০২৭-এর উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনে মহিলা আসন সংরক্ষণ আইন কার্যকর করতে চাইছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। এ জন্য গত লোকসভা ভোটের আগে বিশেষ অধিবেশন ডেকে যে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ নামের আইন পাশ হয়েছিল, মোদী সরকার এখন তাতে সংশোধন করে সংসদের চলতি বাজেট অধিবেশনে বিল পাশ করতে চাইছে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই সংসদীয় বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে-সহ বিরোধী শিবিরের নেতানেত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তৃণমূলের সঙ্গেও দিন দশেক আগে সরকারের তরফে যোগাযোগ করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচটি বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল মোদী সরকারের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক ফাঁদ হিসেবে দেখছে। তৃণমূল শিবির মনে করছে, পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মহিলা ভোটব্যাঙ্কে ভাগ বসাতে মহিলাদের সদর্থক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। এখন গোপনে মোদী সরকার বিরোধী শিবিরের সাহায্য চাইছে। কিন্তু বিল পাশ হলে পুরো কৃতিত্ব বিজেপি নেবে। তৃণমূল সূত্রের বক্তব্য, লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি মহিলা সংরক্ষণ আইন পাশ করলেও এক-তৃতীয়াংশ আসনে মহিলা সাংসদ নিশ্চিত করতে তা কার্যকর করেনি। বিজেপি নিজেও তিন ভাগের এক ভাগ আসনে মহিলাদের প্রার্থী করেনি। অথচ তৃণমূলের সাংসদদের মধ্যে ৩৭ শতাংশ মহিলা।
সরকারি সূত্রের বক্তব্য,‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’-এ সংসদে ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সেই আইন অনুযায়ী, আগামী জনগণনা ও তার পরে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের পরেই কোন কোন আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হবে, তা ঠিক হবে। এখন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব জনগণনা ও আসন পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে আসন সংরক্ষণের প্রশ্ন আলাদা করে দিয়ে ২০২৭-এর উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই আইন কার্যকর করতে চাইছেন। সরকারের প্রস্তাব, লটারির মাধ্যমে ঠিক হবে কোন কোন আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হবে।
বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের আগে ২০২৩-এর সেপ্টেম্বরে মোদী সরকার যখন মহিলা আসন সংরক্ষণ বিল পাশ করায়, সে সময় কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে সব দলই অবিলম্বে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার দাবি তুলেছিল। কিন্তু সে সময় মোদী সরকারই জনগণনা, আসন পুনর্বিন্যাসের পরে মহিলা সংরক্ষণের নীতি নেয়। ফলে ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনেও সংসদের ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)