×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ই-পেপার

এ বার তৃণমূলের জেলা সভাপতি পদ থেকে অপসারিত শিশির অধিকারী

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ১৩ জানুয়ারি ২০২১ ১৩:৫৫
জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে ডানা ছাঁটা হল এই অশীতিপর রাজনীতিকের। ফাইল চিত্র।

জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে ডানা ছাঁটা হল এই অশীতিপর রাজনীতিকের। ফাইল চিত্র।

প্রত্যাশামতোই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল কাঁথির বর্ষীয়ান সাংসদ শিশির অধিকারীকে। বুধবার সর্বভারতীয় তৃণমূলের তরফে পূর্ব মেদিনীপুরের নতুন জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানেই সভাপতি পদ থেকে শিশিরবাবুকে সরিয়ে দেওয়ার কথা জানা গিয়েছে। নতুন সভাপতি হয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা পিংলার বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্র। শিশিরকে নতুন কমিটিতে চেয়ারম্যান পদ দেওয়া হয়েছে। যদিও তৃণমূলের সাংগঠনিক রীতি অনুযায়ী সভাপতিই জেলা কমিটি পরিচালনা করেন। চেয়ারম্যান নামেই।

প্রথমে শিশিরের মেজ ছেলে শুভেন্দু এবং পরে ছোট ছেলে সৌম্যেন্দু বিজেপি-তে যোগ দেওয়ায় মনে করা হচ্ছিল, কিছুদিনের মধ্যেই শিশিরকে সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেবেন তৃণমূল শীর্ষনেতৃত্ব। মঙ্গলবারই কাঁথির সাংসদকে দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হয়েছিল। তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, এবার তাঁকে জেলা সভাপতি পদ থেকে সরানো শুধু সময়ের অপেক্ষা। সেই আশঙ্কা সত্যি করে জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে ডানা ছাঁটা হল এই অশীতিপর রাজনীতিকের।

প্রসঙ্গত, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রাজনীতিতে অধিকারীদের ‘বিরোধী’ বলেই পরিচিত নতুন সভাপতি সৌমেন। ইতিহাস বলছে, ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে তমলুক আসন থেকে সরিয়ে সৌমেনকে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায় পাঠানো হয়েছিল অধিকারীদের ‘আপত্তি’-র কারণেই।

Advertisement

আরও পড়ুন: বিজেপির চোখ বঙ্গে, কিন্তু মুখে মাস্ক কোথায়

এ বার সেই পিংলার বিধায়ককেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনলেন তৃণমূল শীর্ষনেতৃত্ব। যা থেকে স্পষ্ট যে, নতুন কমিটিতে ‘অধিকারী বিরোধী’-দেরই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলা সংগঠনের কো-অর্ডিনেটর করা হয়েছে অধিকারী বিরোধী বলে পরিচিত মামুদ হোসেন, শেখ সুপিয়ান, গৌরমোহন দাস ঠাকুরদের। রাখা হয়েছে অধিকারীদের বিরোধী রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরিকেও। তাঁকে নতুন কমিটিতে কো-অর্ডিনেটর করা হয়েছে। ঘটনাচক্রে, অখিলকে মঙ্গলবার দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান করা হয়েছে শিশিরকে সরিয়েই।

শিশির শিবিরের একাংশের বক্তব্য, এই ঘটনাপ্রবাহ থেকে স্পষ্ট— জেলার রাজনীতিতে সামগ্রিক ভাবে অধিকারী পরিবারের ‘একাধিপত্য’ খর্ব করতে চাইছেন তৃণমূলের শীর্ষনেতৃত্ব। সেই জন্যই একের পর এক পদ থেকে শিশিরকে সরিয়ে বার্তা দেওয়া হচ্ছে। শিশির শিবিরের এক হিতৈষীর বক্তব্য, ‘‘এ ভাবে কি শিশিরবাবু আর দিব্যেন্দুকে প্রকারান্তরে বিজেপি-র দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে না? দলীয় নেতৃত্ব কি চাইছেন,। ওঁরা সকলেই বিজেপি-তে চলে যান!’’

আরও পড়ুন: অ্যালকেমিস্ট চিট ফান্ড মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন সাংসদ কে ডি সিংহ

Advertisement