Advertisement
E-Paper

ঘরে-বাইরে চাপের মুখে! সোমেই ইস্তফার কথা জানাতে পারেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী স্টার্মার, উত্তরসূরি হিসাবে এগিয়ে কে?

দেশবাসীর কাছে গ্রহণযোগ্যতা কমছিলই। এ বার তাঁকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাইছে না তাঁর নিজের দলই। এই পরিস্থিতিতে সোমবারই ইস্তফা দিতে পারেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ ১১:১৭
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার।

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার। ছবি: রয়টার্স।

দেশবাসীর কাছে গ্রহণযোগ্যতা কমছিলই। এ বার তাঁকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাইছে না তাঁর নিজের দলই। এই পরিস্থিতিতে ইস্তফা দিতে পারেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার। ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, সোমবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিতে পারেন ব্রিটেনের শাসকদল লেবার পার্টির এই নেতা।

তবে ‘গার্ডিয়ান’-এর ওই প্রতিবেদনে এ-ও বলা হয়েছে যে, পদত্যাগের কথা ঘোষণা করলেও শরৎকাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন স্টার্মার। কারণ দল এবং প্রশাসনের নতুন নেতা বেছে নিতে লেবার পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের কিছুটা সময় লাগবে। নতুন নেতা হিসাবে অবশ্য অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নাম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। গ্রেটার ম্যাঞ্চেস্টার এলাকার মেয়র বার্নহ্যাম কয়েক দিন আগেই উপনির্বাচনে জিতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে গিয়েছেন। প্রাক্‌-নির্বাচনী সমীক্ষাকে কার্যত ভুল প্রমাণ করে দিয়ে তিনি দক্ষিণপন্থী দল রিফর্ম ইউকে দলের প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে লেবার পার্টির অনেকেই চাইছেন স্টার্মারকে সরিয়ে বার্নহ্যামকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসাতে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে ঋষি সুনকের নেতৃত্বাধীন কনজ়ারভেটিভ পার্টিতে হারিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল লেবার পার্টি। প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন স্টার্মার। কিন্তু ব্রিটেনবাসীর বড় অংশের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিরক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন স্টার্মার। মূলত মূল্যবৃদ্ধিতে লাগাম পরানোর ক্ষেত্রে তাঁর সরকার উদাসীন বলে অভিযোগ উঠেছে। জনমত সমীক্ষাগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ক্রমশ জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন স্টার্মার। মধ্য-বামপন্থী দল লেবার পার্টির ভোটারদের একটি অংশ গ্রিন পার্টির দিকে ঝুঁকছে। আবার অভিবাসনের প্রশ্নে কঠোর নীতি নেওয়ার কথা বলে প্রধান বিরোধী দল হিসাবে দ্রুত উঠে আসছে রিফর্ম ইউকে পার্টি।

এখনও পর্যন্ত স্টার্মার প্রকাশ্যে দল এবং দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা বলে যাচ্ছেন। যে কোনও সঙ্কট মোকাবিলার কথাও বলছেন তিনি। যদিও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলির খবর অনুযায়ী, পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সপ্তাহান্তে ছুটিতে গিয়েছিলেন তিনি। সোমবার, সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনেই তিনি প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিতে পারেন। কী ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর্ব শেষ হবে, তা-ও জানিতে দিতে পারেন তিনি।

ইতিমধ্যেই স্টার্মারের বিকল্প হিসাবে বার্নহ্যামের হয়ে সওয়াল করছেন লেবার পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ। স্টার্মার যদি সত্যিই পদত্যাগ করেন তবে এক দশকে সাত জন প্রধানমন্ত্রী ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়বেন। মনে করা হয়েছিল, লেবার পার্টির বিপুল জয়ে ব্রিটেনে রাজনৈতিক স্থায়িত্ব ফিরবে। কিন্তু এখন সেই সম্ভাবনা কম বলেই মনে হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বদলে গেলেও ব্রিটেনে সরকার বদলের সুযোগ এখনই নেই। কারণ সে দেশের বিধি অনুযায়ী, ভোটারেরা পার্লামেন্টের সদস্যদের নির্বাচিত করেন। আর পার্লামেন্টের সদস্যেরা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে কাউকে বেছে নেন। যে হেতু লেবার পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আছে, সে হেতু সেই দলই নতুন কোনও নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে বেছে নিতে পারবে।

UK Prime Minister UK Keir Starmer
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy