ভাঙড়ের পোলেরহাটে থানার সামনেই আক্রান্ত হলেন ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা। অভিযোগ, রাতে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয়েছে। গুলিও চলেছে। যদিও শওকতের গায়ে আঁচড় লাগেনি। বোমা লেগেছে তাঁর পিছনের গাড়িটিতে। সেই গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জ়েড ক্যাটেগরির নিরাপত্তা সত্ত্বেও এমন আক্রমণে ‘বিস্মিত’ বিধায়ক। আইএসএফ আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে তিনি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন।
শনিবার সন্ধ্যা থেকেই অশান্ত পোলেরহাট। তৃণমূল নেতা খইরুল ইসলাম-সহ অনেকে সন্ধ্যায় মার খেয়েছিলেন। অভিযোগ, এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাঁদের মারধর করা হয়। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতেই থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গিয়েছিলেন শওকত। ফেরার পথে তাঁর গাড়িতেও হামলা হয়। বিধায়ক বলেন, ‘‘সন্ধ্যায় পোলেরহাটের দক্ষিণ গাজিপুরে খইরুল-সহ আমাদের দলের নেতারা মিটিং করতে এসেছিলেন। বৈঠক চলাকালীন এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দিয়ে ওঁদের মারধর করা হয়। খইরুল নিজে আক্রান্ত, আরও চার জন আহত হয়েছেন। এক জন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। আমরা তাই পোলেরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করতে এসেছিলাম। থানার ৫০০ থেকে ৭০০ মিটারের মধ্যে আমার গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয়।’’
আরও পড়ুন:
ঘটনাটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শওকত আরও বলেন, ‘‘আমার গাড়ি এগিয়ে গেলেও পিছনের গাড়িতে বোমা লেগেছে। ওরা গুলিও চালায়। আমি সঙ্গে সঙ্গে থানায় ফোন করি। পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে আসে এবং সেখান থেকে দুটো তাজা বোমা উদ্ধার করে। এটা আইএসএফ আশ্রিত দুষ্কৃতীদের কাজ।’’
ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকে আক্রমণ করেছেন শওকত। বলেছেন, ‘‘নওসাদ ভন্ড পীর। তাঁর উস্কানিতেই এই আক্রমণ। ভাঙড়ের মাটিতে আমরা চোখে চোখ রেখে লড়াই করছি, আমাকে তাই খুন করতে চায়। আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি। আমার জ়েড ক্যাটেগরির নিরাপত্তা সত্ত্বেও এ ভাবে বোমা-গুলি চালানো হল। তাহলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা? এটা অত্যন্ত নিন্দাজনক ঘটনা। অবিলম্বে দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করা হোক এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। এই দাবিতে আমরা সোমবার ধিক্কার মিছিল করব। নওশাদকে গ্রেফতার করতে হবে।’’ আইএসএফের তরফে এখনও ঘটনার প্রেক্ষিতে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। এলাকার স্থানীয় নেতারা মন্তব্য করতে চাননি।
ফুরফুরা শরিফের অন্যতম পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকি শওকতের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। দাবি, এই বোমাবাজির অভিযোগ আসলে পরিকল্পিত। নিজের নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করতে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন শওকত। তিনি বলেছেন, ‘‘ভাঙড়, ক্যানিংয়ের মানুষ ভোটে শওকতকে জবাব দিয়ে দেবেন।’’