পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সরকারি কর্মচারী, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, সরকার নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থা ও পর্ষদের কর্মীদের আবাসনে এ বার বাধ্যতামূলক ভাবে বসানো হতে চলেছে স্মার্ট ইলেকট্রিক মিটার। এই কর্মসূচি দ্রুত ও কার্যকরী ভাবে রূপায়ণের উদ্দেশ্যে সমস্ত স্তরের সরকারি কর্মীদের একটি সুসংহত তথ্যভান্ডার তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করল নবান্ন।
সম্প্রতি রাজ্যের বিদ্যুৎ দফতরের প্রধান সচিবের পক্ষ থেকে অর্থ দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবকে এই বিষয়ে একটি জরুরি চিঠি পাঠানো হয়েছে। গত ১০ জুন রাজ্যের মুখ্যসচিবের দেওয়া নির্দেশিকার সূত্র ধরেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বিদ্যুৎ দফতর সূত্রে খবর, কর্মীদের বাসভবনে স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ নিখুঁত ভাবে সম্পন্ন করতে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে বিশদ তথ্য চাওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় যে ন’টি মূল বিষয়ের উপর ভিত্তি করে তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে সেগুলি হল— কর্মচারীর এইচআরএমএস আইডি, নাম, স্থায়ী ঠিকানা, বর্তমান বাসস্থানের ঠিকানা, অফিসের নাম, হেড অফ অফিস কোড, অফিসের ঠিকানা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মী বাড়িভাড়া ভাতা বা এইচআরএ পান কি না।
আরও পড়ুন:
এর পাশাপাশি, বিদ্যুৎসচিব তাঁর চিঠিতে জানিয়েছেন যে কেবল মূল সরকারি দফতরই নয়, রাজ্য সরকারের অধীনে থাকা বিভিন্ন স্বশাসিত সংস্থা, নিগম এবং পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিংগুলির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এই সমস্ত অনুসারী সংস্থাগুলির একটি পূর্ণাঙ্গ ও পৃথক তালিকা তৈরি করার জন্য অর্থ দফতরের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে, যাতে তাদের থেকেও দ্রুত এই একই বয়ানে কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা যায়।
প্রশাসনের শীর্ষমহলের মতে, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং বিদ্যুৎ বণ্টনে স্বচ্ছতা আনতেই রাজ্য সরকারের এই মেগা পরিকল্পনা। এই বিশাল কর্মকাণ্ডের গতি বাড়াতে এবং তা সফল করতে অর্থ দফতরের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যেই এই চিঠির প্রতিলিপি রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার হিউম্যান রিসোর্স এবং ডিস্ট্রিবিউশন বিভাগের ডিরেক্টরদের পাশাপাশি বিদ্যুৎ দফতরের প্রধান সচিবের আপ্তসহায়ককেও অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে। কর্মীদের এই তথ্যভান্ডার হাতে আসামাত্রই রাজ্য জুড়ে স্মার্ট মিটার বসানোর মূল কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এ বিষয়ে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষক শিক্ষাকর্মীদের বাড়িতে ইলেকট্রিক স্মার্ট মিটার বসানোর দ্বিতীয় ধাপ এগুলো। সব মহল থেকে প্রতিবাদ হওয়া সত্ত্বেও সরকার প্রায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এটা আমরা বন্ধ করাবই।’’