Advertisement
E-Paper

নতুন বন্দে ভারত স্লিপারের টিকিট কাটছেন? খাবার কিন্তু সব ‘ভেজ’! আইআরসিটিসি-র ওয়েবসাইট তেমনই দেখাচ্ছে

বন্দে ভারতে বরাবরই যাত্রীদের আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে খাবার। স্লিপার এক্সপ্রেসটিতে খাবারের যে মেনু তৈরি করা হয়েছে, তাতে কেবলই নিরামিষ খাবার রয়েছে। আমিষ বেছে নেওয়ার সুযোগই নেই।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:১১
রেলের ওয়েবসাইটে বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসের খাবারে কেবলই নিরামিষ।

রেলের ওয়েবসাইটে বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসের খাবারে কেবলই নিরামিষ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ এবং অসম। হাওড়া থেকে কামাখ্যা রুটে সপ্তাহে ছ’দিন চলবে এই ট্রেন। তবে তাতে খাবার কিন্তু শুধুই ‘ভেজ’। আমিষ খাবার বেছে নেওয়ার কোনও সুযোগ পাচ্ছেন না যাত্রীরা। বৃহস্পতিবার থেকে জনসাধারণের জন্য বন্দে ভারত স্লিপারের চাকা ঘুরবে। অনলাইন মাধ্যমে এই ট্রেনের টিকিট যাঁরা কাটছেন, তাঁদের সামনে কেবল নিরামিষ খাবারের তালিকাই থাকছে। আমিষের বিকল্প দেওয়া হচ্ছে না। যা নিয়ে ইতিমধ্যে বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে।

এই মুহূর্তে দেশে প্রচলিত এক্সপ্রেস ট্রেনগুলির মধ্যে বন্দে ভারত অত্যন্ত জনপ্রিয়। আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে ট্রেনের গতি, সজ্জা এবং অবশ্যই খাবার। বন্দে ভারতে যে খাবার পরিবেশন করা হয়, যাত্রীরা অনেক ক্ষেত্রেই তার প্রশংসা করেছেন। কিছু দিন আগে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বন্দে ভারতের স্লিপার এক্সপ্রেসের মেনু ঘোষণা করেন। দাবি, পশ্চিমবঙ্গ এবং অসমের বিশেষ খাবারগুলি দিয়ে এই ট্রেনের মেনু সাজানো হয়েছে। কিন্তু কেন তাতে আমিষ খাবার রাখা হল না, প্রশ্ন উঠেছে। নেপথ্যে রাজনৈতিক কারণও দেখছেন কেউ কেউ।

আনন্দবাজার ডট কম-এর তরফে এ বিষয়ে জানার জন্য পূর্ব রেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে তারা প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়েছে। পূর্ব রেলের জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তিময় দত্ত বলেন, ‘‘খাবারের বিষয়টি আইআরসিটিসি দেখে। খাবারের মেনু কী হবে, তা ওরাই বলতে পারবে।’’ আইআরসিটিসি-র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের এক আধিকারিক বলেছেন, ‘‘বন্দে ভারত স্লিপার ক্লাসে আমরা স্থানীয় খাবারের উপর জোর দিচ্ছি। যে এলাকায় যে খাবার বিখ্যাত, সেই খাবার পরিবেশন করা হবে।’’ আমিষ-নিরামিষ বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তর দেননি তিনি।

বন্দে ভারত স্লিপারের নিরামিষ মেনু নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী। বলেছেন, ‘‘বাংলায় এসে এই গাড়ি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিজেপি বাঙালির মাছ-ভাতের থালার উপর বন্দে ভারত চালাতে চাইছে। পাল্টা বাংলার মানুষ বিধানসভা ভোটে বিজেপির দৃষ্টিভঙ্গির উপর দিয়ে আন্দোলন লোকাল চালাবে।’’ ঘটনাচক্রে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন রেলমন্ত্রী ছিলেন, সেই সময়ে সিঙ্গুর আন্দোলনকে স্বীকৃতি দিতে সিঙ্গুর-হাওড়া আপ এবং ডাউন এক জোড়া লোকাল ট্রেনের নাম দিয়েছিলেন আন্দোলন লোকাল। যা এখনও চলে। বিজেপি অবশ্য সাবধানি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁর সংক্ষিপ্ত উত্তর, ‘‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে জানাব।’’

কী আছে বন্দে ভারত স্লিপারের মেনুতে? রেলমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, হাওড়া থেকে যে ট্রেনটি ছাড়বে, তাতে মূলত বাঙালি খাবার পরিবেশন করা হবে। তালিকায় থাকছে বাসন্তী পোলাও, ছোলার ডাল বা মুগ ডাল, ঝুরি আলু ভাজা, ছানা বা ধোকার ডালনা, লাবড়া, সন্দেশ, রসগোল্লা। আবার, অসম থেকে হাওড়ার দিকে আসবে যে ট্রেন, তাতে মূলত অসমের খাবার প্রাধান্য পাবে। মেনুতে থাকবে সুগন্ধি জোহা ভাত, মাটি মাহর ডালি, মুসুর ডালি, মরসুমি সব্জির ভাজাভুজি এবং নারকেল বরফি। এ ছাড়া, চা-কফি থাকছে। ট্রেন থেকে আলাদা করে খাবার কিনেও খেতে পারবেন যাত্রীরা।

হাওড়া থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে বন্দে ভারত স্লিপার ছাড়বে। কামাখ্যায় তা পৌঁছোবে পরের দিন সকাল ৮টা ২০ মিনিটে। আবার কামাখ্যা থেকে ট্রেনটি ছাড়বে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে। তা হাওড়ায় পৌঁছোবে পরের দিন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে।

Vande Bharat Sleeper veg food IRCTC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy