Advertisement
E-Paper

১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের চাকরিতে ১৫ বছর পূর্ণ! ব্রিটেনে পাঁচ বার প্রধানমন্ত্রী বদল হলেও ইঁদুর ধরায় অবিচল ল্যারি

০১১ সালে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। শোনা যায়, তাঁর থেকে নাকি উপহারও পেয়েছিল ল্যারি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৫
১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সেই কালো দরজার সামনে ল্যারি।

১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সেই কালো দরজার সামনে ল্যারি। ছবি: সংগৃহীত।

প্রধানমন্ত্রী এসেছেন, থেকেছেন, তার পরে চলে গিয়েছেন। কিন্তু সে থেকে গিয়েছে। ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে ১৫ বছর কাটিয়ে দিল ল্যারি। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ইঁদুর ধরার ভার তার উপরেই। সেন্ট্রাল লন্ডনে সেই কালো দরজার বাইরে রাশভারী মার্জারকে মাঝেমধ্যেই বসে থাকতে দেখা যায়। বর্তমানে ল্যারির সরকারি পদবি ‘চিফ মাউসার টু দ্য ক্যাবিনেট অফিস’। তার দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে অতিথিদের স্বাগত জানানো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন এবং অবশ্যই ইঁদুর শিকার।

জাতে ট্যাবি ল্যারির বয়স ১৯ বছর। ২০১১ সালে ব্যাটারসি ডগস অ্যান্ড ক্যাটস হোম থেকে তাকে দত্তক নিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিন ক্যামেরন এবং তাঁর স্ত্রী সামান্থা। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, ল্যারিকে নিজের বাড়িতে ‘স্বাগত জানিয়ে তিনি অভিভূত’। তাঁর আশা ছিল, অতিথিদের মন জয় করবে ল্যারি। সেই আশা অবশ্য পূরণ করেছে সে। ২০১১ সালে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। শোনা যায়, তাঁর থেকে নাকি উপহারও পেয়েছিল ল্যারি। ২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটেন সফরে এলে ল্যারি আনুষ্ঠানিক ছবি তোলার সময় হাজির হয় এবং পরে প্রেসিডেন্টের গাড়ির নিচে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সফরেও ল্যারিকে দেখা যায়।

ল্যারির সরকারি কাজ হল ইঁদুর ধরা। যদিও তাতে সে কতটা সফল, সেই নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে। ১৯২০ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে একের পর এক মার্জার এই দায়িত্ব পেয়েছে এবং পালন করেছে। রাজা অষ্টম হেনরির আমলেও ইংল্যান্ডের সরকারি দফতরে ইঁদুর ধরার জন্য বিড়াল নিয়োগের রেওয়াজ ছিল। ল্যারির আগে এই সরকারি পদে ছিল হামফ্রে। ১৯৮৯ সালে তাকে নিয়োগ করা হয়েছিল। এক দিন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের ঠিকানায় তাকে ঘুরতে দেখে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সে সময় ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মার্গারেট থ্যাচার। ১৯৯৭ সালে অবসর নেয় হামফ্রে।

তার পরে ২০১১ সালে নিযুক্ত হয় ল্যারি। ওই বছরের এপ্রিলে প্রথম শিকার ধরে সে। সেই শুরু। তার পরেই ১০ নম্বর স্ট্রিটের অন্দর কম রদবদল হয়নি— ডেভিড ক্যামেরন, টেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ় ট্রাস, ঋষি সুনক, এখন কিয়ের স্টার্মার। কম টানাপড়েনও হয়নি। ল্যারি চলেছে নিজের চালে। কখনও তাকে দেখা গিয়েছে আড়মোড়া ভাঙতে, কখনও পায়রার পিছনে দৌড়োতে।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ল্যারি আজ ব্রিটিশ ‘সফ্‌ট পাওয়ার’-এর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। তাকে কাজ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত যে কোনও প্রধানমন্ত্রীর জন্য রাজনৈতিক ভাবে ঝুঁকির হতে পারে। দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের কাছে সে স্থিতির প্রতীক।

গদিতে কে এল-কে গেল, এ সবে পাত্তাও দেয়নি সে। তার চাকরি বহালই থেকে গিয়েছে। এ বার চাকরিতে ১৫ বছর পূর্ণ করল সে। তাকে দেখে মনে আসতে পারে অ্যালফ্রেড লর্ড টেনিসনের সেই বিখ্যাত কবিতার পঙ্‌ক্তি— ‘ফর মেন মে কাম অ্যান্ড মেন মে গো,/ বাট আই গো অন ফর এভার।’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy