Advertisement
E-Paper

মমতার এসআইআর মামলা সোমবার ফের উঠবে সুপ্রিম কোর্টে! গত শুনানিতে প্রধান বিচারপতি দেন তিন নির্দেশ

গত শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন এজলাসে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের কাছে নিজের বক্তব্যও জানান তিনি। হঠাৎ কেন তিন মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ করার চেষ্টা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:৩৪
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি রয়েছে।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি রয়েছে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

সোমবার ফের পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। শুনবে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মামলারও শুনানি হবে প্রধান বিচারপতির এজলাসে।

এর আগে গত বুধবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চে। ওই দিন শুনানির সময়ে এজলাসে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতাও। আইনজীবীদের সঙ্গে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে তিনি নিজেও বক্তব্য জানান। এসআইআর নিয়ে রাজ্যের একাধিক সমস্যার কথা তিনি তুলে ধরেন প্রধান বিচারপতি কান্তের এজলাসে।

গত শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টে সশরীরে উপস্থিত থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুধু পশ্চিমবঙ্গকেই নিশানা করা হয়েছে। হঠাৎ কেন তিন মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ করার চেষ্টা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন রাজ্যে যে অনেকের মৃত্যু হয়েছে, তা-ও তুলে ধরেন মমতা। তিন বিচারপতির বেঞ্চের উদ্দেশে মমতা বলেন, “১০০ জনের বেশি মারা গিয়েছেন। ভাবতে পারেন!” গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী।

ওই দিনের শুনানিতে মমতার হয়ে আদালতে সওয়াল করেছেন আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান। তিনি আদালতে জানান, তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকায় থাকা ভোটারদের নাম কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে এবং কী অসঙ্গতি রয়েছে, তা উল্লেখ করতে হবে। প্রধান বিচারপতিও বলেন, ‘‘ভোটারকে অবশ্যই জানতে হবে কেন তার নাম তালিকায় রয়েছে। প্রশ্ন হল, কোন পদ্ধতিতে জানানো হবে।’’ রাজ্যের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়, শুধু তো তালিকা নয়, ব্যক্তিগত ভাবে ভোটারদের নোটিসও পাঠানো হচ্ছে। সেখানে কারণ লেখা থাকছে।

মমতার আরও অভিযোগ, ৭০ লক্ষ মানুষকে নামের বানানের কারণে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। শুধু পদবির ইংরেজি বানানের রকমফেরের জন্য শুনানিতে তলবের উদাহরণও দেন মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘২০০২ সালের ভোটার তালিকা ছিল বাংলায়। অনুবাদের সময় এই সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক। রাজ্য সরকার যদি বাংলা ও স্থানীয় উপভাষা বোঝেন, এমন কর্মকর্তাদের টিম দেয়, তবে তাঁরা যাচাই করে জানালে নির্বাচন কমিশনের কাজ সহজ হবে। এই কারণে প্রকৃত ভোটারকে বাদ দেওয়া যাবে না।’’

গত বুধবারের শুনানির পরে তিনটি নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। আদালত নির্দেশ দেয়, নামের ছোট ভুলে কাউকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। বাংলা ভাষায় দক্ষ অফিসারেরা এই কাজে নিযুক্ত হলে আর মাইক্রো অবজ়ার্ভারের প্রয়োজন হবে না, এমন মন্তব্যও করে সুপ্রিম কোর্ট। সওয়াল-জবাব পর্বে কমিশনের আইনজীবী জানান, এসআইআর-এর কাজের জন্য রাজ্য সরকার পর্যাপ্ত গ্রুপ-বি অফিসার দেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে অন্য রাজ্য থেকে মাইক্রো অবজ়ার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ, সোমবারের মধ্যেই রাজ্য সরকারকে জানাতে হবে, তারা বাংলা ভাষায় সাবলীল কত জন গ্রুপ-বি অফিসারকে দিতে পারবে। পাশাপাশি, ভোটারদের শুনানির নোটিস ধরানোর সময় কমিশনকে আরও সতর্ক হতে হবে বলেও জানিয়েছিল আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে ইতিমধ্যে কমিশনকে নিজেদের বক্তব্য জানিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। জানা যাচ্ছে, এসআইআর-এ কাজের জন্য কমিশনকে ৮,৫০৫ জন গ্রুপ-বি আধিকারিক দিতে পারবে রাজ্য। পিটিআই জানাচ্ছে, এই মর্মে ইতিমধ্যে নবান্নের তরফে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কমিশনকে।

Supreme Court SIR Election Commission Mamata Banerjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy