ইরান এবং ইজ়রায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির আঁচ এ বার ভারতে। দু’পক্ষের আক্রমণ এবং প্রতি আক্রমণের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ঊর্দ্ধমুখী। ফলে দাম বৃদ্ধি হয় রান্নার গ্যাসেরও। এ বার আচমকা বন্ধ হয়ে গেল সিলিন্ডারের সরবরাহ।
যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে কর্নাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে দেখা দিয়েছে বাণিজ্যিক সিলিন্ডার সরবরাহের অভাব। ফলে শহর জুড়ে সমস্ত হোটেল এবং রেস্তরাঁ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেঙ্গালুরুর হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সোমবার তাদের তরফে এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, আচমকা বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হোটেলের উপর নির্ভরশীল বহু মানুষ সমস্যায় পড়বেন। তারা জানায়, হোটেল পরিষেবার মতো একটি জরুরি পরিষেবা— যেখানে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিক বা ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে মেডিক্যাল পেশায় যুক্ত মানুষেরা প্রতি দিন নির্ভর করে থাকেন তাদের খাবারের উপর। ফলে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের সরবরাহ চালিয়ে না গেলে একে একে সমস্ত হোটেল এবং রেস্তরাঁ বন্ধ করে দিতে তারা বাধ্য হবে। ফলে উপরোক্ত সকলে সমস্যায় পড়বেন।
বেঙ্গালুরুর হোটেল সংগঠনের এক আধিকারিক জানান, জ্বালানির সরবরাহকারী কোম্পানিগুলি এর আগে জানিয়েছিল যে তাদের কাছে যত জ্বালানি মজুত রয়েছে। তাতে আগামী ৭০ দিন সরবরাহ কোনও সমস্যা হবে না। কিন্তু তার পর হঠাৎ এই ভাবে সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন হোটিল সংগঠনের মালিক-সহ এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত থাকা বহু মানুষ। তাই তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করার জন্য। না হলে আগামী ১০ মার্চ থেকে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে হোটেল সংগঠনগুলি।
প্রসঙ্গত, ইরান এবং ইজ়রায়েলের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বন্ধ রয়েছে হরমুজ প্রণালী, যেখান দিয়ে বিশ্ব বাজারে সিংহভাগ আমদানি-রফতানি হয় তেলের। তার জেরেই শুধু ভারত নয়, জ্বালানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে গোটা বিশ্বে।