Advertisement
E-Paper

ধর্না-কাণ্ডে চন্দ্রিমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের সুপ্রিম কোর্টে

সারদা কাণ্ডে সিবিআই তৃণমূলের নেতাদের ধরপাকড় শুরু করতেই কলকাতায় সিবিআই দফতরের সামনে ধর্নায় বসেছিলেন রাজ্যের আইনমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সেই কারণে তাঁর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার মামলা হল। শীর্ষ আদালতে আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছে, সিবিআইয়ের উপর চাপ তৈরি করতেই পশ্চিমবঙ্গের আইনমন্ত্রী নিজে ধর্নায় বসেছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ০৩:৪১
সে দিন ধর্নায় কৃষ্ণা চক্রবর্তী, সোনালি গুহ ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।- ফাইল চিত্র

সে দিন ধর্নায় কৃষ্ণা চক্রবর্তী, সোনালি গুহ ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।- ফাইল চিত্র

সারদা কাণ্ডে সিবিআই তৃণমূলের নেতাদের ধরপাকড় শুরু করতেই কলকাতায় সিবিআই দফতরের সামনে ধর্নায় বসেছিলেন রাজ্যের আইনমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সেই কারণে তাঁর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার মামলা হল। শীর্ষ আদালতে আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছে, সিবিআইয়ের উপর চাপ তৈরি করতেই পশ্চিমবঙ্গের আইনমন্ত্রী নিজে ধর্নায় বসেছেন। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের সঙ্গে বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেপুটি স্পিকার সোনালি গুহ ও বিধাননগর পুরসভার চেয়ারপার্সন কৃষ্ণা চক্রবর্তীও ধর্নায় বসেছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধেও আদালত অবমাননার অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হোক।

সারদা কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের আবেদন জানিয়ে কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নানের তরফেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হয়। এ বারও আবদুল মান্নানের উদ্যোগেই মামলা করেন আইনজীবী শুভাশিস ভৌমিক। মে মাসে বিচারপতি টি এস ঠাকুরের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সারদা ও অন্যান্য অর্থলগ্নি সংস্থার কেলেঙ্কারিতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই বেঞ্চের কাছেই আবেদন জানানো হচ্ছে। আবেদনকারীদের প্রধান বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য, পুলিশ ও অন্যান্য সব সংস্থাকে সিবিআই তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তো তা করছেই না। উল্টে সিবিআইয়ের উপরে চাপ তৈরি করছে।

গত ১১ সেপ্টেম্বর সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সের সামনে ধর্নায় বসেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সঙ্গে ছিলেন সোনালি ও কৃষ্ণা। ওই ধর্নার আগেই কৃষ্ণার স্বামী, সমীর চক্রবর্তীকে জেরা করেছিল সিবিআই। গ্রেফতার করা হয় রজত মজুমদারকে। জেলে বসে লেখা কুণাল ঘোষের বিবৃতিও আনন্দবাজারে ফাঁস হয়ে যায়। যেখানে তিনি ডেলোর বাংলোয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সুদীপ্ত সেনের বৈঠকের কথা জানান। সিবিআইয়ের প্রধান ইঙ্গিত দেন, ওই বৈঠকেরও তদন্ত হবে। এর পরেই চন্দ্রিমাদের ধর্না।

ধর্নায় বসার কারণ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের আইনমন্ত্রীর যুক্তি ছিল, সুপ্রিম কোর্ট সিবিআইকে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সিবিআই নিরপেক্ষ তদন্ত করছে না। বেছে বেছে তৃণমূল নেতাদের জেরা করা হচ্ছে। যা আসলে তৃণমূলকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা। আনন্দবাজার পত্রিকার তরফে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে সে কথা বলছেন না কেন? জবাব দেননি চন্দ্রিমা।

সুপ্রিম কোর্টে আজ দায়ের হওয়া মামলায় ঠিক সেই প্রশ্নটিই তোলা হয়। আবেদনকারীদের বক্তব্য, যাঁরা ধর্নায় বসেছেন, তাঁরা নিজেদের সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে অবহিত। ইচ্ছাকৃত ভাবে তাঁরা আমজনতাকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে খাড়া করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের দরজায় আসার আবেদন করেননি। আবদুল মান্নান বলেন, “রাজ্য সরকার দিশেহারা হয়ে গিয়েছে। ওড়িশা, অসমের মতো অন্য রাজ্য সিবিআই তদন্তে সহযোগিতা করছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও মন্ত্রীরা আদালতের যে অবমাননা করছেন তা নয়, আদালতকে চ্যালেঞ্জ করছেন।” সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া মামলায় বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৪২তম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট তাঁর নির্দেশ কার্যকর করার জন্য ব্যবস্থা নিতে পারে। ১৪৪তম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যে কোনও সংস্থাকে এ জন্য নির্দেশ দিতে পারে।

আইনমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। বিধাননগর পুরসভার চেয়ারপার্সন কৃষ্ণা চক্রবর্তী বলেন, “মহামান্য আদালতের নির্দেশ কোনও দিনই অমান্য করিনি। সিবিআইয়ের কাজেও বাধা দিইনি। আইন আইনের পথে চলবে। আদালতের রায় মাথা পেতে নেব।” কৃষ্ণাদেবীর বক্তব্য, তাঁরা সিবিআইকে বার্তা দিতে চেয়েছেন, যাঁদের আমলে সারদা গোষ্ঠী তৈরি হল, তাঁদের সকলকেও তদন্তের স্বার্থে সিবিআই ডাকুক।

তৃণমূলের আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাখ্যা, “ওঁরা সরকারি ভূমিকায় ওখানে যাননি। ওঁরা তো দলেরও কর্মী, নেত্রী। সেই হিসেবেই দলের কর্মসূচি পালন করতে গিয়েছিলেন।” তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায় শুধু এটুকুই বলেছেন যে, মামলা যখন হয়েছে, মামলা লড়া হবে।

পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ওড়িশায় বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার কারবারেও সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গের মতো ওড়িশায় সিবিআই তদন্তের আবেদনকারী অলোক জেনাও সুপ্রিম কোর্টে আসার কথা ভাবছেন। গতকাল ওড়িশার প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল অশোক মোহান্তিকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। তিনি একটি বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সিবিআইয়ের গ্রেফতারির বিরুদ্ধে ওড়িশার আইনজীবীদের একাংশ সিবিআই দফতরের সামনে ধর্নায় বসার হুমকি দিয়েছেন। অলোকবাবুর বক্তব্য, তেমন কিছু হলে তিনিও সুপ্রিম কোর্টে মামলা করবেন। আজ সিবিআইয়ের অধিকর্তা রঞ্জিত সিন্হার সঙ্গে দেখা করেন অলোক। তাঁর অভিযোগ, ওড়িশার সিবিআই তদন্তকারী দলটিতে আরও অফিসার প্রয়োজন। সিবিআই ১৮ জন সাংসদ-বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস দিয়েছে। কিন্তু অনেকেই নানা অজুহাত দেখিয়ে সিবিআইয়ের সামনে হাজির হচ্ছেন না। অলোক জেনার দাবি, সিবিআই অধিকর্তা তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন, কেউ নিজে থেকে হাজির না হলে সিবিআই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করতে পারে।

chandrima bhattacharyay cbi probe debjani sudipto sen saradha scam
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy