Advertisement
E-Paper

দিদির ‘দুর্গে’ সিঁদ কাটতে মহিলা ভোটে নজর বিজেপির! ৫,৭০০ কোটির বরাদ্দ নিয়ে প্রচার শুরু, তৃণমূলের ‘অস্ত্র’ উন্নাও-হাথরস

রাজ্যে সংখ্যালঘু ভোটের পাশাপাশি মহিলা ভোটও বার বার মমতার সহায় হয়েছে। সে কথা মমতা নিজেও জানেন বলেই ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ চালু করেছিলেন। যে ভান্ডারের বরাদ্দ ভোটের আগে আরও বাড়ানো হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২৬ ০৯:৫৮
BJP preaches 5700 Cr fund for Women to win over Didi’s vote bank, TMC strikes back with Unnao-Hathras context

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বিজেপির নজরে মহিলা ভোট! তাই মহিলাদের জন্য একের পর এক প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পকে বিজেপি নেতারা এখন আর কটাক্ষ করছেন না। বরং ক্ষমতায় এলে সেই প্রকল্পে ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর কথা বার বার ঘোষণা করছেন। অতঃপর তার সঙ্গে জুড়ল ‘নারী ক্ষমতায়নে’ বিশেষ তহবিল গড়ার ঘোষণাও। দিদির বাঁধা ‘ভোটব্যাঙ্কের’ অন্যতম স্তম্ভ মহিলা ভোট। সেই ব্যাঙ্কে হানা দিতেই বিজেপির এই কৌশল।

তবে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর ভাতা বৃদ্ধির জেরে এই বিধানসভা নির্বাচনেও মহিলা ভোট ধরে রাখার বিষয়ে ‘আত্মবিশ্বাসী’ তৃণমূল। তবে আত্মসন্তুষ্টিতে না-ভুগে পাল্টা অস্ত্রেও শান দেওয়া শুরু করছে রাজ্যের শাসক দল।

রাজ্যে সংখ্যালঘু ভোটের পাশাপাশি মহিলা ভোট বার বার মমতার সহায় হয়েছে। বিজেপির ‘হিন্দুত্ববাদী’ রাজনীতির বিরোধিতার প্রশ্নে পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে শক্তিশালী বিকল্প তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক প্রায় অটুট থেকেছে। কিন্তু মহিলা ভোটারদের সামনে তেমন ‘বাধ্যবাধকতা’ নেই। সেই কারণে পরামর্শদাতা সংস্থার পরিকল্পনায় মমতা ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্প চালু করেছিলেন। একই কারণে বিজেপি-ও ‘লক্ষীর ভান্ডার’ প্রকল্পে ভাতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিতে শুরু করেছে। কারণ, বিজেপি জানে সংখ্যালঘু ভোটে ভাগ বসানো তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। কিন্তু মমতার ঝুলি থেকে মহিলা ভোট বার করে আনার চেষ্টা করা যেত পারে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গত ২ মার্চ দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘির জনসভা থেকে ঘোষণা করেছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলাদের নিরাপত্তা ও উপার্জন নিশ্চিত করতে ৫,৭০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হবে। শাহের সেই ঘোষণাকে এ বার বিশদ বিবরণ-সহ প্রচার করতে শুরু করেছে বিজেপি। তার জন্য লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে বিশদে তুলে ধরা হয়েছে ৫,৭০০ কোটি টাকার তহবিলের বিষয়টি। লেখা হয়েছে, ‘পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং আর্থসামাজিক অগ্রগতির বিষয়ে বিজেপি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। মহিলাদের ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত উদ্যোগের জন্য ৫,৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে।’ ওই টাকা কী ভাবে খরচ হবে, সরাসরি মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যাবে কিনা, তার কোনও ইঙ্গিত বিজেপির বিবৃতিতে নেই। সেখান লেখা হয়েছে, ‘মহিলাদের জন্য উপার্জনের বন্দোবস্ত সংক্রান্ত প্রকল্প, দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, শিক্ষা এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থার জন্য এই তহবিল খরচ করা হবে। সুনিশ্চিত করা হবে যে, পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের সত্যিকারের ক্ষমতায়ন ঘটছে। তাঁরা শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্ক হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছেন না।’

