Advertisement
E-Paper

পাঁচ বনাম ছয়, গত এক দশকে দেশের ফুটবল কোচের চেয়েও বেশি প্রধানমন্ত্রী বদলের সাক্ষী হতে চলেছে ইংল্যান্ড

২০১৬ থেকে মোট ছ’জন নেতার প্রবেশ ও প্রস্থানের সাক্ষী হয়েছে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট। স্টার্মারের পূর্বসূরিদের তালিকায় রয়েছেন ঋষি সুনক, এলিজাবেথ লিজ ট্রাস, বরিস জনসন, টেরেসা মে এবং ডেভিড ক্যামেরন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ ২১:২৭
UK will see its seventh prime minister in single decade

(উপরে বাঁদিক থেকে) কিয়ের স্টার্মার, ঋষি সুনক, এলিজাবেথ লিজ ট্রাস এবং (নীচে বাঁদিক থেকে) বরিস জনসন, টেরেসা মে, ডেভিড ক্যামেরন। —ফাইল চিত্র।

কিয়ের স্টার্মার সোমবার প্রধানমন্ত্রী এবং লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করার পরেই নতুন ইতিহাস গড়ার পথে বা বাড়াল ব্রিটেন। এই নিয়ে গত এক দশকে সাত নম্বর প্রধানমন্ত্রী দেখতে চলেছে সে দেশ। প্রধানমন্ত্রী পদে বদল হচ্ছে ছ’বার। ১৯৪ বছরের গণতন্ত্রের ইতিহাসে যা কার্যত নজিরবিহীন ঘটনা।

ইতিহাস বলছে, ২০১৬ থেকে মোট ছ’জন নেতার প্রবেশ ও প্রস্থানের সাক্ষী হয়েছে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট। স্টার্মারের পূর্বসূরিদের তালিকায় রয়েছেন ঋষি সুনক, এলিজাবেথ লিজ ট্রাস, বরিস জনসন, টেরেসা মে এবং ডেভিড ক্যামেরন। ঘটনাচক্রে, তাঁরা সকলেই স্টার্মারের দল লেবার পার্টির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কনজ়ারভেটিভ পার্টির। ঘটনাচক্রে, এই সময়সীমার মধ্যে ইংল্যান্ডের জাতীয় ফুটবল দলের কোচ বদল হয়েছে পাঁচ বার। বর্তমান কোচ টমাস টুখেলের পূর্বসূরিদের মধ্যে রয়েছে লি কার্সলি, গ্যারেথ সাউথগেট, স্যাম অ্যালারডাইস এবং রয় হজসন।

ঘটনাচক্রে, ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট-পর্ব থেকেই ব্রিটিশ রাজনীতিতে শুরু হয়েছিল টানাপড়েন-পর্ব। ২০১৬ সালের সেই বিতর্কিত গণভোটে ব্রিটিশ নাগরিকেরা অল্প ব্যবধানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। এর ফলে দেশটির রাজনৈতিক আবহে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস শুরু হয়। যার প্রভাব এখনও অব্যাহত বলেই মনে করা হচ্ছে।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ পার্টি ২০১০ এবং ২০১৫-র পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল। কিন্তু ছ’বছর ধরে ক্ষমতায় থাকার পরে ব্রেক্সিট নিয়ে দলের অন্দরে টানাপড়েনের কারণে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে পদত্যাগ করেন ক্যামেরন। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) থাকার পক্ষে ‘রিমেইন’ শিবিরের হয়ে প্রচার করেছিলেন ক্যামেরন। নির্বাচনে জয় পেলেও গণভোটে তার সমর্থিত ‘রিমেইন’ শিবির পরাজিত হয়। এর পরে ২০১৭-র অন্তর্বর্তী নির্বাচন এবং ২০১৯-এর নির্বাচনের কনজ়ারভেটিভ পার্টি পর সরকার গড়লেও একের পর এক পরিবর্তন হয় দলের নেতৃত্ব এবং প্রধানমন্ত্রী পদে।

ক্যামেরনের উত্তরসূরি হিসেবে ২০১৬ সালের ১৩ জুলাই দায়িত্ব নিয়েছিলেন টেরেসা মে। তিনি ছিলেন ব্রিটেনের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেছিলেন তিনি। ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ বরিস জনসন। তাঁর নেতৃত্বে বিপুল জয় পেয়েছিল কনজ়ারভেটিভ পার্টি। কিন্তু কোভিডকালে লকডাউনের সময় ডাউনিং স্ট্রিটে পার্টির আয়োজন নিয়ে ‘পার্টিগেট’ কেলেঙ্কারি, একের পর এক মন্ত্রীর বিদ্রোহ ও পদত্যাগ এবং নিজ দলের পার্লামেন্ট সদস্যদের আস্থা হারানোর ফলে শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ইস্তফা দেন তিনি। জনসনের উত্তরসূরি হিসেবে ২০২২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেন লিজ ট্রাস। কিন্তু তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্ব স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ৪৯ দিন। ২০২২ সালের ২৫ অক্টোবর লিজ পদত্যাগ করায় লেবার পার্টির এমপি এবং সদস্যদের মধ্যে কয়েক দফার ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী পদের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ঋষি সুনক।

২০২৪ সালের নির্বাচনে স্টার্মারের নেতৃত্বে সুনকের নেতৃত্বাধীন কনজ়ারভেটিভ সরকারের পতন ঘটিয়েছিল লেবার পার্টি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দু’বছরের মাথাতেই স্টার্মারের জনপ্রিয়তা কার্যত তলানিতে পৌঁছয়। দলের অন্দরে তাঁর পরিবর্তে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামকে সামনে আনার দাবি তোলেন লেবার এমপিদের একাংশ। গত সপ্তাহে উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মেকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে বার্নহাম জয়ী হওয়ার পরেই স্টার্মারের পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছিল। এ বার তাঁর ছেড়ে যাওয়া আসনে বার্নহাম বসতে পারেন বলে জল্পনা রয়েছে।

Keir Starmer UK Prime Minister Britain Prime Minister Boris Johnson Rishi Sunak Labour Party Conservative Party
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy