নিম্ন আদালতে বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত জট কাটল অবশেষে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। নিম্ন আদালতের ২৯টি শূন্যপদে সিভিল জাজ নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে মামলা হয়েছিল। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বাধা দেয়নি আদালত। খারিজ করে দেওয়া হয়েছে মামলাকারীদের আপত্তি।
নিম্ন আদালতের বিচারক পদে শূন্যস্থান এবং সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে আদালতে মামলা হয়। ২০২২ সালের ৩০ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ২৯টি শূন্যপদের কথা জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে সরাসরি শূন্যপদ (ক্লিয়ার ভ্যাকেন্সি) ছিল ১২টি। এ ছাড়া, আসন্ন শূন্যপদ (অ্যান্টিসিপেটেড ভ্যাকেন্সি) ছিল ১৭টি। কোন ক্ষেত্রে কতগুলি পদ সংরক্ষিত থাকবে, তা-ও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
সরাসরি শূন্যপদের ১২টির মধ্যে তফসিলি জাতি, জনজাতি, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি একটি করে শূন্যপদ সংরক্ষিত পেয়েছিল। বাকি আটটি পদ ছিল অসংরক্ষিত। আসন্ন শূন্যপদের ১৭টির মধ্যে তফসিলি জাতির জন্য দু’টি, জনজাতির জন্য একটি পদ সংরক্ষিত ছিল। ওবিসি-এ দু’টি এবং ওবিসি-বি পেয়েছিল একটি শূন্যপদ। বিশেষ ভাবে সক্ষমদের জন্যেও একটি পদ রাখা ছিল। আসন্ন শূন্যপদের ১০টি ছিল অসংরক্ষিত।
বিচারক পদে নিয়োগের প্রক্রিয়ায় মূলত তিনটি ধাপ রয়েছে— প্রথমে প্রারম্ভিক পরীক্ষা (এমসিকিউ), তার পর মূল লিখিত পরীক্ষা এবং শেষে ইন্টারভিউ। এর পর পিএসসি (পাবলিক সার্ভিস কমিশন) একটি মেধাতালিকা প্রকাশ করে এবং নিয়োগ হয় তার ভিত্তিতে। মামলাকারীরা এই নিয়োগেই আপত্তি তোলেন। তাঁদের বক্তব্য, ২৯টি শূন্যপদকে একসঙ্গে ধরে নিয়োগপ্রক্রিয়া এগোনো উচিত ছিল। তবেই অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি হত এবং মামলাকারীরা চাকরি পেতেন। এই আপত্তি হাই কোর্টে ধোপে টেকেনি। উচ্চ আদালত জানিয়েছিল, সরসারি এবং আসন্ন শূন্যপদ আলাদা করে নিয়োগই আইনসম্মত এবং যুক্তিসঙ্গত। তা ছাড়া, বিজ্ঞপ্তিতে এই শর্ত দেওয়াই ছিল। ফলে আগে থেকেই সকলে তা জানতেন। পিএসসি-র সিদ্ধান্তে কোনও ভুল নেই, জানিয়ে দেয় আদালত।
সুপ্রিম কোর্টে শুক্রবার এই মামলার শুনানি ছিল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে। নিয়োগে আপত্তি তুলে করা মামলা খারিজ করে দিয়েছে আদালত। ফলে বিচারক নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আর কোনও বাধা রইল না। মামলাকারীদের হয়ে শীর্ষ আদালতে লড়েছেন আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের বক্তব্য ছিল বর্তমান এবং ভবিষ্যতের শূন্যপদ আলাদা না করে এক সঙ্গে করা উচিত। কারণ, সে ক্ষেত্রে মেধাতালিকা ধরে পুরোটা নিয়োগ করা যেত। এমনকি, ওবিসিদের জন্য অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি হত। তাঁরাও নিয়োগে সুযোগ পেতেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট মামলা খারিজ করার ফলে এই নিয়োগ স্বাভাবিক ভাবে চলবে। আর কোনও জট রইল না।’’