বিজেপি ক্ষমতায় এলে কি ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের চেহারা বদলে যাবে? ভাতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ বা দক্ষতা বৃদ্ধির কর্মসূচি জুড়ে যাবে? বিজেপির বিবৃতিতে তেমন কিছু লেখা নেই। তবে বিজেপির ইস্তেহার তৈরির দায়িত্বে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের কারও কারও দাবি ৫,৭০০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত তহবিলের সঙ্গে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের কোনও সম্পর্ক নেই। মহিলাদের স্বনির্ভর ও নিরাপদ করে তুলতে ওই তহবিল সম্পূর্ণ আলাদা একটি বন্দোবস্ত। সেটিকে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর পাশাপাশি একটি অতিরিক্ত তহবিল বলা যেতে পারে।

তবে বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পে বরাদ্দ আরও বাড়বে বলে বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী একাধিক মঞ্চ থেকে ঘোষণা করেছেন, বিজেপির সরকার ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ বাবদ ভাতা ১,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করে দেবে। বিজেপি নেতা স্বপন দাশগুপ্ত ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সে ঘোষণা তাঁদের সঙ্কল্পপত্রে থাকতে চলেছে। ইস্তেহার কমিটির সদস্য স্বপনের কথায়, ‘‘আমি দায়িত্বের সঙ্গে বলতে পারি, যা সুবিধা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এখনও পর্যন্ত পেয়েছেন, তা তো থাকবেই। হয়তো তার বেশিও পেতে পারেন।’’ স্বপন বলেন, ‘‘বিরোধী দলনেতা ইতিমধ্যে বলেছেন, লক্ষ্মীর ভান্ডার ৩,০০০ টাকা হতে পারে। সেটা হয়তো আমাদের সঙ্কল্পপত্রেও দেখা যাবে।’’

তৃণমূল অবশ্য মনে করছে, বিজেপির এ সব ঘোষণা বা প্রতিশ্রুতিতে কাজ হবে না। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা সে দৌড়ে বিজেপির চেয়ে এগিয়ে। বিজেপি শুধু ঘোষণা করেছে। আর মমতা ইতিমধ্যেই ঘোষণার রূপায়ণ ঘটিয়ে দিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি দু’দফায় ভাতা বাড়িয়েও দিয়েছেন। ৫০০ টাকার ভাতা প্রথমে বেড়ে হয়েছিল ১,০০০টাকা। গত মাসে তা আবার বেড়ে পৌঁছে গিয়েছে ১,৫০০টাকায়। অনেকে মনে করছেন, ঘোষণা শোনা আর হাতে-গরম ফল পাওয়ার মধ্যে ফারাক রয়েছে। মমতা হাতে হাতে টাকা পৌঁছে দিয়েছেন। সেই প্রভাব বিজেপির ঘোষণায় ম্লান হবে না।

তবে তৃণমূল নিশ্চিন্ত হয়ে বসে থাকছে না। লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষদস্তিদার উন্নাও বা হাথরস কাণ্ডের কথা টেনে বলছেন, ‘‘বিজেপি শুধু ঘোষণা করলেই হবে? বিজেপিকে তো আগে প্রমাণ করতে হবে যে, তারা মহিলাদের জন্য কিছু করেছে! যে সব রাজ্যে বিজেপির সরকার চলছে, সেখানে তো মহিলারা অত্যাচারের শিকার!’’ কাকলি বলছেন, ‘‘উন্নাওয়ের ঘটনা, হাথরসের ঘটনা সকলের মনে আছে। কখনও নির্যাতিতা খুন হয়ে যান। কখনও তাঁর দেহ জোর করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। কখনও তাঁর পরিবারের উপর হামলা হয়। কখনও তাঁর পরিজনরা খুন হয়ে যান। সেই বিজেপি নারী নিরাপত্তা নিয়ে কথা বললেই পশ্চিমবঙ্গের মহিলারা বিশ্বাস করবেন, এমন ভাবার কোনও কারণ নেই।’’ তৃণমূলের অন্য নেতারা বলছেন, এনসিআরবি-র তথ্য অনুযায়ী দেশের মধ্যে কলকাতাই মেয়েদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ শহর। পাল্টা বিজেপি বলছে, এনসিআরবি-কে ঠিক মতো অপরাধের তথ্য দেয় না রাজ্য সরকার। তাই মেয়েদের উপর নির্যাতনের তথ্য এনসিআরবি-র প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হয় না।

women voters BJP AITC West Bengal Politics
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy