বিধানসভা নির্বাচন দোরগোড়ায়। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিজেপি তাদের প্রচার কৌশল সাজাতে ব্যস্ত। রাজ্য জুড়ে প্রায় পাঁচ হাজার কিলোমিটার পরিক্রমা করে ব্রিগেড ময়দানে সভা করতে চলেছে তারা। কিন্তু বড় রাস্তা থেকে ময়দান পর্যন্ত বিজেপি যখন ‘ঝড়’ তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে, তখন নিঃশব্দে ঘরে ঘরে পৌঁছতে চলেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ।
সূত্রের খবর, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দু’টি প্রচার কৌশল নিয়েছে গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক ভাবে বিজেপি প্রচারের ভাষ্য তৈরি করার কাজ করবে। আর সঙ্ঘের কাজ হবে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য মাটি তৈরি করা। আর সেই কারণেই নিচু তলার প্রচারে জোর দিচ্ছে সঙ্ঘ। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে ‘গৃহ সম্পর্ক অভিযান’ নিয়ে মাঠে নেমেছে তারা। অন্তত ৪০টি অনুমোদিত সংগঠনের মাধ্যমে মানুষের বসার ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে তারা। সরাসরি রাজনৈতিক কথা বাদ রেখেও প্রচার ভাষ্যকে ভোটারদের কানে তুলে দেওয়াই তাদের কাজ। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য গ্রাম বাংলা।
এর সঙ্গেই আরও একটি কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। তার নাম দেওয়া হয়েছে, ‘পাড়ায় পাড়ায় বিজেপি’। কী থাকছে সেই কর্মসূচিতে? সূত্রের খবর, তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বঞ্চনা’র অভিযোগকে ‘নিরস্ত্র’ করতেই এই কর্মসূচি। পশ্চিমবঙ্গের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার কী কী কাজ করছে, কোন খাতে কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে এবং সেই টাকা বাংলার মানুষের কাছে কেন পৌঁছচ্ছে না, সেই বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করা হবে বিজেপির তরফে। এরই সঙ্গে তৃতীয় ধাপে থাকবে ‘পাহাড় থেকে সাগর’ কর্মসূচির অধীনে রাজ্য জুড়ে দেড় হাজার পথসভা। সেই কাজও অনেকটা এগিয়েছে বলেই খবর।
এই গোটা প্রচারের মধ্যমণি হতে চলেছে বাংলাদেশ এবং অনুপ্রবেশকারীর মতো বিষয়। মূলত সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং শহরতলিতেও এই প্রচারে জোর দেওয়া হবে। সাধারণ হিন্দু ভোটারদের মধ্যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপরে অত্যাচারের ঘটনাকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, মালদহের মোথাবাড়ির ঘটনাকে মিলিয়ে দেওয়া এবং বাংলাদেশের নির্বাচনে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জামাতের জয়—এই দু’টি বিষয়ে যেমন জোর দেওয়া হচ্ছে, তেমনই তৃণমূল জিতলে পশ্চিমবঙ্গেও হিন্দুদের অবস্থা ‘বিপন্ন’ হতে পারে এই প্রচারও চলবে জোর কদমে।
এই প্রসঙ্গে বিজেপির এক শীর্ষ নেতার বক্তব্য, ‘‘আমরা সাঁড়াশি প্রচারে তৃণমূলকে ‘ম্যান মার্কিং’-এ আটকে দিতে চাইছি। তৃণমূল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে মিথ্যাচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। কিন্তু আমরা মানুষের মন থেকে আইনশৃঙ্খলা, বেকারত্ব, দুর্নীতি, আর জি কর, আনন্দপুর ভুলতে দেব না।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)