Advertisement
E-Paper

‘এর বদলা আমরা নেবই’! পাক বায়ুসেনার হামলায় ১৯ জনের মৃত্যুতে হুঁশিয়ারি আফগানিস্তানের, জরুরি বৈঠকে তালিবান প্রশাসন

ইসলামাবাদ দাবি করেছে, সীমান্ত সংলগ্ন জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়াই এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল। সেটাই করা হয়েছে। তবে আফগানিস্তান পাল্টা দাবি করেছে, বসতি এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:১৩
(বাঁ দিকে) তালিবান মুখপাত্র জবিউল্লা মুজাহিদ। শনিবার রাতে আফগানিস্তানে পাক বোমাবর্ষণ (ডান দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।

(বাঁ দিকে) তালিবান মুখপাত্র জবিউল্লা মুজাহিদ। শনিবার রাতে আফগানিস্তানে পাক বোমাবর্ষণ (ডান দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।

আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ঠিক কাজ করেনি পাকিস্তান। পাল্টা হামলার জন্য পাকিস্তানকে প্রস্তুত থাকার বার্তা দিয়ে আফগানিস্তানের হুঁশিয়ারি, ‘‘এর বদলা আমরা নেবই। সময়মতো জবাব দেওয়া হবে।’’ প্রসঙ্গত, শনিবার গভীর রাতে আফগানিস্তানের পক্তিকার বরমল জেলায় এক মাদ্রাসায় বিমান হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। সূত্রের খবর, এফ ১৬ এবং জেএফ ১৭ বিমান থেকে ওই অঞ্চলে হামলা চালানো হয়েছে।

পাকিস্তানের দাবি, জঙ্গিঘাঁটি লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে। যদিও কাবুল দাবি করেছে, বসতি এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে। তার জেরে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই হামলা আফগানিস্তান বরদাস্ত করবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সে দেশের তালিবান প্রশাসন। রবিবার তালিবান প্রশাসনের তরফে এই হামলার নিন্দা করে উপযুক্ত পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ফলে পাক-আফগান সীমান্তে নতুন করে অস্থিরতার আবহ তৈরি হতে চলেছে তা মনে করছেন অনেকেই।

তালিবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লা মুজাহিদ জানিয়েছেন, পাকিস্তান তাদের সীমা লঙ্ঘন করে আফগানিস্তানের নিরীহ নাগরিকদের উপর হামলা চালিয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘পাক সেনা আরও এক বার আফগানিস্তানের ভিতরে ঢুকে হামলা চালিয়েছে। শনিবার রাতে নাঙ্গরহার এবং পক্তিকা প্রদেশে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। এই হামলা মহিলা এবং শিশু-সহ ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাকিস্তানের সরকার এই ধরনের হামলা চালিয়ে নিজের দেশের অক্ষমতাকে ঢাকার চেষ্টা করছে।’’

তালিবান প্রশাসনের এক সূত্রের দাবি, এই হামলায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা সুনিশ্চিত করার কাজ শুরু হয়েছে। তবে এই হামলার জবাব যে সময়মতো দেওয়া হবে, তালিবান প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন বলে ওই সূত্রের দাবি। পাকিস্তানের এই হামলার পরই তালিবান প্রশাসনের কর্তারা জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক ডেকেছেন। মনে করা হচ্ছে, রণকৌশল ঠিক করতেই এই বৈঠক। তবে ওই সূত্রের দাবি, হামলার জবাব যে দেওয়া হবে সেই ইঙ্গিত দিলেও এখনই তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না তালিবান প্রশাসন। তবে এই হামলাকে ঘিরে দু’দেশের সীমান্তে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে।

তবে ইসলামাবাদ দাবি করেছে, এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল সীমান্ত সংলগ্ন জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া। আর সেটাই করা হয়েছে। পাক সেনার তরফে বিবৃতি জারি করে দাবি করা হয়েচে, আফগানিস্তানের পক্তিকা, পক্তিয়া, নঙ্গরহার এবং খোস্ত প্রদেশে হামলা চালিয়ে জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে।

তবে ইসলামাবাদ দাবি করেছে, এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল সীমান্ত সংলগ্ন জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া। আর সেটাই করা হয়েছে। পাক সেনার তরফে বিবৃতি জারি করে দাবি করা হয়েছে, আফগানিস্তানের পক্তিকা, পক্তিয়া, নঙ্গরহার এবং খোস্ত প্রদেশে হামলা চালিয়ে জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে। আরও দাবি, আফগানিস্তানের যে অঞ্চল থেকে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে তেহরিক-ই-তালিবান (পাকিস্তান) বা টিটিপি জঙ্গিগোষ্ঠী, ঠিক সেই ঠিকানাগুলিতেই হামলা চালানো হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পাকিস্তান অভিযোগ তুলছে, তাদের দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালানোর চেষ্টা করছে টিটিপি। আর তাদের প্রচ্ছন্ন মদত দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাচক্রে, এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার বন্নু জেলায় এক আত্মঘাতী হামলা হয়। সেই হামলায় পাক সেনার কনভয়কে নিশানা করা হয়েছিল। হামলায় এক সেনা আধিকারিক-সহ দু’জনের মৃত্যু হয়। এর আগে গত সোমবার বজৌর এলাকায় একটি হামলা হয়। আত্মঘাতী হামলা চালানো হয় সেনাচৌকিতে। সেই ঘটনায় ১১ জন পাক সেনা নিহত হন। এই হামলার অভিযোগ ওঠে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে।

Airstrike Afghanistan
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy