আর পাঁচটা সন্ধের থেকে আলাদা করা গেল না শুক্রবারের সন্ধেটাকে। কলেজপাড়ায় ইতিউতি ব্যস্ততা। গলির মোড়ে তৃণমূল পার্টি অফিসে বসেছিলেন কয়েকজন। একজন আক্ষেপ করলেন, ‘‘দাদা নিজের হাতে দফতরটা তৈরি করেছিলেন। হিলকার্ট রোডের ওই অফিসের চেম্বারে দাদা বসবেন না এটা ভাবতেই পারছি না।’’
এমন মন্তব্যে প্রতিবাদ করলেন আরেকজন। তাঁর দাবি, ‘‘দাদা এখন আর উত্তরবঙ্গের মন্ত্রী নন। সারা রাজ্যের উন্নয়নের কাজই দেখতে হবে। কাজ আর গুরুত্ব দুই বাড়ল।’’ দাদা-র গুরুত্ব বাড়ল নাকি কমল? তা নিয়েই চলল নানা মত, পাল্টা মত। এই জল্পনা-বির্তকে প্রাণখুলে উচ্ছাসে সামিল হতে পারলেন না এলাকার তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অনেকেই।
দুপুরে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরে গৌতমবাবুর অনুগামীদের অনেকেই হিলকার্ট রোডের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের অফিস সাজানোর পরিকল্পনা করেন। শহরের একটি ফুলের দোকানে বরাতও দিয়ে রাখা হয়। গৌতমবাবু যে দিন অফিসে ঢুকবেন সে দিন ফুলের তোরণে স্বাগত জানানোর পরিকল্পনা হয়। বিকেলে মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠকের পরেই দ্রুত খবর ছড়িয়ে পড়ে নবগঠিত মন্ত্রিসভায় গৌতমবাবু দায়িত্ব পেয়েছেন পর্যটন দফতরের। এরপরেই তাঁর অনুগামীদের একাংশের মধ্যে হতাশা নেমে আসে।
ফোন করে ফুলের বরাতও বাতিল করা হয়। তবে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পরেই গৌতমবাবু নবান্নতে নিজের দফতরে পৌঁছে যান। পর্যটন দফতরের অফিসে বসে হাসিমুখে গৌতমবাবুর ছবি ছড়িয়ে যায় সোশাল নেটওয়ার্কে। কলকাতায় বসা দাদা-র মুখের হাসি ছড়িয়ে পড়ে শিলিগুড়িতে তাঁর অনুগামীদের মধ্যেও। বাজি পটকা পুড়তে শুরু করে গৌতমবাবুর বিধানসভা এলাকায়।
নিউ জলপাইগুড়িতে তৃণমূল অফিসের সামনে বিকেল থেকেই আবির খেলা শুরু হয়। সন্ধেবেলায় আতসবাজি পোড়ানো হয়। নাচের তালে কোমর দোলাতেও দেখা যায় কর্মী-সমর্থকদের। মুর্হুমুহু স্লোগান শোনা যায়, ‘‘গৌতম দেব জিন্দাবাদ।’’ মিষ্টি বিলি হয়েছে ফুলবাড়ি, সাহুডাঙি এলাকাতেও। এ দিন সন্ধ্যায় ডাবগ্রাম এলাকার তৃণমূল কর্মীরা মিছিলও বের করেন। এলাকার এক নেতার কথায়, ‘‘দাদা আবার মন্ত্রী হয়েছে। তাই মিষ্টি বিলি হয়েছে।’’ ওই তৃণমূল নেতার দাবি, আজ শনিবার এলাকায় খিচুড়ি বিলির পরিকল্পনাও রয়েছে।