ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়লেন কিয়ের স্টার্মার। লেবার পার্টির নেতৃত্ব থেকেও ইস্তফা দিলেন তিনি। সোমবার ১০, ডাউনিং স্ট্রিট থেকে সাংবাদিকদের সামনে এই ঘোষণা করেছেন স্টার্মার। স্ত্রীকে পাশে নিয়ে ইস্তফার কথা ঘোষণা করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। জানিয়েছেন, ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছে। রাজাকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন স্টার্মার।
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করছেন কিয়ের স্টার্মার। ছবি: রয়টার্স।
স্টার্মার জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে লেবার পার্টির নেতৃত্ব দেওয়ার উপযুক্ত তিনি নন— এ কথা তিনি সহজ ভাবেই মেনে নিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমার দল প্রশ্ন করছে, আমি আগামী নির্বাচনে লেবার পার্টির নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ঠিকঠাক অবস্থানে রয়েছি কি না। এই প্রশ্নে আমার পার্লামেন্টারি পার্টির উত্তর আমি শুনেছি। সেটা সহজ ভাবে মেনেও নিয়েছি। আমার নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তই আমার প্রিয় এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য, এগিয়ে রাখার জন্য। সেই কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতা হিসাবে ইস্তফা দিচ্ছি। ব্রিটেনের রাজার সঙ্গে কথা বলে আমি সকালেই আমার সিদ্ধান্ত তাঁকে জানিয়ে দিয়েছি।’’
আরও পড়ুন:
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানোকে ‘দেশের সবচেয়ে বড় চাকরি’ বলে উল্লেখ করেছেন স্টার্মার। জানিয়েছেন, এ বার তিনি অন্য কাজে মন দেবেন। তাঁর কথায়, ‘‘দেশের সবচেয়ে বড় চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর আমি এ বার আমার ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ’টায় মন দেব।’’ কী কাজ? সদ্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি আমার স্ত্রীর শ্রেষ্ঠ স্বামী হয়ে ওঠার চেষ্টা করব এ বার। ভাল হোক বা খারাপ, সব সময়ে ও আমার পাশে থেকেছে। এ ছাড়া, আমি আমার সন্তানদের শ্রেষ্ঠ বাবা হয়ে উঠব। ওরাই আমার গর্ব, আমার আনন্দ।’’ কথা বলতে বলতে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন স্টার্মার। নিজের বক্তব্য শেষ করে তিনি স্ত্রীকে আলিঙ্গন করেন এবং ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ঢুকে যান।
ইস্তফা দিয়ে স্ত্রীকে আলিঙ্গন আবেগপ্রবণ কিয়ের স্টার্মারের। ছবি: রয়টার্স।
উল্লেখ্য, স্টার্মার যে ইস্তফা দিতে পারেন, সেই জল্পনা ছিলই। ঘরে-বাইরে চাপ বাড়ছিল তাঁর উপর। আগামী নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছিল না লেবার পার্টি। এমনকি, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও রবিবার জানিয়ে দেন, স্টার্মার ইস্তফা দিতে চলেছেন। ‘গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদনে দাবি, ইস্তফা দিলেও শরৎকাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন স্টার্মার। কারণ দল এবং প্রশাসনের নতুন নেতা বেছে নিতে লেবার পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের কিছুটা সময় লাগবে। স্টার্মারের ঘোষণায় সে বিষয়ে কিছু স্পষ্ট করা হয়নি।
ইস্তফার ঘোষণার পর স্ত্রীর হাত ধরে ফিরে যাচ্ছেন কিয়ের স্টার্মার। ছবি: রয়টার্স।
ঋষি সুনকের নেতৃত্বাধীন কনজ়ারভেটিভ পার্টিকে হারিয়ে ২০২৪ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ব্রিটেনে ক্ষমতায় এসেছিল লেবার পার্টি, নেতৃত্বে ছিলেন স্টার্মার। কিন্তু ধীরে ধীরে ব্রিটেনে তাঁর জনপ্রিয়তা কমেছে। অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করতে পারেননি স্টার্মার। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ বা অভিবাসন নীতি প্রসঙ্গে জনগণকে খুশি করতে পারেননি তিনি। দু’বছরের মাথায় প্রধানমন্ত্রীর পদ তাঁকে ছেড়ে দিতে হল। ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, পদত্যাগ প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যই তিনি সপ্তাহান্তে ছুটিতে গিয়েছিলেন। ফিরে সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনে ইস্তফার কথা ঘোষণা করলেন।
স্টার্মারের পদত্যাগে ব্রিটেনের রাজনীতি ফের টলমল। এই নিয়ে গত এক দশকে সাত জন প্রধানমন্ত্রী ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়লেন। তবে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলেও এখনই সরকার বদলাচ্ছে না ব্রিটেনে। সে দেশের আইন অনুযায়ী, জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসা লেবার পার্টিই নতুন কোনও নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে বেছে নিতে পারবে।