Advertisement
E-Paper

তথ্য লুকিয়ে জরিমানার মুখে বিধায়

ভোটে দাঁড়ানোর সময় সম্পত্তির খতিয়ান-সহ নিজের সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য দিতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু পাসপোর্ট ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে গোসাবার তৃণমূল বিধায়ক জয়ন্ত নস্কর তথ্য গোপন করেছেন বলে জানাচ্ছে পাসপোর্ট দফতর। সেই জন্য তাঁর পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন পাসপোর্ট আধিকারিকেরা। এতে বেজায় ক্ষিপ্ত জয়ন্তবাবু। জানিয়ে দিয়েছেন, জরিমানা দেওয়ার প্রশ্নই নেই। বরং পাল্টা উকিলের চিঠি দেবেন পাসপোর্ট অফিসকে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০১৫ ০৩:১৫

ভোটে দাঁড়ানোর সময় সম্পত্তির খতিয়ান-সহ নিজের সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য দিতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু পাসপোর্ট ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে গোসাবার তৃণমূল বিধায়ক জয়ন্ত নস্কর তথ্য গোপন করেছেন বলে জানাচ্ছে পাসপোর্ট দফতর। সেই জন্য তাঁর পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন পাসপোর্ট আধিকারিকেরা।
এতে বেজায় ক্ষিপ্ত জয়ন্তবাবু। জানিয়ে দিয়েছেন, জরিমানা দেওয়ার প্রশ্নই নেই। বরং পাল্টা উকিলের চিঠি দেবেন পাসপোর্ট অফিসকে।
রিজিওনাল পাসপোর্ট অফিসার গীতিকা শ্রীবাস্তব বলেন, ‘‘এটাই তো নিয়ম! ফর্ম ফিল-আপ করার সময় জেনে বা না-জেনে ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে জরিমানা দিতে হয়। নইলে পাসপোর্ট মিলবে না।’’
জয়ন্তবাবু জানান, বিধানসভার স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশ যাওয়ার কথা ছিল বিধায়কদের। তাই গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি পাসপোর্ট ফর্ম পূরণ করে জমা দেন। নিয়ম অনুযায়ী পাসপোর্ট দফতর তাঁর ঠিকানা যাচাই করতে বলে পুলিশকে। পুলিশের রিপোর্ট পাওয়ার পরে দেখা যায়, চার বছর আগের একটি মামলা ঝুলছে ওই বিধায়কের নামে। মামলাটি সভায় মাইক বাজানো নিয়ে। কিন্তু সেই মামলার ফয়সালা হয়নি এখনও। অভিযোগ, তাঁর নামে পুলিশের খাতায় মামলা থাকা সত্ত্বেও পাসপোর্ট ফর্ম পূরণের সময় তার উল্লেখ করেননি জয়ন্তবাবু। উল্টে ফর্মের যেখানে জানতে চাওয়া হয়, ‘আপনার নামে কোনও মামলা রয়েছে কি না’, সেখানে জয়ন্তবাবু সটান ‘না’ লিখে দিয়েছেন। পাসপোর্ট দফতরের খবর, এ ভাবে তথ্য লুকোনোর জন্যই ওই বিধায়কের জরিমানা করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত চার বছর আগে। তখন বামফ্রন্টের জমানা। গোসাবায় একটি রাজনৈতিক সভায় গিয়েছিলেন জয়ন্তবাবু। তখনও তিনি বিধায়ক নন। ওই সভায় মাইক ব্যবহারের জন্য পুলিশের অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে একটি মামলা হয়েছিল। সেই মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন জয়ন্তবাবু। তাঁর আইনজীবী শিবাশিস পট্টনায়ক জানান, ২০১১ সালের ১৬ মার্চ মামলা হয়। পরের দিন জয়ন্তবাবুর হয়ে আদালতে হাজির থেকে জামিন নেন শিবাশিসবাবু। ১৯ তারিখে চার্জশিট দিয়ে দেয় পুলিশ। শিবাশিসবাবু বলেন, ‘‘আজ পর্যন্ত সেই চার্জশিট সংক্রান্ত কোনও তথ্য আমার মক্কেলের কাছে পাঠানো হয়নি। চার বছর কেটে গিয়েছে।’’ যুক্তি দেখানো হচ্ছে, সেই মামলার কথা ভুলেই গিয়েছিলেন বিধায়ক। তাই ফেব্রুয়ারিতে পাসপোর্ট ফর্ম পূরণের সময় তার উল্লেখ করেননি।

কিন্তু আইনের ফেরে পড়ে গিয়েছেন বিধায়ক! জয়ন্তবাবুর কথায়, ‘‘আরে, মামলা যে চলছে, সেটা তো মনেই ছিল না আমার! আদালতে খুঁজেও ওই মামলা সংক্রান্ত কোনও নথি খুঁজে পাইনি।’’ তা ছাড়া তাঁকে সেই সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। উদ্যোক্তারা যদি মাইকের অনুমতি না-নেন, তাঁর কী করার থাকতে পারে— প্রশ্ন বিধায়কের।

জয়ন্তবাবুর পাসপোর্ট নিয়ে টালবাহানার সূত্রপাত তারও আগে। পুলিশ তাঁর ঠিকানা যাচাই করতে গিয়ে ওই মামলার কথা জানতে পারে। তার উল্লেখ করে পাসপোর্ট দফতরে রিপোর্ট পাঠানো হয়। কিন্তু পাসপোর্ট দফতর জয়ন্তবাবুকে জানায়, ‘‘আপনি ভারতীয় নাগরিক কি না, তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না।’’

ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন জয়ন্তবাবু। এ দিন তিনি জানান, অন্যান্য নথির সঙ্গে তাঁর দাদুর জমির দলিলের প্রতিলিপিও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল পাসপোর্ট দফতরে। তখন ভুল বুঝতে পারে পাসপোর্ট অফিস। দফতরের এক অফিসারের কথায়, ‘‘জন্মস্থান সংক্রান্ত কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ না-পেলে আমরা আবেদনকারীকে জানিয়ে দিই, ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না। জয়ন্তবাবুর ক্ষেত্রে জন্মস্থান সংক্রান্ত কোনও সমস্যা ছিল না। একটি মামলা ছিল। তবু আমাদেরই ভুলে নাগরিকত্বের প্রমাণ না-পাওয়ার কথা জানানো হয় জয়ন্তবাবুকে। তার জন্য আমরা ক্ষমাও চেয়ে নিই।’’

জয়ন্তবাবু ভাবেন, এ বার বুঝি পাসপোর্ট মিলবে। কিন্তু তখনই উঠে আসে ওই মামলার কথা। বলা হয়, আদালতের ‘নো-অবজেকশন’ সার্টিফিকেট লাগবে। শিবাশিসবাবু তা পাঠান। তাতেও লেখা আছে, জয়ন্তবাবুর নামে মামলা রয়েছে। তবে তিনি এক বছরের জন্য পাসপোর্ট পেলে আদালতের আপত্তি নেই। কিন্তু পাসপোর্ট আটকে যায় আইনে।

ফর্ম পূরণের সময় জয়ন্তবাবু ওই মামলার কথা উল্লেখই করেননি যে!

tmc mla five thousand rupees passport offic tmc mla fine jayanta naskar
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy