Advertisement
E-Paper

স্পিকার রথীন্দ্রের ঘরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু! তখনই ‘সৌজন্যমূলক’ সাক্ষাতে তৃণমূলের দুই ‘বেসুরো’ বিধায়ক ঋতব্রত এবং সন্দীপন

গত সপ্তাহে দিল্লিতে পুরনো বঙ্গভবনে ঋতব্রতের সঙ্গে হেসে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। তার পরে তৈরি হয়েছিল জল্পনা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ১৮:৫২
(ইনসেটে বাঁ দিকে) ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা (ডান দিকে)-কে ডেকে পাঠালেন স্পিকার রথীন্দ্র বসু।

(ইনসেটে বাঁ দিকে) ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা (ডান দিকে)-কে ডেকে পাঠালেন স্পিকার রথীন্দ্র বসু। — ফাইল চিত্র।

ভোটের ফলঘোষণার পরে দলীয় বৈঠকে নেতৃত্বের পদক্ষেপ নিয়ে ‘প্রশ্ন’ তুলেছিলেন দু’জন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেই দুই তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা গেলেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর সঙ্গে দেখা করতে। সেই সময় তাঁর ঘরে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও।

স্পিকারের ঘর থেকে বেরিয়ে দুই তৃণমূল বিধায়ক জানান, ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ করতেই গিয়েছিলেন স্পিকারের ঘরে। প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে দিল্লির পুরনো বঙ্গভবনে ঋতব্রতের সঙ্গে হেসে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে। কালীঘাটে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক, তার পরে সেই সাক্ষাৎ— তৈরি হয়েছিল জল্পনা। সোমবারের ঘটনা সেই জল্পনাই কিছুটা উসকে দিল বলে মনে করছেন অনেকে।

বিধানসভায় স্পিকারের ঘর থেকে বেরিয়ে ঋতব্রত বলেন, ‘‘স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেছি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও সৌজন্য বিনিময় করেছি। আমরা গঠনমূলক বিরোধিতা করব।’’ কেন হঠাৎ মঙ্গলবার সৌজন্য বিনিময় করতে গেলেন? জবাবে ঋতব্রত বলেন, ‘‘এর আগে দেখা করার সুযোগ ছিল না। যে দিন স্পিকার নির্বাচিত হলেন, সে দিন অনেক ভিড় ছিল। দেখা করার সুযোগ ছিল না। আজ শুনলাম, তিনি এসেছেন। তাই দেখা করেছি। সৌজন্য বিনিময় করেছি।’’

প্রশ্ন উঠেছে, স্পিকারের ঘরে যখন মুখ্যমন্ত্রী, তখনই কেন সেখানে গেলেন তৃণমূলের দুই ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক। এটা কি ঘটনাচক্রে, না কি জেনেবুঝেই, উঠেছে প্রশ্ন। ঋতব্রত যদিও সাফ বলেন, ‘‘আমি, সন্দীপন রোজ বিধানসভায় আসি। আমরা নির্বাচিত সদস্য।’’ এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন যদিও জানান, ‘ঘটনাচক্রেই’ সেই সময় স্পিকারের ঘরে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলাম। নতুন বিধায়ক হয়েছি। ঘটনাচক্রে, সে সময় সেখানে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সৌজন্য বিনিময় হল। একটা সময় তাঁর অধীনে রাজনীতি করতাম। দেখা হল, কথা হল। বিশেষ কিছু না।’’

গত সপ্তাহে দিল্লিতে বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ঋতব্রতের সাক্ষাতের পরেও কানাঘুষো তৈরি হয়েছিল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে সেই প্রথম দিল্লিতে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। তখন পুরনো বঙ্গভবনে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিল ঋতব্রতের। দু’জনকে হেসে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল। ঋতব্রত জানিয়েছিলেন, ‘আচমকাই’ হয়েছিল সেই সাক্ষাৎ। তার পরে আবার মঙ্গলবার বিধানসভায় স্পিকারের কক্ষে মুখ্যমন্ত্রী এবং ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক ঋতব্রতের সাক্ষাৎ হল। ঋতব্রত জানান, সেই সময়েও প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী বিধায়কদের যোগ দেওয়ার কথা বলেছিলেন শুভেন্দু। মঙ্গলবার স্পিকারের ঘরেও তা-ই বলেছেন। ঋতব্রতের কথায়, ‘‘দিল্লিতে দেখা হয়েছিল। তখন বলেছিলেন, প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা। আমি মনে করি, বিরোধিতার জায়গা আলাদা। প্রশাসনিক বৈঠকে ডাক পেলে যাওয়া উচিত।’’

তার পরেই আবার নাম না-করে নিজের দলকেই নিশানা করেন ঋতব্রত। তিনি বলেন, ‘‘১৫ বছরে হয়নি বলে সেই ভুল সংশোধন করতে সমস্যা কোথায়। বিরোধী (বাম) সাংসদ হিসাবে প্রশাসনের বৈঠকে ডাক পাইনি কখনও। পরে তৃণমূলের সাংসদ হিসাবে ডাক পেয়েছি।’’ এখানেই থামেননি তৃণমূল বিধায়ক। তিনি বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। আজ সরকার সকল বিধায়কদের প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার জন্য। তাঁরা না গেলে এলাকার উন্নয়ন হবে না। দিল্লিতে যা বলেছিলেন, আজও বললেন (মুখ্যমন্ত্রী), প্রশাসনিক বৈঠকে সকলে থাকলে তবেই উন্নয়ন হয়।’’

এর পরে প্রাক্তন সাংসদ সংসদের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘‘ডিএমকে, এডিএমকে এমনিতে সাপে-নেউলে। কিন্তু সংসদে দেখেছি, তামিলনাড়ুর বিষয়ে একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে।’’ তাঁর কথায়, ‘‘বাংলার সরকার মনে করছে, বিরোধীদের নিয়ে কাজ করবে। আজ আমরা অনেক ক্ষণ ছিলাম স্পিকারের ঘরে। স্পিকারের সঙ্গে অনেক ক্ষণ কথা বলেছি। বিরোধীকে বলতে দাও, এটাই সরকারের নীতি হওয়া উচিত।’’ তার পরেই সুর চড়িয়েছেন ঋতব্রত। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের দেশে গণতন্ত্রের শিকড় অনেক গভীরে। বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করলে ফল ভাল হয় না প্রমাণিত।’’ অনেকেই মনে করছেন, এ ক্ষেত্রে বিধায়কের নিশানায় তাঁরই নিজের দল।

কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতার ডাকা বৈঠকে সরব হয়েছিলেন ঋতব্রত, সন্দীপন এবং কুণাল। ভোটের দু’দিন আগে ময়দান ছেড়ে দেওয়া ফলতার জাহাঙ্গির খানকে সামনে রেখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুলেছিলেন ঋতব্রত এবং সন্দীপন। কুণাল দাবি করেছিলেন, মন খুলে দলে কথা বলতে দিতে হবে। পথে নামতে হবে নেতাদের। দিল্লিতে যে দিন শুভেন্দুর সঙ্গে দেখা হয় ঋতব্রতের, সে দিন কুণালকে বিসি রায় শিশু হাসপাতালে রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য নিয়োগ করা হয়। এর পরে মঙ্গলবার আবার তাঁদের বিধানসভায় সাক্ষাতের দিনে একটি হাসপাতালে রোগী কল্যাণ সমিতির আমন্ত্রিত সদস্য করা হল কুণালকে।

Suvendu Adhikari Ritabrata Banerjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy