Advertisement
২৮ জানুয়ারি ২০২৩
গজলডোবা নিয়ে উদ্যোগ

ভোরের আলো ফোটাতে তৎপরতা পর্যটন দফতরের

এই মুহুর্তে অশান্তি চলছে দার্জিলিংয়ে৷ ফলে পাহাড়মুখো হচ্ছেন না পর্যটকরা৷ আবার বর্ষার জন্য বন্ধ ডুয়ার্সও৷ এর ফলে যারা পাহাড়ের বদলে ডুয়ার্স বেড়াতে যাবেন ভেবেছিলেন, পর্যটকদের সেই অংশটাও হতাশ৷ সূত্রের খবর, এই অবস্থায় সমতলে পর্যটনের সুযোগ বাড়াতে মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্পকে দ্রুত বাস্তবায়নের পথে হাটতে চাইছে পর্যটন দফতর৷

পরিদর্শন: তিস্তার পাড়ে পর্যটন হাবের এলাকা ঘুরে দেখলেন পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব। রবিবার। নিজস্ব চিত্র

পরিদর্শন: তিস্তার পাড়ে পর্যটন হাবের এলাকা ঘুরে দেখলেন পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব। রবিবার। নিজস্ব চিত্র

নিজস্ব সংবাদদাতা
জলপাইগুড়ি শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০১৭ ১৩:০০
Share: Save:

পাহাড় যখন অশান্তির আগুনে পুড়ছে, ঠিক তখন গজলডোবায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্পে ‘ভোরের আলো’ ফোটাতে আরো বিশেষ করে তৎপর হল রাজ্যের পর্যটন দফতর৷

Advertisement

ঠিক হয়েছে এ জন্য এ মাসের শেষে ও জুলাইয়ে শিলিগুড়ি কলকাতায় দু’টি ইনভেস্টর মিট হবে৷ যারা এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, পর্যটন দফতরের তরফে তাঁদেরও দ্রুত কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে৷

এই মুহুর্তে অশান্তি চলছে দার্জিলিংয়ে৷ ফলে পাহাড়মুখো হচ্ছেন না পর্যটকরা৷ আবার বর্ষার জন্য বন্ধ ডুয়ার্সও৷ এর ফলে যারা পাহাড়ের বদলে ডুয়ার্স বেড়াতে যাবেন ভেবেছিলেন, পর্যটকদের সেই অংশটাও হতাশ৷ সূত্রের খবর, এই অবস্থায় সমতলে পর্যটনের সুযোগ বাড়াতে মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্পকে দ্রুত বাস্তবায়নের পথে হাটতে চাইছে পর্যটন দফতর৷

গজলডোবায় ২০৮ একর জমির উপর তৈরি হবে এই ইকো ট্যুরিজম হাব৷ যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভোরের আলো’৷ পর্যটন দফতর সূত্রের খবর, তিনটি সংস্থা ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পে বিনিয়োগের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ যার মধ্যে একটি সংস্থা প্রকল্পের কাজ শুরুর ব্যাপারে দু’বছর সময় চেয়েছে৷ তবে বাকি দু’টি সংস্থা দ্রুত কাজ শুরু করবে বলে আশা দফতরের কর্তাদের৷ পর্যটন দফতর সূত্রের খবর, এ ছাড়াও আরও দশটি সংস্থা এই হাবে প্রকল্প তৈরিতে আগ্রহী৷

Advertisement

তবে এর বাইরেও আরও বিনিয়োগকারীদের সন্ধানে পর্যটন দফতর ইনভেস্টর মিট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব জানান, এ মাসের ৩০ তারিখ শিলিগুড়িতে একটি ইনভেস্টর মিট হবে৷ জুলাই মাসে কলকাতায় আরেকটি ইনভেস্টর মিট হবে৷ এরপর পুজোর আগেই এই হাবের বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য নতুন টেন্ডারের ডাক দেওয়া হবে৷ পর্যটনমন্ত্রী জানান, অনেকেই এই হাবে প্রকল্প তৈরিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন৷

গজলডোবায় ইকো ট্যুরিজম হাব নিয়ে এদিন সেখানে একটি বৈঠক করেন পর্যটনমন্ত্রী৷ বৈঠকে পর্যটন দফতরের কর্তাদের পাশাপাশি, জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনের কর্তারা, পুর্ত, সেচ, বন, বিদ্যুৎ সহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন৷ বৈঠকে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজ্য সরকারের এই দফতরগুলি কী ভাবে তাদের কাজ এগোচ্ছে তা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন মন্ত্রী৷

বৈঠক শেষে মন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পের জন্য গজলডোবা থেকে লাটাগুড়ি পর্যন্ত একটি বিকল্প রাস্তা তৈরি হবে৷ যার জেরে এই দুই এলাকায় দূরত্ব প্রায় ২৯কিলোমিটার কমে যাবে৷ এ ছাড়াও ছয়টি সেতু করবে পূর্ত দফতর৷ এর মধ্যে আমবাড়িতে করতোয়া নদীর ওপর সেতুটি ছাড়া বাকি সেতুগুলির কাজ ২-৩ মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে৷ এ ছাড়াও পূর্ত দফতর একটি সেতু করবে বলে জানান মন্ত্রী৷

মন্ত্রী জানান, বন দফতরের তরফে এখানে আসা পর্যটকদের জন্য জঙ্গল সাফারীর ব্যবস্থা হবে৷ প্রকল্প এলাকায় তৈরি হবে হাতির পিলখানা ও মিউজিয়াম৷ যুব কল্যাণ দফতর একটি যুব আবাস গড়ার কাজ শুরু করেছে৷ এ ছাড়াও সেখানে পাঁচ একর জমির উপর একটি হোটেল ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট হবে বলে মন্ত্রী জানান৷ এছাড়া ওভারহেড তারের বদলে মাটির নীচ দিয়ে তার এনে ওদলাবাড়ি ও নিউ জলপাইগুড়ি থেকে প্রকল্প এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করার পরিকল্পনা নিয়েছে পর্যটন দফতর৷

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.