মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল থেকে মমতাকেই ‘ছেঁটে’ ফেললেন বিদ্রোহীরা। সঙ্গে ‘কালীঘাট তৃণমূলে’র সর্বভারতীয় সাধারণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও রাখা হল না কোনও পদে। অভিষেক সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তাচ্ছিল্যই ছুঁড়ে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন ছিল। সেই অধিবেশন শেষে তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কেরা নিউ টাউনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকে ছিলেন তৃণমূলের ৬০ জন বিধায়ক। এ ছাড়াও, কলকাতার প্রায় ৭০ জন প্রাক্তন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন ওই বৈঠকে। সেখানে ‘তৃণমূলের’ ৩০ জনের কমিটি তৈরির কথা জানানো হয়। রাতে ওই হোটেলেই সাংবাদিক বৈঠক করে ‘তৃণমূলের’ নতুন জাতীয় কর্মসমিতি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন ঋতব্রত। সঙ্গে জানিয়ে দেন তাঁরা এই কমিটি শীঘ্রই নির্বাচন কমিশনে জানিয়ে দেবেন। যার অর্থ আগামী দিনে দলের উপর নিয়ন্ত্রন হারাতে পারেন মমতা।
৩০ জনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর ঋতব্রত বলেন, ‘‘এর পর রাজ্য কমিটি গঠন করা, জেলা সভাপতি-সহ জেলা কমিটিগুলি গঠন করা, তার সঙ্গে ফ্রন্টাল সংগঠনের সভাপতি নির্ধারণ করা এবং মুখপাত্রদের প্যানেল তৈরি করা হবে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘দল সংক্রান্ত যে টেকনিক্যালিটিজ আছে, তা আমরা নির্বাচন কমিশনে জানাব। জাতীয় কর্মসমিতি করতে হয়েছে। নিশ্চিত ভাবে টেকনিক্যাল কারণ ছিল, তাই করতে হয়েছে। সমস্ত আইন মেনে, তৃণমূলের যে সংবিধান, সমস্ত কিছু সঙ্গে সাযুজ্য রেখে আজকে এই ডেলিগেট সেশন হয়েছে। সেখানেই কমিটি গঠন করা হয়েছে।’’
আরও পড়ুন:
এমন ঘোষণার পর স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, এর পর কি জোড়াফুল প্রতীকের জন্য আবেদন করবেন তারা? জবাবে বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘‘আমরা নির্বাচন কমিশনকে জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের কথা জানাব। আমাদের নতুন চেয়ারপার্সন হয়েছেন। তাই সবটাই আমরা কমিশনকে জানাব।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘অরূপদারা প্রথম দিনের সৈনিক। জাভেদদারা প্রথম দিনের সৈনিক, বিপ্লবদারা প্রথম দিনের সৈনিক।’’
কালীঘাট তৃণমূলকে কটাক্ষ করে ঋতব্রত বলেন, ‘‘আইনকানুন মেনে তো সব করতে হয়। যাঁদের নাম ধরুন ঘোষণা হচ্ছে, তাঁরাই অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। পরের দিন সকালবেলা ইস্তফা দিচ্ছেন। এরই মধ্যে জাতীয় কর্মসমিতির এক জন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ইস্তফা দিয়েছেন। আগামী কাল তিনি বিধানসভায় আসবেন।’’ প্রসঙ্গত, রবিবার ইটাহারের তৃণমূল বিধায়ক মোশারাফ হোসেন তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। সূত্রের খবর মঙ্গলবার তিনি ঋতব্রতের শিবিরের যোগদান করবেন। আর মমতার ভূমিকা এই তৃণমূলে কী হবে প্রশ্ন করা হলেন, বিরোধী দলনেতা জানিয়েছেন, চাইলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের পরামর্শদাতা হতে পারেন।
অভিষেককে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ঋতব্রত বলেন, ‘‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে আমাদের কোনও আলোচনাই হয়নি।’’ পরে আবারও তাঁকে ওই সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি আরও বলেন, ‘‘কে অভিষেক? ওহ যিনি চোরপিটুনি খেয়েছেন? নেক্সট কোয়েশ্চেন প্লিজ।’’ এ ভাবেই সাংবাদিক বৈঠক অভিষেককে চরম অবজ্ঞা করেন ঋতব্রত।