আর জি কর দুর্নীতি মামলার বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার আর্জি নিয়ে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ও অন্য দুই অভিযুক্ত সুমন হাজরা এবং আশিস পাণ্ডে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি শুভেন্দু সামন্তের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, আজ, শুক্রবার শুনানি হবে। বিচারপতি বাগচীর মন্তব্য, “অভিযুক্তকে সুযোগ না দিয়ে দ্রুত বিচার করে মামলা কবরে পাঠানোর পরিস্থিতি চাই না।”
ডিভিশন বেঞ্চ বলে, তিন দিনের মধ্যে চার্জ গঠন করতে চাওয়া হল কেন? এত তথ্য দ্রুত পড়ে ওঠা সম্ভব নয়। তাই অতিরিক্ত সময় চেয়েছেন অভিযুক্তেরা। চার্জশিটের প্রতিলিপি পাওয়ার পরে, চার্জ গঠনের আগে সময় দিতে হয় অভিযুক্তদের। আইন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ৬০ দিন পাওয়ার কথা। এ ক্ষেত্রে তা হয়নি। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ দ্রুত চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছিলেন। অভিযুক্তেরা সেই নির্দেশ সংশোধনের আর্জি জানালে বুধবার তা খারিজ হয়।
হাই কোর্টের আগের নির্দেশ মতো আলিপুরের সিবিআই কোর্ট চার্জ গঠনে উদ্যোগী হলেও অভিযুক্তেরা এ দিন ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হওয়ায় সেই শুনানি হয়নি। বেলা সাড়ে ১০টায় আলিপুরের সিবিআই কোর্টে মামলা উঠলে হাই কোর্টে আর্জির কথা জানান অভিযুক্তদের কৌঁসুলিরা। ফের বেলা আড়াইটের শুনানিতে তাঁরা জানান, হাই কোর্ট আজ, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় ওই মামলার শুনানি করবে। তাই সময় চাওয়া হচ্ছে। বিচারক বলেন, “হাই কোর্টের নির্দেশে ৩০ জানুয়ারি থেকে মামলার চার্জ গঠনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ওই নির্দেশের উপরে হাই কোর্টের কোনও স্থগিতাদেশ নেই।”
অভিযুক্তদের কৌঁসুলিরা বলেন, “আমরা হলফনামা আদালতে জমা দিচ্ছি। আজ, শুক্রবার শুনানির সময় নির্ধারণ করা হোক।” বিচারক জানান, হাই কোর্টের বক্তব্য হলফনামা আকারে দিতে হবে। অভিযুক্তদের কৌঁসুলিরা হাই কোর্টের বক্তব্য সমেত ওই নথি বিশেষ আদালতে দেন। আজ, শুক্রবার বেলা ২টোয় শুনানি হবে।
বিচারপতি বাগচী জানান যে, নিম্ন আদালতের বিচার প্রক্রিয়া হাই কোর্টের নজরদারিতে থাকবে। বিচার প্রক্রিয়ায় কোনও পক্ষই যাতে অযথা বিলম্ব না করে, তা-ও নজরে রাখা হবে। ডিভিশন বেঞ্চ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত পক্ষ এবং তদন্তকারী সংস্থা বিবেচনা করে চার্জ গঠনের সময় নির্ধারণ করবে ও আজ কোর্টে সিদ্ধান্ত জানাবে। এখনই দ্রুত বিচার শুরুর প্রয়োজনীয়তা নেই, স্পষ্ট ইঙ্গিতও দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)