এক জন শহর কলকাতার। অন্য জন গ্রামীণ হাওড়ার। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ী দুই প্রার্থীর সমাজমাধ্যমের পোস্ট ঘিরে জল্পনা সদ্য প্রাক্তন শাসকদলের অন্দরেই। প্রথম জন বেলেঘাটায় জয়ী কুণাল ঘোষ। দ্বিতীয় জন উলুবেড়িয়া পূর্ব থেকে জেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
গত শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। ওই দিনই রাতে তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, বিরোধী দলনেতা করা হয়েছে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। একই সঙ্গে কালীঘাটের তরফে জানানো হয়, তৃণমূল পরিষদীয় দলের উপদলনেতা হবেন চৌরঙ্গীর বিধায়ক তথা সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ধনেখালি থেকে জেতা অসীমা পাত্র। মুখ্যসচেতক করা হয়েছে কলকাতা বন্দর থেকে জেতা ফিরহাদ হাকিমকে।
সোমবার কুণাল ফেসবুকে পোস্ট করে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শোভনদেব, অসীমা এবং ববিকে। কিন্তু সেই তালিকা থেকে বাদ পড়ে গিয়েছেন নয়না। কেন বাদ? তার কোনও ব্যাখ্যা কুণাল দেননি। তবে সেই পোস্ট নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে।
কুণালের পোস্টের খানিক ক্ষণের মধ্যেই পোস্ট করেন ঋতব্রত। তাঁর পোস্টে আবার শুভেচ্ছা জনানো হয়েছে নতুন মুখ্যমন্ত্রী এবং নতুন বিরোধী দলনেতাকে। শেষে তিনি লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদর্থক ও গঠনমূলক অধিবেশনগুলির অপেক্ষায়।’
পরিষদীয় দলের পদাধিকারীদের তালিকায় নয়নার নাম কেন, তা নিয়ে গত শনিবার থেকেই প্রশ্ন উঠছে তৃণমূলের অন্দরে। তার পরে রবিবার উত্তর কলকাতার তৃণমূল কাউন্সিলরদের একটি হোয়াটস্অ্যাপ গ্রুপে সাংসদ সুদীপের মন্তব্য নিয়েও জোড়াফুল শিবিরে জলঘোলা হয়েছিল। আর তৃণমূলের অন্দরে কুণালের সঙ্গে সুদীপ এবং নয়নার সম্পর্ক কতটা ‘মধুর’, তা সর্বজনবিদিত। সেই প্রেক্ষিতেই তাঁর এই পোস্ট তৃণমূলের অন্দরের আলোচনায় আরও বেশি জল্পনা তৈরি করেছে।
কুণাল এবং ঋতব্রতের পোস্টকে তৃণমূলের অনেকেই এক বন্ধনীতে ফেলে দেখতে চাইছেন। অনেকেরই বক্তব্য, এই দুই জেতা প্রার্থীর পোস্টেই বিবিধ ইঙ্গিত রয়েছে। সেই ইঙ্গিত আগামী দিনে কতটা প্রকট হবে, কোন দিকে ধেয়ে যাবে, তৃণমূল পরিষদীয় দলে এর কী প্রভাব পড়বে, তা স্পষ্ট হবে অধিবেশন শুরু হলে।