রাজ্য-রাজনীতির এক ‘বিরল’ দৃশ্য দেখা গেল বীরভূমে। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) শুনানিতে ভোগান্তির অভিযোগে শনিবার রামপুরহাটে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পাশাপাশি বিক্ষোভ দেখাল রাজ্য রাজনীতিতে যুযুধান দুই দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং সিপিএম। দুই দলের এমন সহাবস্থানের ছবি নিয়ে কটাক্ষ করেছে বিজেপি।
রামপুরহাট ১ ব্লক অফিসের সামনে এ দিন সিপিএম ও তৃণমূল আলাদা আলাদা করে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ শুরু করে। দু’দলের কর্মী-সমর্থকেরাই ছিলেন পাশাপাশি। সিপিএম এসআইআর-হয়রানির জন্য নির্বাচন কমিশন ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে যেমন আক্রমণ করেছে, তেমনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও দ্বিচারিতার অভিযোগে স্লোগান দেয়। তবে পাশেই হাজির তৃণমূল সমর্থকদের সঙ্গে তা নিয়ে কোনও সংঘাত বাধেনি। তৃণমূল কর্মীরা হয়রানির প্রতিবাদে কমিশন ও বিজেপিকে এক বন্ধনীতে ফেলে আক্রমণ করেন।
বাম আমলে সুচপুর হত্যাকাণ্ডের মতো নানা ঘটনায় তৃণমূল বার বার সিপিএমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। তেমনই রাজ্যে পালা বদলের পরে সিপিএমের নেতানেত্রীরা বীরভূমে তৃণমূলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ধারবাহিক গা-জোয়ারির অভিযোগ তুলেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিপিএম সক্রিয় হলে এবং তাদের ভোট বাড়লে, বিজেপির ভোট কমার সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই হয়তো কিছুটা ‘সহনশীল’ তৃণমূল।
প্রকাশ্যে অবশ্য পরস্পরকে নিশানা করা অব্যাহত রেখেছেন দু’দলের নেতারা। রামপুরহাটের বিধায়ক তথা জেলা তৃণমূলের চেয়ারপার্সন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘তৃণমূল কর্মীরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এবং বিজেপির চক্রান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। রাজ্যে পায়ের তলায় মাটি হারানো এবং যাদের কোনও বিধায়ক নেই, সে দল কী বলছে, তা নিয়ে আমাদের কর্মীরা ভাবেন না।’’ সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য সঞ্জীব মল্লিকের মন্তব্য, ‘‘আমরা পূর্বঘোষিত আন্দোলন করেছি। তৃণমূল নাটক করার জন্য আন্দোলন করেছে।তৃণমূল ও বিজেপির মানুষের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। তাই ধর্মের বিভাজন করে এ বার আর ভোট ভাগ হতে দেবে না মানুষ।’’
বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘কেন্দ্রের রাজনীতিতে তৃণমূল ও সিপিএম ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চ করে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। অথচ, সিপিএম এখানে ‘সেটিং’ নিয়ে কথা বলে! কারা ‘সেটিং’ করে তার প্রমাণ মিলল।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)