জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নির্ঘণ্ট অনুযায়ী ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় শুনানির পরে যাচাইয়ের শেষ দিন ছিল শনিবার। সে দিনও এই প্রক্রিয়া নিয়ে সরব হয়ে কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং সিপিএম। তৃণমূল কমিশনের বিরুদ্ধে নিয়ম লঙ্ঘনের পাশাপাশি ভোটাধিকার কাড়ার চক্রান্তের অভিযোগ করেছে। পাশাপাশি, পরিকল্পিত ভাবে বহু নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছে সিপিএম। পাল্টা বিজেপি রাজ্য পুলিশ এবং তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থার ভূমিকা নিয়েপ্রশ্ন তুলেছে।
প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে শনিবার সরকারি মঞ্চ থেকে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরব হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশপ্রিয় পার্কে ভাষা দিবসের অনুষ্ঠান মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘বাংলা আক্রান্ত। বাঙালির ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার তাড়া কেন? কেন বাঙালির সংস্কৃতি, ভাষার অমর্যাদা? কেন গায়ের জোরে বাংলার দখল নেওয়ার চেষ্টা?’’
জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা ডিইও-দের ‘ওয়টস্যাপ গ্রুপে’ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বা সিইও-র একটি নির্দেশ উল্লেখ করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমরা দেখছি, ইআরও- রা এসআইআর-এর নির্দিষ্ট পোর্টালে আর এইআরও-দের কাজের অগ্রগতি দেখতে পারছেন না।’ তাঁর দাবি, এটা আইনবিরুদ্ধ। কারণ হিসেবে অভিষেক লিখেছেন, ‘জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে বলা আছে, ভোটার তালিকা তৈরি ও সংশোধনের দায়িত্ব ইআরও-দেরই। এইআরও-রা তাঁদের সাহায্য করবেন।’ এ ছাড়াও, সুপ্রিম কোর্টের আদেশ উল্লেখ করেও তা ভঙ্গ করার অভিযোগ করেছেন তিনি। অভিষেকের হুঁশিয়ারি, ‘বাংলা-বিরোধী জমিদারদের মনে রাখা উচিত দিল্লির নির্দেশে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার কোনও চক্র আইনের কাছে বা জনতার আদালতে রেহাই পাবে না।’
এসআইআর প্রক্রিয়ায় পরিকল্পিত ভাবে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছে সিপিএম। তাদের অভিযোগ, দফায় দফায় নানা রকম নির্দেশিকা, নানা রকম সংশোধনী পদক্ষেপের পরেও যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি) নামে মানুষের হয়রানি বন্ধ হয়নি। অসঙ্গতির কোনও ব্যাখ্যা মিলছে না। সংখ্যালঘু-সহ মহিলাদের ক্ষেত্রে পদবি সংক্রান্ত সাধারণ পরিবর্তনের জন্যও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (সিইও) দেওয়া চিঠিতে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শমীক লাহিড়ীর অভিযোগ, নথি যাচাই চলার কথা ২১ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু তার অনেক আগে থেকেই কার্যত ওই প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দলের তরফে কমিশনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে, ২১ তারিখ মধ্যরাত পর্যন্ত পোর্টাল খুলে রাখা হোক। তথ্য আপলোড করার সুবিধা ফের চালু করা হোক। জমির পরচা, স্কুলের শংসাপত্র-সহ বিধিবদ্ধ নথি গ্রহণ করা হোক।
পাল্টা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এ দিন নন্দীগ্রামে অভিযোগ করেছেন, ‘‘দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়ার জেলাশাসকের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ জানাচ্ছি। দু’জনকে সাসপেন্ড করা এবং এফআইআরের দাবি জানাচ্ছি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক সব ইআরও এবং এইআরও-কে নিয়ে ভার্চুয়াল মিটিং করেছিলেন। সন্ধ্যা ৭টায় বারুইপুরের মহকুমাশাসককে ধমক দিয়েছিলেন উনি আইনের বিরুদ্ধে কাজ করতে রাজি হননি বলে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)