×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৩ জুন ২০২১ ই-পেপার

ছাড়ব আরও ভিডিও ফুটেজ, হুমকি চিঠি শুভ্রাকে

সুনন্দ ঘোষ
কলকাতা ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০৪:৪০

ইডি-র তদন্তকারী অফিসারের সঙ্গে তাঁর ছবি ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে মিডিয়ায়। এর পরে আরও কিছু গোপন ছবি বাজারে ছাড়া হবে বলে শুভ্রা কুণ্ডুকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

রোজ ভ্যালি কর্তা গৌতম কুণ্ডুর স্ত্রী শুভ্রা এবং ইডি অফিসার মনোজ কুমারের বন্ধুত্ব নিয়ে চর্চা চলছে কিছু দিন ধরেই। তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক রোজ ভ্যালি তদন্তে ছাপ ফেলেছে কি না, উঠেছে সেই প্রশ্নও। যে কারণে মনোজকে তদন্তের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশ এবং ইডি, সমান্তরাল ভাবে তদন্ত চালাচ্ছে।

শুভ্রা রবিবারই আনন্দবাজারকে জানিয়েছিলেন, মনোজকে তিনি কঠিন সময়ের বন্ধু বলে মনে করেন। কিন্তু তাই নিয়ে তাঁর চরিত্রহনন করা হচ্ছে কেন, সেটাই তাঁর প্রশ্ন। স্বাভাবিক ভাবেই মনোজের সঙ্গে ছবি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে অনর্গল কাটাছেঁড়া শুভ্রার ভাল লাগেনি। তাঁর দাবি, এতেই শেষ নয়। মনোজের সঙ্গে তাঁর আরও ছবি রয়েছে এবং তা-ও বাজারে ছাড়া হবে বলে তাঁকে কে বা কারা হুমকি দিয়েছে। এই মর্মে যাদবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন শুভ্রা। এ দিন ডিসি (এসএসডি) ভাদনা বরুণ চন্দ্রশেখর বলেন, ‘‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি। এখনও কেউ ধরা পড়েননি।’’

Advertisement

কী ভাবে হুমকি এল? দক্ষিণ কলকাতার এক বহুতলের ফ্ল্যাটে মেয়েকে নিয়ে শুভ্রা থাকেন। তিনি জানান, গত শুক্রবার সকালে ওই বহুতলের ৩৫ তলায় তাঁর ফ্ল্যাটের ডোর-বেল বেজে ওঠে। দরজা খুলে দেখা যায়, সামনে কেউ নেই। শুধু চৌকাঠের সামনে একটি সাদা খাম। খামের উপরে হাতের লেখায় শুভ্রার নাম থাকলেও ভিতরের চিঠিটা ইংরেজি হরফে টাইপ করা। যদিও ভাষা বাংলা। চিঠিতে একটি মোবাইল নম্বর দেওয়া রয়েছে। বলা হয়েছে, শুভ্রার আরও অনেক ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। যা বাইরে এলে সমস্যা বাড়তে পারে।

তবে শুভ্রা ও মনোজের যে ফুটেজ সংবাদমাধ্যম ইতিমধ্যে পেয়েছে, সেটা পুলিশেরই দেওয়া বলে মনে করছে ইডি। ইডি কর্তাদের অভিযোগ, পুলিশ যদি শুভ্রা-মনোজকে নিয়ে তদন্তই করছিল তা হলে ওই ছবি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ নথি। সেই নথি কী করে পুলিশ বাইরে ছড়িয়ে দিল?

এখন প্রশ্ন হল, পুলিশ ছাড়া আর কারও কাছে মনোজ-শুভ্রার ছবি রয়েছে কি? হুমকি চিঠি পাঠালেন কে? শুভ্রার সঙ্গে এ দিন যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘চিঠিটি পাওয়ার পর থেকে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। শুক্রবারেই কলকাতা পুলিশের কয়েক জন অফিসার আমার কাছে এসেছিলেন। তাঁদের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছি।’’ যে বহুতলে শুভ্রা থাকেন, তার প্রায় প্রতিটি কোণই সিসিটিভি ক্যামেরার নজর-বন্দি। ফলে কে ঢুকছে, কে বেরোচ্ছে সহজেই বোঝা সম্ভব। শুভ্রার অভিযোগ, এত নিরাপত্তা ভেদ করে একজন ৩৫ তলা পর্যন্ত উঠে এল কী করে। শুভ্রার দাবি, ওই বহুতলের নিরাপত্তার বিষয়টি যাঁরা দেখভাল করেন তাঁদেরও বিষয়টি জানিয়েছেন।

সোমবার আবার কলকাতা পুলিশের একটি দল শুভ্রার ফ্ল্যাটে গিয়ে জেরা করে তাঁকে। বারবার পুলিশ এসে কী জানতে চাইছে? শুভ্রা বলেন, ‘‘সম্প্রতি পুলিশ এক হাওয়ালা ব্যবসায়ীর সন্ধান পেয়েছে। তাঁর সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল কি না, জানতে চায়।’’

Advertisement