স্পিকার নির্বাচন উপলক্ষে অষ্টাদশ বিধানসভার অধিবেশন বসেছিল শুক্রবার। মূলত সৌজন্যের আবহে অধিবেশন শুরু হলেও ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে বাগ্যুদ্ধে জড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রীর পর বক্তৃতা করতে উঠে রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসা চলছে বলে অভিযোগ তোলেন শোভনদেব। বিজেপির উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা বলেছিলেন, ভয় নয় ভরসা। কিন্তু আজ ভরসা নেই, ভয় চার গুণ বেড়ে গিয়েছে। বহু মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। স্বেচ্ছাচারী শাসকের পদধ্বনি শুনছি।”
অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুভেন্দু উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, “কেউ ঘরছাড়া বলে জানা নেই।” একই সঙ্গে শোভনদেবের উদ্দেশে তিনি বলেন, “কেউ ঘরছাড়া হলে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে জানান।” তবে একই সঙ্গে একটি শর্তও দেন তিনি। বলেন, “২০২১ সালে ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস নিয়ে যে সাড়ে ১২ হাজার এফআইআর হয়েছিল, তাতে নাম না-থাকলে স্থানীয় বিধায়ক এবং পুলিশ সুপার গিয়ে (ঘরছাড়াদের) বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসবে।” একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, “এফআইআর-এ নাম থাকলে জেলে যেতে হবে।”
শুক্রবার বিধানসভায় বলার সুযোগ পান ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিও। ‘ভোট-পরবর্তী হিংসার’ প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। রাজ্যের পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে বিঁধে তিনি বলেন, “২০২১ সালে জিতে মনে হয়েছিল ৬ মাসে ইস্তফা দিয়ে দিই। তাতে যদি আমাদের কর্মীরা বাঁচে।” রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে নওশাদের দাবি, চিঠি লিখলে জবাব পেতেন না। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বিজেপিকে ‘দরাজ সার্টিফিকেট’ না-দিলেও অহেতুক বিরোধিতা করবেন না।
শুক্রবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্র বসু। প্রথা মেনে তাঁকে স্পিকারের আসন পর্যন্ত এগিয়ে দেন শুভেন্দু এবং শোভনদেব। তার পর স্পিকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তৃতা শুরু করেন শুভেন্দু। বক্তৃতায় মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, বিধানসভা মারামারির জায়গা নয়। আগের তৃণমূল সরকারকে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, “বিধানসভায় শাসক-বিরোধী দু’পক্ষই নিজেদের বক্তব্য জানাক। ১১ মাস যেন বিরোধী দলের নেতাকে বিধানসভার বাইরে না-রাখা হয়।” বিরোধী দলকে মর্যাদা দিয়ে বিধানসভায় তাদের বেশি করে বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
শুভেন্দু, শোভনদেব, নওশাদ ছাড়াও বিধানসভায় নতুন স্পিকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তৃতা করেন প্রোটেম স্পিকার তথা মানিকতলার বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর, ডোমকলের সিপিএম বিধায়ক মহম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান (রানা), শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি।
স্পিকার জানান, আগামী ১৮ জুন রাজ্যপাল আরএন রবি-র প্রারম্ভিক ভাষণের পর অষ্টাদশ বিধানসভার প্রথম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন শুরু হবে। ওই দিনই রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করা হবে বিধানসভায়।
অন্য দিকে, শুক্রবার নন্দীগ্রাম বিধানসভার বিধায়কপদ থেকে ইস্তফা দেন শুভেন্দু। আগেই জানা গিয়েছিল যে, ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দিচ্ছেন তিনি। বিধানসভায় ভবানীপুরের বিধায়ক হিসাবেই শপথ নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। নিয়ম অনুযায়ী, দু’টি কেন্দ্রে জয়ী হলে ১৪ দিনের মধ্যেই একটি আসন ছেড়ে দিতে হয়। শুক্রবার রাজ্য বিধানসভার নতুন স্পিকারের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন শুভেন্দু। শুক্রবার রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন হুমায়ুনও। নওদা কেন্দ্রের বিধায়ক হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন তিনি। অর্থাৎ, নন্দীগ্রাম এবং নওদা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ল।