Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৯ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

কর্মীদের চোখের জল অভিশাপ হবে, আবার সরব মুকুল-তনয়

নিজস্ব সংবাদদাতা
নানুর ২৮ জুলাই ২০১৪ ০৩:৪২
অনুব্রত মণ্ডল ও মনিরুল ইসলামের সঙ্গে এক মঞ্চে মুকুল রায়। রয়েছেন মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু (একেবারে বাঁ দিকে) ও সৌমিত্র খাঁ-ও। রবিবার নানুরের বাসাপাড়ায় সোমনাথ মুস্তাফির তোলা ছবি।

অনুব্রত মণ্ডল ও মনিরুল ইসলামের সঙ্গে এক মঞ্চে মুকুল রায়। রয়েছেন মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু (একেবারে বাঁ দিকে) ও সৌমিত্র খাঁ-ও। রবিবার নানুরের বাসাপাড়ায় সোমনাথ মুস্তাফির তোলা ছবি।

ততটা চড়া না হলেও দলের শাসক দলের মধ্যে আত্মসমালোচনার সুর ধরে রাখলেন মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু রায়। তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের আগে দলেরই একাংশের দিকে আঙুল তুলে ‘বোমা’ ফাটিয়েছিলেন বিধায়ক তথা দলের যুব সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি শুভ্রাংশু। বীরভূমের নানুরের বাসাপাড়ায় রবিবার ‘শহিদ দিবসে’ ফের তাঁর বক্তৃতার সিংহ ভাগ জুড়ে শোনা গেল তৃণমূলেরই একাংশের নিন্দা। এ বার বাবার সঙ্গে এক মঞ্চে!

শুভ্রাংশু এ দিন তাঁর বক্তৃতায় বলেন, “দল বা নেত্রীকে মনে রাখলেও বাকিদের আমরা ভুলে যাই। কিন্তু ভুললে চলবে না। কারণ অনেক বুথকর্মী বিভিন্ন বুথে গোপনে চোখের জল ফেলেন। এই চোখের জলই এক দিন অভিশাপ হয়ে দেখা দেবে!” রানাঘাটে কিছু দিন আগে দলীয় এক সভায় শুভ্রাংশু মুখ খুলেছিলেন টেন্ডার-রাজ থেকে গরু পাচার বা সাট্টা-জুয়ার ঠেকের দখল নিয়ে শাসক দলের মধ্যে রেষারেষির দিকে। দলের একাংশের প্রতি মুকুলের বার্তাই তাঁর বিধায়ক-পুত্র পাঠ করেছিলেন কি না, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল তৃণমূলের অন্দরে। ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতা হওয়ার জন্য বলেছিলেন, নেতা হওয়ার জন্য ‘লবি’ করার দরকার নেই। বলেছিলেন, বক্তৃতা করেই নেতা হওয়া যায় না। তাঁর সে সব মন্তব্যে শুভ্রাংশুদের প্রতিই বার্তা ছিল, এমনও ব্যাখ্যা হয়েছিল তৃণমূলে। বোঝা যাচ্ছে, ব্যাখ্যা-বিতর্ক যা-ই হোক, আত্মসমালোচনার ধারা বজায় রেখেই চলছেন মুকুল-পুত্র।

আগের বারের মতো না হলেও এ বারও তাঁর বক্তব্যের পরে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, যে নানুর অনুব্রত মণ্ডলের বিরোধী শিবির শেখ শাহনওয়াজ ও কাজল শেখের খাস তালুক, সেখানেই কেন এমন বললেন শুভ্রাংশু? তাঁর এ দিনের বক্তব্য পুরোপুরি আত্মসমালোচনার সুরে। কিন্তু তার মধ্যেই দলের একাংশের প্রতি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা স্পষ্ট। নানুরের সভায় এ দিন অবশ্য দুই শিবিরের জেলা নেতৃত্বকেই দেখা গিয়েছে। ছিলেন লাভপুরের বিতর্কিত বিধায়ক মনিরুল ইসলাম, যুব তৃণমূল সভাপতি সৌমিত্র খানও।

Advertisement

বীরভূম জেলা তৃণমূলের অভ্যন্তরে শাহনওয়াজ ও কাজলের অনুগামীদের ক্ষোভ নতুন নয়। বারংবার অনুব্রতের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমের কাছে তাঁদের মুখ খুলতেও শোনা গিয়েছে। এবং জেলায় দলে তাঁদের ক্ষমতার বিন্যাস থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এলাকায় তৃণমূলের ভিত গড়ে তোলার জন্য নানুরের মাঠে ২৭ জুলাইয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে অতীতে তৃণমূল নেত্রী মমতা শাহনওয়াজ ও কাজলের নাম করলেও এখন কার্যত কোণঠাসা দুই ভাই।

শুভ্রাংশু এ দিন বলেন, “আমরা যে এই মঞ্চে আছি, তার জন্য তিন জনের কাছে ঋণী। প্রথম জন হলেন দলনেত্রী বা দল। দ্বিতীয় জন, যাঁরা আমাদের ভোট দিয়েছেন। তৃতীয় জন হলেন আপনারা, যাঁরা বুথকর্মী। লড়াই করে আমাদের জিতিয়েছেন। অথচ লড়াইয়ের কথাটাই আমাদের অজানা থেকে যায়! এমনকী, আমার হয়ে যিনি দেওয়ালে আমার নাম লিখেছিলেন, ভোটে জেতার পরেও তাঁর নামটা আমাদের জানা হয় না!”

নানুরের মঞ্চে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুলবাবু অবশ্য বিতর্কিত কোনও প্রসঙ্গে যাননি। তাঁর নিশানায় ছিল বিজেপি। মুকুলবাবু বলেন, “বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগে কাউকে কাউকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘আচ্ছে দিন আনেওয়ালা হ্যায়’! হ্যাঁ, আচ্ছে দিনই এসেছে। মাত্র দু’মাসেই তার নমুনা দেখা গিয়েছে!” তাঁর বক্তব্য, রেলের ভাড়া যে ভাবে ১৪% বাড়ানো হয়েছে, স্বাধীনতার পরে কখনও তা হয়নি। ভর্তুকি কমিয়ে একে একে বাড়ানো হয়েছে কেরোসিন, গ্যাস-সহ নানা নিত্য সামগ্রীর দাম। মুকুলবাবুর মন্তব্য, “পাঁচ বছরে মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পাবে, কী এক আচ্ছে দিন এসেছে!”

আরও পড়ুন

Advertisement